২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:৫২

বিদেশি তামাক কোম্পানির বিনিয়োগ বন্ধে নীতিমালা সংশোধন জরুরি

 

ডেস্ক নিউজ : দেশে বিদেশি তামাক কোম্পানির বিনিয়োগ বন্ধ করতে নীতিমালা সংশোধন করতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানুষ মারার বিদেশি বিনিয়োগ (তামাক কোম্পানির) আরও আসবে। সম্প্রতি জাপানের একটি কোম্পানি বাংলাদেশে তামাক খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে।

দেশে বিদেশি বিনিয়োগের দরকার থাকলেও এ ধরনের ক্ষতিকারক বিনিয়োগ উৎসাহিত করা ঠিক হবে না। বুধবার তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তি এফটিসিটির আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়নের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে আমরা পিছিয়ে আছি। তামাক পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে আগামী বাজেটে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় রাজস্ব পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

বিশেষ অতিথি ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) অনারারি প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের দুর্বল অবস্থানের অন্যতম কারণ ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে সরকারের ১০ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার থাকা। তিনি বলেন, ‘বিএটিবির পরিচালনা পর্ষদের ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।

এভাবেই তামাক কোম্পানি হস্তক্ষেপ চালানোর সুযোগ পায়। বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা এফসিটিসি বাস্তবায়নে কেবল সমর্থনই করে যেতে চাই না, সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করতে চাই। এ ব্যাপারে আগের তুলনায় আমরা আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে আছি।

কারণ এফসিটিসি বাস্তবায়নের ব্যাপারে যেখানে প্রধানমন্ত্রী তার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, সেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রের কাজই হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা।’ গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক কর সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তামাক কোম্পানির অংশগ্রহণ পরিলক্ষিত হয়েছে।

বিভিন্ন সময় তামাক কোম্পানিকে নানাভাবে সুবিধা প্রদানের নজির গবেষণায় পাওয়া গেছে। এছাড়া তামাক কোম্পানির সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যেকোনো নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের সুযোগ বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কর প্রদান একটি আইনি বাধ্যবাধকতা হওয়া সত্ত্বেও এর জন্য তামাক কোম্পানিগুলোকে অনাবশ্যকভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

ফলে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তামাক কোম্পানির নির্বাহী কর্মকর্তাদের যোগাযোগ তৈরি হয়। তামাক কোম্পানি বা এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।

এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রান্টস ম্যানেজার, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) ডা. মাহফুজুর রহমান ভুঁঞা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার, ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক।

এটিএন বাংলার প্রধান প্রতিবেদক ও এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রজ্ঞার কো-অর্ডিনেটর মো. হাসান শাহরিয়ার।

 

কিউএনবি/আয়শা/৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:২৫