২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:০৩

ব্লাড প্রেসারের জটিলতা

নিউজ ডেস্ক- হৃৎপিন্ড সংকোচনের মাধ্যমে রক্ত পাম্প করে রক্তনালীর মাধ্যমে সারাদেহে রক্ত সরবরাহ করে থাকে। হৃৎপিন্ডের মাংসপেশী সংকোচন করে তার সাথে সংযুক্ত বড় বড় রক্তনালীতে রক্তের চাপ বৃদ্ধি করে। এই চাপের প্রভাবে রক্ত বড় বড় রক্তনালী থেকে শরীরের দূরবর্তী অংশে ছোট ছোট রক্তনালীতে প্রবাহিত হয়। আমরা জানি, তরল পর্দাথ অধিক চাপযুক্ত স্থান থেকে কমচাপ যুক্ত স্থানের দিকে প্রবাহিত হয়। ঠিক এভাবেই হৃৎপিন্ড থেকে চাপের প্রভাবে রক্ত প্রতি-মূহুর্তে সারাদেহে প্রবাহিত হয়ে থাকে। এ প্রক্রিয়া মাতৃগর্ভ থেকে মানুষের মৃত্যু অবধি বিরামহীনভাবে চলতে থাকে। অন্যভাবে বলতে গেলে হৃদস্পন্দন (হৃৎপিন্ডের সংকোচন) ও রক্ত প্রবাহই জীবন, যা থেমে গেলে জীবনের অবসান ঘটে বা মৃত্যু হয়।

রক্তনালী মানবদেহে এমনভাবে বিস্তৃত যা শরীরের প্রতিটি অংশে রক্ত সরবরাহ করতে সক্ষম মানে দেহের প্রতিটি কোষের পাশে কোন না কোন রক্তনালী বিদ্যমান থাকে, যার মাধমে প্রতিটি কোষ প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি আহরণ করে থাকে এবং কোষে উৎপাদিত বর্জ্য পদার্থ ও কার্বনডাই-অক্সাইড আবার রক্তনালীতে ফেরত দিয়ে থাকে, এভাবেই রক্ত সরবরাহের মাধ্যমে একটি প্রাণীর প্রতিটি অঙ্গ বেঁচে থাকে এবং তার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করে থাকে।

প্রতিটি রক্তনালী এমনভাবে তৈরী যাতে করে তার ভিতর রক্ত প্রবাহ (পরিমান) বৃদ্ধি পেলে রক্তনালী ইলাষ্টিকের মত প্রসারিত হয়ে অধিক পরিমান রক্তধারণ করতে পারে এর ফলে রক্তনালীতে চাপ বৃদ্ধি পায়। এভাবেই চাপের ফলে রক্তনালীর মধ্যে প্রতিনিয়ত রক্ত প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

উচ্চ রক্তচাপ এক ধরনের রক্তনালীর অসুস্থ্যতা যার ফলে রক্তনালী তার ইলাষ্টিসিটি বা সংকোচন ও প্রসারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ইলাষ্টিসিটির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে রক্তনালী রক্ত পাম্প প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রক্তনালীর ইলাষ্টিসিটি নষ্ট হলে রক্ত প্রবাহের জন্য হৃৎপিন্ডকে আরও অধিক চাপ প্রয়োগ করতে হয়। যার ফলে বড় বড় রক্তনালীতে রক্তচাপ বৃদ্ধিপায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে রক্তচাপের মাত্রা বেশি থাকার ফলে হৃৎপিন্ড অধিক চাপের বিপরীতে বেশি বেশি কাজ করতে করতে প্ররিশ্রান্ত হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে হার্ট ফেইলুর বা হৃৎপিন্ডের অকার্যকারিতা নামক অসুস্থ্যতার সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে হৃৎপিন্ড দেহের প্রয়োজন মাফিক রক্ত সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় এর প্রাথমিক অবস্থায় ব্যক্তির শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয় ব্যক্তির পরিশ্রম করা বা কর্মসম্পাদন করার যোগ্যতা কমতে থাকে। জোর দিয়ে কাজ করতে চাইলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, শরীর অত্যাধিক ঘেঁমে যায়, বুকে চাপ অনুভূত হয়। অসুস্থতা আরও বেশী হলে হাত-পা-মুখ ফোলে যায়, পেট ফেঁপে যায়, পেটে অত্যাধিক গ্যাস উৎপন্ন হয়ে থাকে, রোগী স্বাভাবিক চলাফেরায় অসামর্থ হয়ে পরে। কারও কারও পরিশ্রমে বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও বুক ধড়ফড়ের মত লক্ষন পরিলক্ষিত হয়।

উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক বলা হয়, কারণ উচ্চ রক্তচাপের ফলে রোগীর শরীরে কোন উপসর্গ পরিলক্ষিত হয় না বললেই চলে। তবে দীর্ঘদিন যাবৎ রক্তচাপ বেশী থাকার ফলে হৃৎপিন্ডের প্রভূত ক্ষতি সাধিত হয়। হৃৎপিন্ডের ক্ষতি সাধিত হওয়ার পরই তার উপসর্গ রোগী বুঝতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ হার্টকে ধংস করার পরই রোগীর শরীরে তার উপসর্গ দেখা দেয় এর পূর্ব পর্যন্ত যেহেতু কোন উপসর্গ দেখা দেয় না তাই রোগী উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক জীবনধারণ করতে থাকে। ঠিক এ কারণেই রক্ত চাপকে নীরব ঘাতক বলা হয়।

উচ্চ রক্তচাপ অনুরূপভাবে কিডনি ও ব্রেইনকেও ধংস করে থাকে। তাই উচ্চরক্তচাপের জটিলতা হিসাবে হার্ট, ব্রেইন ও কিডনি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানী থেকে বাঁচতে হলে প্রাথমিক অবস্থা থেকেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহকে এই ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা করুন।

কিউএনবি/নিল/৯ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং /১৫ঃ৪২