২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:৩৪

চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের শতশত একর জমি বেদখল হচ্ছে দুই তীরে চলছে পাকাঘর নির্মাণ ও চাষ-আবাদ

 

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় কপোতাক্ষ নদের ভিতর পিলার করে নির্মাণ করা হচ্ছে আলীসান বাড়ী, মিল-কলকারখানা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। নদের দুইতীরের শতশত একর জমি ভূমি দস্যূরা দখল করে নিচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

কপোতাক্ষ নদ বাঁচাও আন্দোলনের যশোর জেলা কমিটির আহবায়ক হাফিজুর রহমান বলেন নদের দুইতীর ব্যাপক হারে দখল করায় এটি একটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর ভৈরব নদ থেকে কপোতাক্ষ নদের উৎপত্তি। সেই উৎপত্তি স্থলে এ নদকে মাছ চাষ করার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার ফলে নদটি ধীরে ধীরে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন গত ১২/০২/২০১৮ ইং তারিখে নদটি দখলমুক্ত করার দাবীতে আমরা যশোরে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছি।

যশোর প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশও করেছি। আমাদের এ দাবী আদায়ের খবরটি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলীক দৈনিকে প্রকাশিত হয়। যার ফলে বি আই ডব্লু টি এ এর পক্ষথেকে একটি তদন্ত টিম পরিদর্শনে এসেছিলেন। তাদের মতে তাহেরপুর এলাকায় নদটির কিছু অংশ দখল করে স্থানীয় লোকজন মাছচাষ করছেন।নদ বাঁচাও আন্দোলনের চৌগাছা উপজেলা কমিটির আহবায়ক মাষ্টার আব্দুল জলিল বলেন কপোতাক্ষ নদটির জেগে ওঠা জমি দখল নিয়েছে এলাকার প্রভাবশালী ভূমিদস্যূরা।

অনেকে ইতিমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নগদ নারায়নে তুষ্ট করে নজর বন্দি কাগজপ্রত্রাদি তৈরী করে কপোতাক্ষ নদের দুইতীরের হাজার হাজার একর জমি দখলে নিয়েছেন। ইতমধ্যে নদের তলদেশে পলি পড়ে উঁচু হয়ে নব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে না পারায় নদের উপকূলিয় চৌগাছা-ঝিকরগাছার ১৭টি ইউনিয়নের ১’শ ২টি গ্রামের ৫০ হাজার বসতবাড়ী ৯০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩’শ ৮০ কি.মি. পাকা-কাঁচা রাস্তা প্ল¬াবিত হয়। এতে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই ৪ লাখেরও বেশী মানুষ পানি বন্দি হয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

নদ গবেষক কপোতাক্ষ গেজেট পত্রিকার সম্পাদক এম মুজাহিদ আলী বলেন প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি হওয়া এ নদ মহান আল¬াহর বিরাট নিয়ামত। চৌগাছা-ঝিকরগাছার ২২ টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভার প্রায় ৬ লাখ মানুষের মিষ্টি পানি সরবরাহ করত কপোতাক্ষ নদ। মধুকবির স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদের পুকুর, গাছ লাগনো ও চাষাবাদ করার পাশাপাশি গড়ে তুলছেন আলীসান বাড়ী, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও মিল-কলকারখানা। চৌগাছা পৌর সভার প্রাণ কেন্দ্র বাবুখাট এলাকায় নিমাই হালদারের ছেলে তুষার হালদার নদের ভীতর পাকা পিলার দিয়ে নির্মাণ করেছেন আলীসান বাড়ী।

এ ব্যাপারে তুষার হালদার বলেন পৌর সভার সার্ভেয়ার থেকে মেপে দিয়েছেন আমি নদীর ভিতরে আরো ৪ হাত জমি পাবো।চৌগাছা সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সমাজ কর্মী জাফর ইকবল লিটন বলেন কপোতাক্ষ নদের প্রশস্ততায় এক সময় জোয়ার-ভাটা আসলেও বর্তমানে এটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। ভূমি দস্যূদের দাপটে সাধারণ মানুষের নদে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।নদ দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে চৌগাছা সদর/পৌর ভূমিসহকারী কর্মকর্তা এম এ মজিদ তালুকদার বলেন নদী দখদ হচ্ছে কিনা সেটি দেখার দায়িত্ব আমাদের নয়। যাদের দেখার জন্য সরকার বেতন দেয় তারই দেখেনিক।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ২:৩৫