১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:০৩

দেশে বিচারাধীন মামলা সাড়ে ৩৪ লাখ

 

ডেস্ক নিউজ : সারা দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে ৩৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫৩টিতে গিয়ে ঠেকেছে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। আদালতগুলোয় মামলার স্তূপ জমে গেলেও সে হারে বাড়েনি বিচারক। দেশের অধস্তন আদালতে এখন বিচারক সংখ্যা মাত্র এক হাজার ৭০০। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৩৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০।

এরপর ছয় মাসে বেড়েছে ৯৮ হাজার ৮৫৩টি। মামলার ভারে জর্জরিত আদালতে প্রতিদিনই জমা হচ্ছে নতুন নতুন মামলা।আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আইনি পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর লেগে যায়। রায় যখন পাওয়া যায়, তখন আর প্রাসঙ্গিকতা থাকে না। ফলে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি জোরদার করা দরকার। সর্বোচ্চ এক বা দু’দিন মুলতবি করে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

২০১৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৩৩ লাখ ৯৬ হাজার উল্লেখ করে সম্প্রতি সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মামলাজট কমাতে নানা উদ্যোগের কথা বলেন। তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনতে বিচারক সংখ্যা বাড়ানো ও এজলাস সংকট নিরসনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সরকারের বিশেষ উদ্যোগে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।

আদালতের বাইরে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এ পদ্ধতিতে মামলাজট কমিয়ে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে আইনও সংশোধন করা হয়েছে। তবে কাক্সিক্ষত সুফল এখনও পাইনি। আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর লাগছে। রায় যখন মেলে, তখন প্রাসঙ্গিকতাই থাকে না। তিনি বলেন, মামলাজট কমাতে হলে সর্বোচ্চ এক বা দু’দিন মুলতবি করে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।

বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনও সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেছেন, বিচারাধীন ৩৪ লাখ মামলার বিপরীতে আমাদের বিচারক রয়েছেন মাত্র এক হাজার ৬৪৭ জন। পার্শ্ববর্তী ভারতে তিন কোটি মামলা বিচারাধীন, সেখানে বিচারক সংখ্যা ২৩ হাজার। তুলনামূলকভাবে বিচারাধীন মামলার বিপরীতে আমাদের বিচারক সংখ্যাও অপ্রতুল।

বাংলাদেশে ১০ লাখ লোকের বিপরীতে বিচারক ১০ জন। আমেরিকায় ১০ লাখে বিচারক ১০৭ জন, কানাডায় ৭৫ জন, ইংল্যান্ডে ৫১ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ৪১ জন এবং ভারতে ১৮ জন। তিনি বলেন, ভারতে একজন বিচারকের বিপরীতে এক হাজার ৩৫০টি মামলা বিচারাধীন এবং একজন বিচারক বছরে ৫১৬টি মামলা নিষ্পত্তি করছেন।

বাংলাদেশে একজন বিচারকের বিপরীতে দুই হাজার ১২৫টি মামলা রয়েছে। গত বছরের পরিসংখ্যান বলছে, আমাদের একজন বিচারক বছরে নিষ্পত্তি করছেন ৭০০ মামলা। জানা যায়, বিচারক স্বল্পতার কারণে গত এক যুগে কেবল ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলা বেড়েছে চারগুণেরও বেশি, কিন্তু সেভাবে বিচারক বাড়েনি। সুপ্রিমকোর্টের অবস্থাও একই। বর্তমানে আপিল বিভাগে চার এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৯৮ জন বিচারপতি রয়েছেন।

১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন অবসরে যাচ্ছেন। তাকে বিদায় সংবর্ধনাও দেয়া হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের উভয় বিভাগে প্রায় পাঁচ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি প্রযুক্তি নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, আদালতের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আদালতগুলোয় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করা হলেও আমাদের আদালতগুলো চলছে সেকেলের পদ্ধতিতে।

সুপ্রিমকোর্টপ্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, দেশের সব আদালতে (সুপ্রিমকোর্টসহ) বর্তমানে বিচারাধীন মামলা ৩৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫৩টি। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৪টি, ফৌজদারি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৫টি এবং অন্যান্য মামলা ৮৮ হাজার ৮৩৪টি। এর মধ্যে জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫টি। আর হাইকোর্ট বিভাগে চার লাখ ৯৫ হাজার ৪১৫টি এবং আপিল বিভাগে ১৯ হাজার ৪৯৩টি।

মামলাজট কমাতে পর্যাপ্ত বিচারক ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের তাগিদ দিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, দেশে মামলাজটের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে বিচার ব্যবস্থায় অর্থ বরাদ্দের অপ্রতুলতা। তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৬শ’ বিচারক দিয়ে একটি ভালো বিচার ব্যবস্থা অসম্ভব।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৩৪