১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৯:৪৩

নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী মহলের চেষ্টা   

মোঃ সালাহউদ্দিন আহম্মেদ,নরসিংদী : নরসিংদীতে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর মিছিল থামছে না। এবার চিকিৎসক ও নার্সদের হেঁয়ালিপনায় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাতে নরসিংদী সদর হাসপাতালে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের স্বপন দাস ও ফাল্গুনি দাসের প্রথম সন্তান।এ দিকে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সক্রিয় হয়ে ওঠে হাসপাতালের একটি প্রভাবশালী মহল। তাদের ব্যাপক তৎপরতার কারণে ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, শুক্রবার দুপুরে গর্ভবতী ফাল্গুনী দাসের প্রসব ব্যথা উঠলে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে নরমাল ডেলিভারির আশ্বাস দিয়ে রাত পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখে। কিন্তু রাতের দিকে যখন ব্যথা বেড়ে যায় তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নরমাল ডেলিভারির উদ্দেশ্যে তাকে অস্ত্রোপাচারের কক্ষে নিয়ে যায়। কিন্তু ওই সময় অপারেশন না করে নার্সরা এ দিক সে দিক ঘোরাঘুরি করে মোবাইল ফোনে কথা বলছিল। তাদেরকে বাইরে থেকে ডেকে আনলে পরবর্তী সময়ে তারা অপারেশন শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে তারা পরিবারের লোকজনদের জানায় নবজাতকটি মারা গেছে।
এ সময় চিকিৎসক ও নার্সদের ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা।ওই সময় স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়লে নার্সরা হাসপাতাল ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।নিহত নবজাতকের কাকা তাপস দাস বলেন, আমরা যখন বৌদিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি এর কিছুক্ষণ পর ডাক্তাররা তার আলট্রাসনোগ্রাম করায়।তখন সেই রিপোর্ট দেখে তারা আমাদের বলেছিল শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ আছে। নরমালভাবেই ডেলিভারি সম্ভব।
যদি সব কিছু তখন ঠিক থাকে তাহলে কেন আমাদের নবজাতকটি মারা গেল।তারা যখন এ দিক সে দিক ঘোরাঘুরি করে ফোন আলাপ করছিল তখন অনুরোধ করেছিলাম, একটা সিরিয়াস রোগী রেখে আপনারা ফোনে আলাপ করছেন আর যাই করেন এ দিক সে দিক যাবেন না। শুধু তাই নয় অনভিজ্ঞভাবে চাপ দেয়ার কারণে বাচ্চার মাথায়ও চোট পেয়েছে। এমনকি তারা বাচ্চার নাভি থেকে কাচিটা পর্যন্ত সরায়নি।এমন ঘটনা ঘটিয়ে তারা সবাই ছিটকে পড়েছে।
নিহত নবজাতকের দাদা ফালান দাস সাংবাদিকদের বলেন, তাদের (চিকিৎসক-নার্স) গাফিলতি আর অবহেলার কারণেই আজকে আমাদের নবজাতক শিশুটি মারা গেল। আমাদের নবজাতক শিশুটি মারা যাওয়ার পুরো দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।রাতে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাদিরুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, নরমাল ডেলিভারি ডাক্তাররা নয়, নার্সরা করে।অনেক ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারিতে জটিলতা আছে। এক হাজার নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে ৩৪ জন শিশু মারা যায়।এটা স্বাভাবিক ঘটনা। এতে করে যদি কোন শিশু মারা যায় তাহলে চিকিৎসকের কী করার আছে ?তবে রোগীকে ভেতরে রেখে ডাক্তার আর নার্সরা বাইরে ফোন আলাপ করে ও ঘোরাঘুরির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।
এ দিকে শুক্রবার রাতের ঘটনা শনিবার বিকালেও জানেন না সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আমিরুল ইসলাম শামীম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি আমাকে কেউ অবহিত করেনি। আমি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের নিকট এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইব। দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি স্বভাবসূলভ ভাবে বলেন, নবজাতকটি মৃত জন্ম হয়েছে নাকি জন্মের পর মৃত্যু হয়েছে তা না জানার আগে এই ব্যাপারে কিছু বলা যাচ্ছে না।সিভিল সার্জন ডা. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে কারও অবহেলা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে ৷
কিউএনবি/সাজু/৯ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:২৭