২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:০৬

ভান্ডারিয়ার কচাঁনদীতে জালে উঠছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ জেলেদের মুখে হাসির ঝিলিক

 

মামুন হোসেন,পিরোজপুর প্রতিনিধি : উপকূলীয় উপজেলা ভান্ডারিয়ার কচাঁনদীতে কয়েক দিন ধরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালী ইলিশ।ফলে কচাঁনদীর হাজারো জেলেদের মুখে এখন ফুঠে উঠছে হাসির ঝিলিক । এদিকে জেলে পল্লীগুলোতে বইছে আনন্দের বন্যা।কচাঁ নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় মাছের ঘাট, আড়ৎ, পাইকারী ও খুচরা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাক-ডাক ও দর কষাকষিতে মুখরিত হচ্ছে প্রতিদিন ইলিশের বাজার।

সরেজমিনে দেখা যায় ভান্ডারিয়া উপজেলার মাছ বাজার ও পৌর শহরের রিক্সা স্ট্যান্ডে সংলগ্ন সন্ধ্যা মাছ বাজার, চরখালী মাছঘাট, কাপালিহাট ও সেনেরহাট মাছ বাজার , তেলিখালী ও ইকড়ি মাছ বাজার সহ গ্রামিন ছোট ছোট হাট বাজারে এখন প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। সারা রাত নদীতে মাছ ধরে সকাল বেলা ঘাটগুলোতে চকচকে ইলিশ নিয়ে আসে জেলেরা।মাছ আসার সাথে সাথে হাঁকডাক দিচ্ছে ব্যাপারীরা। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ইলিশ কিনতে নিলামে ডাক উঠলে যে সর্বোচ্চ মূল্য দিতে পাড়ে সেই ওই মাছ কিনে নেয়।ক্রেতাদের অভিযোগ, বড় বড় ইলিশ লঞ্চে ও ট্রাকে করে আড়তদাররা ঢাকা, খুলনা, বরিশালে বেশী লাভের বিক্রি করে থাকেন।

ভান্ডারিয়া উপজেলার কচাঁনদীর পাড়ের মায়ের দোয়া ফিস ট্রের্ডাসের আড়ৎদার মো: মামুন মাঝী জানান, এবার মৌসুমের প্রথম দিকে তেমন একটা ইলিশ মাছ না পাওয়া গেলেও বর্তমানে ইলিশের সংখ্যা বাড়ছে। কয় দিন আগেও যেসব আড়তে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার ইলিশ বিক্রি হতো, সেখানে এখন লাখের উপরে বিক্রি হয়। মৎস্য ব্যবসায়ীরা পাইকারিভাবে এখান থেকে মাছ কিনে খুচরা বাজারে বিক্রি করে। এদিকে জেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে দেখা গেছে অন্যান্য মাছের তুলনায় ইলিশ মাছই বেশি। বিক্রেতারা সারি সারি ইলিশের পসরা সাজিয়ে বসেছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। ক্রেতারা পছন্দের ইলিশ কিনতে এক দোকান থেকে ছুটছেন অন্য দোকানে।

মূল্য সহনীয় থাকায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন তারা। ভান্ডারিয়া পৌর শহরের শিক্ষক বসির আহম্মেদ জানান, দাম একটু কমে যাওয়াতে তিনি মাছ কিনতে এসেছেন। বাজার ছাড়াও বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ভ্যান গাড়ি ও মাথায় করে অনেককেই ইলিশ বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া ফুটপাতে সাজিতে করে ইলিশ বিক্রি করছেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা। বিক্রেতারা আল আমিন জানান, ইলিশের সরবারহ বেশি থাকায় দাম একটু কম। পাইকারি বাজারে এক কেজির ওপরে ইলিশের হালি ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক কেজির নিছে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮ শ’ থেকে ১৯ শ’ টাকা হালি। আর ছোট ইলিশ এর হালি ৭ শ থেকে ৮ শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার চরখালী জেলে পল্লীর বাসিন্দা জেলে শফিউল বলেন, তারা ছোট ইঞ্জিলচালিত নৌকা করে কচাঁনদীতে ইলিশ শিকার করেন। কয় দিন আগে এমন অবস্থাও হয়েছে, ইলিশ না থাকায় ট্রলারের তেলের খরচও উঠেনি। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে ইলিশ ধরা বেড়েছে। এখন তাদের নৌকায় দৈনিক ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মাছ পাওয়া যাচ্ছে।জেলে আব্দুর রহমান জানান, নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে তবে মধ্যম সাইজের ইলিশ বেশি উঠছে। এক কেজি অথবা তারচেয়ে বড় ইলিশ খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বড় মাছের দাম একটু বেশি।

অন্যদিকে নদীতে ব্যাপক ইলিশ ধরা পড়াতে বেশ কিছু দিন ধরে বরফের ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান ভা-ারিয়া মাছ বাজারে বরফ মিলের মালিক আব্দুস ছবুর।ভান্ডারিয়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা গেীতম মন্ডল বলেন, বর্তমানে বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। মূলত পানির গভীরতার সাথে ইলিশের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে তাই সামনের দিনগুলোতে আরো ইলিশ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৯ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:০৫