২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৪২

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

 

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে এবার আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে আখের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার জমিগুলো আখ চাষের উপযোগী হওয়ায় অন্যান্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশী তাই দিন দিন কৃষকরা আখ চাষের দিকে ঝুকছে।
গত কয়েক বছর যাবত আখের দাম ভালো পাওয়ায় এ বছর আখ চাষের ব্যাপকতা দেখা গেছে।

উপজেলার আবিরপাড়া, দক্ষিণ তাজপুর, রশুনিয়া, হিরনের খিলগাঁও, ইছাপুরা, মধ্যপাড়া, শেখরনগর, রাজানগর, মালখানগরে আখ চাষীরা আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে এসেছে আখ চাষে। এ বছর সময় মতো বৃষ্টি ভালো হওয়ায় আখ মিষ্টি -রসালো ও মোটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আখ চাষীরা।

উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তাজপুর গ্রামের কৃষক মো. মিলন বলেন, তিন বছর যাবত আখ চাষ করে আসছি। গত বছর ফলন ভালো হওয়াতে এইবার তেরো গন্ডা জমিতে আখ চাষ করেছি এবং আখ চাষে আমার প্রতি গন্ডায় খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা। প্রতিবারই কিছুটা লাভ হয়। তবে গতবারের চেয়ে এইবার আখের চাষ বেশি হলেও পাইকার কম।

গতবছর একশত আখ বিক্রি করেছি আট শত থেকে এক হাজার টাকা করে। কিন্তু এবার ছয়শত বা সাতশত করে বিক্রি করতে হচ্ছে। আলুর উত্তোলনের পর-পরেই আখের চাষ করেছি।

বিগত ৪ থেকে ৫ বছর যাবত কেরানীগঞ্জ, জাজিরা থেকে আসা পাইকার মো. করিম ভান্ডারি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আখ পাইকারিদের ক্রয় করে ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন। তিনি আরো জানান ১ শত আখ আমরা এখান থেকে ৬ থেকে ৭ শত টাকায় কিনে নিয়ে ঢাকায় বিক্রি করি ১১ থেকে ১২শত টাকায়। সপ্তাহে দুই বার প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার আখ ক্রয় করে নিয়ে যাই। তিনি আরো জানান যে সিরাজদিখান থেকে আখ ক্রয় করে ঢাকায় নিয়ে সমস্ত খরচ বাদ দিয়েও তিনি একশত আখে প্রায় দুইশত টাকা লাভ করেন।
সরেজমিনে জানা যায়, সিরাজদিখানে তিন ধরনের আখ বেশি হয় কাজলা পাশত, সাতাইশ ও অমিতাভ। পাশত, সাতাইশ আখটি পাবলিকে কামড়িয়ে খায় এবং এ জাতের আখ দিয়ে চিনি তৈরী করা হয়ে থাকে। আর অমিতাভ জাতের আখের রস মেশিনে রস বানিয়ে বিক্রি করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় এবার সিরাজদিখানে আখ চাষির সংখ্যা বেড়েছে। আগে পোকা-মাকরের কারণে কিছুটা লোকসান হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আখ চাষ করে সাফল্য পাচ্ছেন এখানকার কৃষকেরা।

এ প্রসঙ্গে সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, আগে কৃষকেরা ভুল পদ্ধতিতে আখ চাষ করতেন, তাই পোকার আক্রমণে তারা লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। বর্তমানে আমাদের পরামর্শে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদ করে লাভের মুখ দেখছেন তারা।

 

 

কিউএনবি/রেশমা/৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:৩৭