২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:২৮

বিশ্বনাথ-তপুতে পাকিস্তান বধ

 

স্পোর্টস ডেস্ক : জমাট রক্ষণ নিয়ে খেলা পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে এমন একটি গোল। এমন একটি জয়। এই গোলের বর্ণনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। এমন জয়ের মহত্ব বর্ণনা করা আরো কঠিন। তবে ১৬ হাজার দর্শক ও খেলোয়াড়দের যে উচ্ছ্বাস, সেটা উপলব্ধি করা যায়। এই জয় যে তাদের ভীষণভাবে উদ্বেলিত করেছে সেটা বোঝা যায়।

তাইতো ম্যাচ শেষ হওয়ার অনেকক্ষণ পরও গ্যালারিতে উল্লাস করছিল দর্শকরা। বাংলাদেশ বাংলাদেশ স্লোগান দিচ্ছিল তারা। কারণ জয়টা যে বহুল কাঙ্খিত, আরাধ্য। পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়টি এক প্রকার প্রতিশোধও। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে সাফে পাকিস্তানের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ৫ বছর পর সেই সেপ্টেম্বর মাসেই পাকিস্তানের বিপক্ষে এল কাঙ্খিত এক জয়। এই জয়ে ৯ বছর পর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ অনেকটা মসৃণ হয়েছে বাংলাদেশের জন্য।
 

আজকের ম্যাচের জন্য পাকিস্তান ছকটা আগেই কষে রেখেছিল। বাংলাদেশ যেহেতু স্বাগতিক দল, তাদের বিপক্ষে কোনো মতে ড্র করতে পারলে পরের ম্যাচে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ ভুটান। তাদের বিপক্ষে জিতলেই পাকিস্তানের সেমিফাইনাল নিশ্চিত। সে কারণেই জমাট রক্ষণ নিয়ে খেলে পাকিস্তান। তাদের মাঝমাঠের খেলোয়াড়রা ক্ষণে ক্ষণে সুযোগ পেলে বল নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। পাকিস্তানের খেলা দেখে স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছিল তারা জেতার জন্য খেলছে না।

তবে বাংলাদেশ জেতার জন্যই খেলেছে। সেটা তাদের আক্রমণ দেখলেই বোঝা যায়। ম্যাচে বাংলাদেশ টার্গেটে শট নিয়েছে ১২টি। পাকিস্তান নিয়েছে ৮টি। বলের দখল বাংলাদেশের কাছে ছিল ৫৯.২। পাকিস্তানের ৪০.৮। অবশ্য পাকিস্তানের কোচ দাবি করেছেন ম্যাচটি ছিল ফিফটি ফিফটি। তার দাবি আত্মঘাতি গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে তপু বর্মন দাবি করেছেন ম্যাচের ৮৫ মিনিটের মাথায় গোলটি তিনি নিজে করেছেন। তাদের পরিকল্পনাই ছিল বিশ্বনাথ ঘোষ লম্বা থ্রোতে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে বল পাঠাবে সেখান থেকে বাদশা ফ্লিক করবে আর তপু বর্মন বল পেলে ফিনিশ করবেন। সেই পরিকল্পনা মাফিকই গোলটি এসেছে।
 

শনিবার শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। নেপাল প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হারলেও পরের ম্যাচে দশজনের ভুটানের বিপক্ষে পেয়েছে বড় জয়। শেষ ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্যও পরীক্ষা। শেষ ম্যাচে পাকিস্তান জিতলে, নেপাল স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারালে তিন দলেরই পয়েন্ট দাঁড়াবে ৬। তখন সেমিফাইনালে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমীকরণ মেলানোয় মনোযোগী হতে হবে ম্যাচ কমিশনারকে। তবে টানা দুই ম্যাচ জিতে তপু বর্মন-বিশ্বনাথরা যে পরিমাণ আত্মবিশ্বাসী, তাতে এখন যেকোনো দলের বিপক্ষেই জিততে পারে বাংলাদেশ।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৪৫