১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:২৮

মুন্সীগঞ্জ জুড়ে বেহাল সড়ক,চন্দ্র পিষ্টের মতো শত খানাখন্দ আর ছোট-বড় গর্ত

 

শেখ মোহাম্মদ রতন,মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ জেলা জুড়ে সড়কের বেহাল দশা। চন্দ্র পিষ্টের মতো শত খানাখন্দ আর ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সড়কে সড়কে। বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে সড়ক। যানবাহন চলাচলে নিত্য ভোগান্তি দেখা দিয়েছে সড়ক গুলোতে। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে জনসাধারণ-পথচারীরা। সড়কে সড়কে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়শ: দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছেন যাত্রীরা। এরমধ্যে জেলা সদরের লাখো মানুষের রাজধানী ঢাকায় সড়ক পথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কের চিত্র ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। জেলার গজারিয়া উপজেলার প্রধান সড়ক যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আবার মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে গজারিয়া উপজেলা থেকে জেলা শহরে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক জুড়ে চন্দ্র পিষ্টের মতো শত শত খানাখন্দে ভরে গেছে। যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগের অন্ত নেই এ সড়কে।

জেলার শ্রীনগর উপজেলার ঢাকা-দোহার সড়কে খানাখন্দ আর গর্তে ভরা। গজারিয়া উপজেলা থেকে জেলা সদরে যোগায়োগের সড়ক পথটি দীর্ঘ দিন ধরেই সংস্কারের অভাবে ভুগছে। জেলার সিরাজদিখান উপজেলার একাধিক সড়কে যানবাহন চলাচল করছে ঝুকি নিয়ে। উপজেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলাতে বেশ কয়েকটি সড়কে নিত্য ভোগান্তির কবলে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। স্েরজমিনে মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়কের এমন বেহাল চিত্র ফুটে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মুক্তারপুর এলাকার ষষ্ঠ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু পেরুনোর পরই ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরী সংলগ্ন ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় রুপ সড়ক পথটি। মুক্তারপুর থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত অসংখ্য পয়েন্টে খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ সড়কে গন্তব্যে পৌছতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।

এছাড়া জেলা সদরের মুক্তারপুর সেতুর প্রান্ত সংলগ্ন চৌধুরী বাড়ি থেকে দয়াল বাজার পর্যন্ত সড়কটি বৃষ্টি হলেও হাট পানিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সংখ্যা অসংখ্য এই সড়কে।সদরের মীরকাদিম পৌরসভার অভ্যন্তরীন সড়ক গুলোর অধিকাংশই সরু। কোন কোন সড়কে যানবাহন চলাচল করতে হলে যাত্রীদের আতংকের মধ্যে থাকতে হয়। পৌরসভাটির কয়েকটি সড়কে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়ে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌছেছে।

জেলার শ্রীনগর উপজেলার ঢাকা-দোহার সড়কের চিত্র করুন। দীর্ঘদিন যাবত এ সড়কের বেহাল দশার কারনে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। উপজেলার রাঢ়ীখাল বালাশুর বাজার চৌরাস্তা, বাঘরা আল-আমিন পাকা ব্রীজ, তালুকদার বাড়িসহ দোহার পর্যন্ত সড়কে বিভিন্ন জায়গায় ছোট বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বালাশুর চৌরাস্তা এলাকার প্রায় ৩০০ ফুট এলাকা জুড়ে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় রুপ নেয়।

জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের মোল্লাকান্দি থেকে কয়রাখোলা গুডাউন বাজার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়ক বৃষ্টি হলেই কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। এতে মোল্লাকান্দি বালুরচর, মধ্য কয়রাখোলা, নতুন ভাষান চর, পুরান ভাষান চর, পূর্ব কয়রাখোলা, বালুরচর গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

