১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:৫০

শৌলপাড়ায় স্কুল ছাত্রকে তুলে নিয় নির্যাতন

 

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধ : শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়ায় শফিকুল ইসলাম (১৬) নামে এক স্কুল ছাত্রকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজ্জাক খলিফার বিরুদ্ধে।৫ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ৭টার সময় শৌলপাড়া বাজার থেকে তুলে নিয়ে ওই ছাত্রকে নির্যাতন করাহয়।

স্থানীয়রা আহত শফিকুলকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।সংবাদ পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে শৌলপাড়া বাজার প্রদক্ষিণ শেষে নির্যাতনকারী রাজ্জাক খলিফার বড়িতে হামলা চালায়।পরে শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরের শহীদ মিনানে সমাবেশ করে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আহত শফিকুল ইসলাম চর-গয়ঘর গ্রামের রিপন বেপারীর পুত্র ও শৌলপাড়া মনর খান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্র। বুধবার সকাল ৭টার দিকে রাসেল স্যারের কাছে ইংরেজী প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশে রওয়ানা হয় শফিকুল।

শৌলপাড়া বাজারে পৌঁছা মাত্রই রাজ্জাক খলিফা ও রিপন চোকিদার স্কুল ছাত্র শফিকুলকে জোরপূর্বক মোটরবাইকে তুলে নেয়।স্থানীয় ইসমাইল চোকিদারের বাড়ির পূর্ববাশে নিয়ে পূর্বে থেকে অপেক্ষারত আরও ৮/৯ জন লোকের সহায়তায় স্কুল ছাত্র শফিকুলকে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে।

ভিকটিম শফিকুল ইসলাম জানায়, রাসেল স্যারের কাছে ইংরেজী বিষয় প্রাইভেট পড়ার জন্য স্কুলের দিকে যাচ্ছিলাম।শৌলপাড়া বাজারে যাওয়ামাত্রই রাজ্জাক খলিফা জোরকরে একটা মোটরবাইকের মাঝে বসিয়ে চৌকিদার কান্দির দিকে নিয়ে যায়।সেখানে ৮/১০ জন লোকে আমাকে নির্মাম ভাবে মারধর করে।পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

রিপন বেপারী জানায়, আমার চাচাতো ভাইদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে স্কুলে যাওয়ার সময় আমার ছেলে শফিকুলকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে রাজ্জাক খলিফা, সিরাজ খলিফা, শাহজাহান খলিফা লোকজন নিয়ে নির্মম ভাবে নির্যাতন করেছে।তাদের সাথে আমার কোন দ্বন্দ্ব ছিল না। আমি নির্যাতনকারীদের বিচার চাই।

শৌলপাড়া ইউপি. ৯ নং ওয়ার্ডে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ শোহেল জানায়, সে রাস্তা দিয়ে কলের লাঙ্গল চালিয়ে যাচ্ছিল।তখন রাজ্জাক খলিফা ও রিপন চৌকিদার একটা মোটর সাইকেলের মাঝে বসিয়ে শফিকুল ইসলামকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষন পরে শুনতে পাই শফিকুলকে নির্মাম ভাবে মারধর করেছে।

শৌলপাড়া মনর খান উচ্চ বিদ্যালয়ের বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহীদ মিনার চত্বর থেকে জানায়, আমাদের বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী শফিকুলকে সন্ত্রাসী কায়দায় অপহরণ করে নির্যাতন করেছে সন্ত্রাসীরা।আমরা তাদের চিহ্নিত করতে পেরেছি। আমরা তাদের বাড়িঘর ঘেরাও করে রাখি।স্থানীয় মুরব্বিরা আশ্বস্ত করেছে আগামী শনিবারের মধ্যে বিচার দেখবে।

আমরা মুরব্বিদের সম্মান দেখিয়ে ফিরে এসেছি।শনিবারের মধ্যে বিচার না দেখলে আমরাই আইন হাতে তুলে নিব।আমাদের সহপাঠির উপর নির্যাতনের বিচার আমরাই করবো।বড়দের দ্বন্দ্বের সাথে যেন শিক্ষার্থীদের নিয়ে টানাহেচরা না করা হয়।তাহলে উচিৎ শিক্ষা দিয়ে দিব।

অভিযুক্ত রাজ্জাক খলিফা জানায়, আমরা মোটর সাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলাম। শফিকুল ইচ্ছা করেই বলে আমাকে নিয়ে চলেন।আমরা শফিকুলকে নিয়ে যাচ্ছিলাম।পথিমধ্যে শফিকুল মোটর সাইকেল থেকে লাফ দেয়।তখন ব্যাথা পেয়েছে।আমরাও পড়ে আহত হই।আমরা কোন চিকিৎসা নেইনি।পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এমন ঘটনা আমার জানা নাই।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:০৫