২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১:৩৪

ঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল নদীতে

ডেস্ক নিউজ : যে কোনো সময় নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পদ্মা নদীর স্রোতের তোড়ে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বন্ধ রয়েছে চিকিৎসাসেবা। এলাকায় নেই কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ। অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালের মালামাল। ছোট হচ্ছে নড়িয়ার মানচিত্র। অব্যাহত রয়েছে পদ্মার ভাঙন। দিশাহারা হয়ে পড়েছে ভাঙনকবলিতরা। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মুলফত্গঞ্জ বাজারটি পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েছে। সোমবার ও গতকাল ভাঙনে বাজারের ১৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। সাত দিনের ভাঙনে ৩০০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হলো। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে ২০০ বছরের পুরনো এ বাজারের আরও ১ হাজার ৩০০ প্রতিষ্ঠান। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পাশের কেদারপুর ও পূর্ব নড়িয়া গ্রামের দেড় হাজার পরিবার। সোমবার ও গতকাল ওই দুটি গ্রামের ৩৫০টি পরিবার তাদের বসতঘর সরিয়ে নিয়েছে। ভাঙনের কারণে এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নুর হোসেন দেওয়ানের বাড়ির পাশেই ২০০ বছরের পুরনো বাজার। বাজারে একটি তিন তলা বিপণিবিতান রয়েছে তার। ওই ভবনের আয়েই সংসার চলত। সোমবার ওই ভবনটি পদ্মায় ধসে পড়ে। ঘটনাটি মুলফত্গঞ্জ বাজারের। এ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নুর হোসেন দেওয়ানের ভবনটি ৫টার সময় নদীতে ধসে পড়ে। পাশের আরেকটি তিন তলা ভবনে তার বেসরকারি ক্লিনিক ছিল। সেই ভবনটির কিছু অংশ ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছুই অবশিষ্ট রইল না। আল্লাহ জানেন আমাদের ভাগ্যে কী আছে।’

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলা সদরের পাশে কেদারপুর ইউনিয়নে মুলফত্গঞ্জ বাজারটি গড়ে ওঠে ২০০ বছর আগে। নড়িয়ার সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ায় ওখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। বাজারে রয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। রয়েছে দেড় হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাজারকে কেন্দ্র করে অন্তত ১০ হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। গত বছর বাজার থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বে ছিল নদী। এ বছর জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহয় ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে নদী বাজারের কাছে চলে এসেছে। সোমবার সকালে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভাঙনে ১৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ২৫টি ওষুধের দোকান বিলীন হয়েছে। দুটি বেসরকারি ক্লিনিক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত সাত দিনে বাজারের ৩০০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়েছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। রবিবার রাতে কেদারপুর গ্রামের ২০০ মিটার এলাকা হঠাৎ ধসে পড়ে। রাতে ওই এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে কেদারপুর ও পূর্ব নড়িয়া গ্রামের মানুষ তাদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। সোমবার দুটি গ্রামের অন্তত ২০০ পরিবার তাদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। মুলফত্গঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, ‘বসতবাড়ি, ফসলি জমির পর আজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে। নিঃস্ব হয়ে গেলাম। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। সন্তানদের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারলাম না।’ নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াছমিন বলেন, ‘ভাঙনের কারণে মুলফত্গঞ্জ বাজারে ব্যবসায়ীরা বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছেন। বাজারের প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বাজারটির ওপর এলাকার অন্তত ১০ হাজার পরিবার নির্ভরশীল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।

কিউএনবি/অনিমা/৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৪৯