আবার সিরাজদিখান উপজেলা মোড় থেকে রশুনিয়া স্কুল পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কে চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টির কারণে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দেখে মনে হয় এ যেন, ছোট পুকুর বা ডোবায় পরিনত হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে হাজারো মানুষ। জেলা সদর থেকে ঢাকা যাওয়ার এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন ছোট বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে ইজিবাইক বা রিকশা যাত্রীদের প্রতিদিনই ঝুৃকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় এ সড়কে।

একই উপজেলার বাসাইল থেকে গুয়াখোলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ২ কিলোমিটার আধাপাকা এ সড়কে গেল ২০ বছর ধরে সংস্কার করা হচ্ছে না। উপজেলার ইমামগঞ্জ-বাসাইল-গুয়াখোলা-রামকৃদী সড়কের একটি অংশ হচ্ছে এই ২ কিলোমিটার আধাপাকা তথা ইট বিছানা সড়ক। আর এ সড়কে দীর্ঘ দিনের সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অসংখ্য স্থানে ইট ধ্বসে পড়েছে। কোন কোন স্থানে ইট উধাও হয়ে সরু থেকে সরু হয়ে উঠেছে সড়কটি।

জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বালিগাঁও বাজার-আড়িয়ল বাজার সড়কে যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সড়কের মাটি ধ্বসে পড়েছে এবং খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়কে যানবাহন চলাচল করা দুরুহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারনে দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন বালিগাঁও এবং আড়িয়ল ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। স্থানীয়রা বেহাল এই সড়ক সংস্কারের জোর দাবী জানিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে তারা একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারপরও সড়কটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

একই উপজেলায় টঙ্গীবাড়ি বাজার থেকে মোকামখোলা মোড় পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সংস্কারের অভাবে এই সড়ক পথে জনসাধারনের যাতায়াতে দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে সম্প্রতি সোনারং-টঙ্গীবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝির উদ্যোগে নিজের ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে সড়কে ইট-বালু ফেলে সংস্কারের ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে।

জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকার বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দে ভরা। এতে প্রায়শ: ঘটছে দুর্ঘটনা। যাত্রীরা পড়ছেন দুর্ভোগের কবলে। দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছেন তারা। এক কথায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে উঠেছে গজারিয়া উপজেলার প্রধান সড়কটি। এ সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবীদের নিত্য ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

গত এক বছরে প্রধান এ সড়কে অন্তত ৩৬ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৮৫ জন। হাত-পা ভেঙ্গেছে অনেক যাত্রীর। কেউ কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। আবার এই সড়ক হয়ে ফুলদী নদী ও মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে গজারিয়া উপজেলা থেকে জেলা শহরে সড়ক পথে যোগাযোগের মাধ্যম চরকিশোরগঞ্জ থেকে শহরের যোগিনীঘাট এলাকা পর্যন্ত সড়ক খানাখন্দ ও অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

লৌহজং উপজেলার হলদিয়া-শিমুলিয়া বাজার কাচা সড়কের অবস্থায় ভয়াবহ আকার করেছে। বৃষ্টি হলে এ সড়কে চলাচল করা যায় না। গাওদিয়া ইউনিয়নের ঘোলতলী গাওদিয়া বাজার সড়কে পালগাঁও স্থানের অংশে পাকা সড়ক কোথাও কোথাও দেবে গেছে। কোথাও ভেঙ্গে পড়েছে। খিদিরপাড়া ইউনিয়নের মিঠুসার গ্রাম থেকে তিনরাইল সড়কে ইট বিছানার কাজ থমকে আছে দীর্ঘ দিন ধরে। মালির অংক থেকে সন্ধিসার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ ভেঙ্গে পড়েছে। এ অবস্থায় এ সড়কের কেবল মাঝ স্থান দিয়ে চলাচল করতে পারছেন যাত্রী সাধারণ। গোটা মুন্সীগঞ্জ জেলার সড়কের এমন ভয়াবহ অবস্থার দ্রুত সমাধান চায় জেলাবাসী।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/১০ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:৪৩