২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৪৫

মৌসুমের আগেই এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ

 

ডেস্ক নিউজ : বর্ষার সময় বাড়ে রোগীর সংখ্যা। তবে এবারের চিত্রটা ভিন্ন। মৌসুমের আগেই রাজধানীতে বহু লোক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এবং এ সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। মূলত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বেশি হয়ে থাকে। তবে এ বছর জানুয়ারি থেকেই কম-বেশি রোগী হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছে। এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়িতে এডিস মশার লার্ভার খোঁজ মিলেছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক অভিযানে ১৮টি বাড়ির মধ্যে ১১টিতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়।

চলতি বছরের ২৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত পাঁচটি অঞ্চলে মশকের লার্ভা শনাক্তকরণ ও ধ্বংসে অভিযান চালায় ডিএসসিসি। সংস্থাটির অঞ্চল-১-এর ধানমন্ডি, কলাবাগান, সেগুনবাগিচা এলাকায় ৪৫ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি। সংস্থাটির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, এ এলাকাগুলোর প্রতি তিন বাড়ির একটিতে আমরা মশার লার্ভা পেয়েছি। আমরা প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১৫ হাজার বাসাবাড়িতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস করেছি। দ্বিতীয় পর্যায়ে ধানমন্ডি ও কলাবাগান এলাকায় ১৭ হাজার বাসাবাড়িতে লার্ভা ধ্বংস করেছি। এ এলাকার প্রায় ৩৭ শতাংশ বাড়িতে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি মশা নিধনে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র ও টায়ারের স্বচ্ছ পানিতে মশা জন্মে। মশার এসব প্রজননস্থল নিজ দায়িত্বে বাড়ির মালিককেই ধ্বংস করতে হবে।
জানা গেছে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন রামপুরা, বনশ্রী, মেরাদিয়া, গোড়ান, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মগবাজার, ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা, ফকিরাপুল, আরামবাগ, পল্টন, মতিঝিল, কমলাপুর, মানিকনগর, বাসাবো, মুগদা, খিলগাঁও, ধোলাইখাল, কুড়িল, মীর হাজীরবাগ, শ্যামপুর, কামরাঙ্গীরচর, সূত্রাপুর, হাজারীবাগে মশার উপদ্রব বেশি। ওইসব এলাকার বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল থেকে শুরু করে চলন্ত গাড়িতেও মশার উপদ্রব বাড়ছে। কোনো উপায়েই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
মশার উপদ্রব থেকে রাজধানীর বাসিন্দাদের রক্ষায় দুই সিটি করপোরেশন প্রতিবছর মশা নিধনের জন্য বরাদ্দ রাখে। গত পাঁচ বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বরাদ্দ বেড়েছে ১৩৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ২৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, মশক নিধন বিভাগে স্প্রেম্যান রয়েছে ১৮৩ জন, ক্রু ১৫১ জন এবং সুপারভাইজার ১০ জন। মশা নিধনের জন্য ৩৮৭টি ফগার মেশিন, ৪৩৮টি হস্তচালিত মেশিন, ৩৬টি হুইল ব্যারো মেশিন, ২টি ইউএলভি মেশিন, পাঁচটি পাওয়ার স্পেয়ার এবং একটি ন্যাপসেক পাওয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৭১টি ফগার মেশিন, ৫৯টি হস্তচালিত মেশিন, আটটি হুইল ব্যারো, দুটি ইউএলভি, পাঁচটি পাওয়ার স্পেয়ার এবং একটি ন্যাপসেক পাওয়ার মেশিন নষ্ট।
জানা যায়, ডিএসসিসির পাঁচটি অঞ্চলের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে স্থানীয় কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে মশা নিধন অভিযান চলছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ২৭৮ কর্মী ও ৩১৮টি ফগার মেশিন ব্যবহার হচ্ছে। প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ লিটার ওষুধ ছিটানো হয়। এছাড়া এ বছর থেকে নতুন লার্বি সাইডিং ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে এবছর ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখে মনে হচ্ছে, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ রাজধানীবাসীর তেমন একটা কাজে আসছে না।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট সূত্রে জানা যায়, এ বছর আগস্ট মাস পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন। এরমধ্যে কেবল জুলাই ও আগস্ট মাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৩১ জন। জুলাই মাসে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন ৮৬৪ জন, আর আগস্টে ৮৬৭ জন চিকিত্সা নেন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ১১ জন রোগী মারা গেছেন। তবে বেসরকারি হিসেবে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। গত দুই-তিন বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সমপ্রতি এক প্রোগামে তিনি বলেন, বিগত দুই-তিন বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। কিন্তু তা উদ্বেগজনক নয়, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডেঙ্গু আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/৯ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/রাত ৯:৫৯