২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৩২

সমকামিতাকে বৈধতা দিলো ভারত

 

ডেস্কনিউজঃ ভারতে বৈধ হলো সমকামিতা। বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক রায়ে সমকামিতাকে বৈধ ঘোষণা দিয়ে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিমকোর্টের পাঁচ বিচারক। ২০১৩ সালে সেকশন ৩৭৭ ধারার অধীনে সমকামিতা অবৈধ ঘোষণা করেছিল সুপ্রিমকোর্ট। আজকের এই রায়ে আগের ঘোষণা পাল্টে দিয়েছেন পাঁচ বিচারক। এতে করে অবসান ঘটলো সমকামিতা নিয়ে ব্রিটিশ-আমলে তৈরি করা আইনের।

রায় ঘোষণার সময় পাঁচ সদস্যের বিশেষ বিচারক বেঞ্চের নেতৃত্ব দেন বিচারক দীপক মিশরা। তিনি বলেন, আমাদেরকে সকল নাগরিকের ক্ষমতায়নের জন্য কুসংস্কারকে বিদায় জানাতে হবে। পাঁচ বিচারক সর্বসম্মতভাবে সমকামিতার পক্ষে রায় দেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, কেউ তাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য থেকে পালাতে পারে না। সমাজ এখন ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য আরো উন্নত হয়েছে। বর্তমানে আমাদের অনুধ্যান বিভিন্ন ক্ষেত্র বিবেচনায় হবে। সুপ্রিমকোর্ট আরো জানায়, ব্যক্তি স্বাধীনতার প্রতি সম্মান হচ্ছে স্বাধীনতার সারমর্ম। সমকামী সম্প্রদায় সংবিধানের আওতায় সমান অধিকার প্রাপ্য।

উল্লেখ্য, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নম্বর ধারা অনুসারে, সমকামিতা অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য ছিল। ১৮৬১ সালে তৈরি এই আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর সাজার আইন ছিল। এই আইনে সাজা হওয়ার ঘটনা বিরল তবে সমকামী অধিকার আদায়ের দাবিতে কাজ করা কর্মীরা জানিয়েছেন, সমকামী হওয়ার কারণে ভারতে অনেকে হয়রানির শিকার হন।

দীর্ঘদিন ধরেই ৩৭৭ নম্বর ধারাকে বাতিল করার দাবি তুলেছে সমকামী ও অধিকার কর্মীরা। চলতি বছর সমকামিতাবিরোধী এই আইনের বিরুদ্ধে পিটিশন করেন উচ্চ-পর্যায়ের পাঁচ ব্যক্তি। তারা জানান, তারা শাস্তির শিকার হওয়ার ভয়ে আছেন।

পিটিশনাররা যুক্তি দেখান যে, ৩৭৭ ধারা সংবিধানে সন্নিবেশিত অধিকার ও নীতির বিরোধিতা করে। যেমন, আইনে সমতা ও ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ, বংশ ও জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে বৈষম্যতার শিকার হওয়া। ২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট এক রায়ে জানায়, সংবিধান কর্তৃক নিশ্চিত করা মৌলিক আইনের লঙ্ঘন করে। ৩৭৭ ধারা থেকে অপরাধকে নিমূর্ল করার পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু ২০১৩ সালে সুরেশকুমার কৌশল বনাম নাজ ফাউন্ডেশনের মামলায় সুপ্রিমকোর্ট এই রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়। সূত্র : এনডিটিভি

 

কিউএনবি/বিপুল/৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:৩৭