২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:২২

তিন বছরেও পল্লী বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে না দক্ষিন তারাবুনিয়াবাসী

 

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নবাসী টাকা দেয়ার তিন বছরেও পল্লী বিদ্যুৎ সুবিধা পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ জালাল মাল স্থানীয় কতিপয় মেম্বার ও সমাজপতিদের সহায়তায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিদ্যুতের নামে টাকা তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউনিয়নের মোহাব্বত মোল্যার কান্দি ও দুদু মিয়া কেপারীর কান্দি গ্রামের ৩১৪ জন গ্রাহক (এক বছরের মধ্যে) গত ১৭ আগষ্ট পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ পেয়েছে। অথচ ইউনিয়নের মতিখার কান্দি, খলিল মালের কান্দি ও আফা মোল্যার বাজার এলাকার প্রায় হাজার গ্রাহক টাকা দেয়ার ৩ বছরেও পল্লী বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে না। বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের নজরে আসলে সরেজমিন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। এ সংবাদ পেয়ে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও স্থানীয় পরিচালক তরিঘরি করে সরেজমিন গিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শাহ জালাল মালসহ স্থানীদের নিয়ে বৈঠক করে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা ও স্থানীয় পরিচালক জনসাধারন ও গ্রাহকদের মাঝে প্রচার করে বেড়াচ্ছে যে, “দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নে ১০ কিলো মিটার বিদ্যুৎ লাইন চালু করতে গ্রাহক মোটিভেশন করছেন তারা।

স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক হাজী জয়নাল আবেদীন মুন্সী, মিনাজল মুন্সী, ইকবাল বেপারী, আশরাফ আলী পেদা, আবুল কাশেম হাওলাদারসহ শতাধিক এলাকাবাসী জানায়, তিন বছরের অধিককাল ধরে সাবেক চেয়ারম্যান শাহজালাল মালের নির্দেশে জহির ইসলাম হাওলাদার বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে প্রতেক গ্রাহকের কাছ হইতে ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত তোলে। মওদুদ ও আল আমিন নামে দুইজন ওয়ারিং মিস্ত্রী দিয়ে ঘর ওয়্যারিং করায়। সেভাবেই তিন বছর যাবত পরে আছে গ্রাহকদের টাকা। পাশ্ববর্তী মোহাব্বত মোল্যার কান্দি ও দুদু মিয়া বেপারীর কান্দি গ্রামে এক বছর পূর্বে বিদ্যুতের জন্য ১২০০ টাকা করে তুলে এক মাস পূর্বে বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে। একই ইউনিয়নে বসবাস করে মতিখার কান্দি, খলিল মালের কান্দি ও আফা মোল্যার বাজার এলাকার গ্রাহকগণ ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এর রহস্য আমরা জানতে চাই।

গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায়কারী জহির ইসালাম হাওলাদার জানায়, সাবেক চেয়ারম্যান শাহ জালাল মালের নির্দেশে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা তুলেছে। টাকা তোলার সাথে চেয়ারম্যানের ভাই ও ভাতিজা সম্পৃক্ত ছিল। কিছু টাকা ওয়ারিং মিস্ত্রীদের দিয়েছে। অবশিষ্ট টাকা সাবেক চেয়ারম্যান শাহ জালাল মালের কাছে দিয়েছে।

এ বিষয়ে শাহ জালাল মাল বলেন, এ সকল এলাকা বিদ্যুতের আওতায় আনতে আমার অনেক টাকা ব্যায় হয়েছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে উঠানো টাকা থেকে আমি ৫০ হাজার টাকা নিয়েছি। আমি আরো টাকা পাব। স্থানীয় ইউপি মেম্বার রুহুল আমিন মাল জানায়, গ্রাহক ৩ বছরের অধিক সময় ধরে টাকা দিয়েও বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। তাই স্থানীয়দের অনুরোধে নতুন করে আমি দায়িত্ব গ্রহন করেছি। অফিসের সাথে আলাপ করে গ্রাহককে বিদ্যুৎ পাইয়ে দিতে চেষ্টা করব।সমাজপতি সেলিম মাল জানায়, ৩ বছর পূর্বে বিদ্যুৎ অফিসের লোক এসে জানায় খলিল মালের কান্দি এলাকায় আড়াই কিলো মিটার বিদ্যুৎ দিবে। আমি তাদের সাথে থেকে এলাকা নির্ধারণ করে দেই। বিদ্যুতের কথা বলে এলাকা থেকে টাকা তুলেছে এমন তথ্য আমার জানা নাই।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সখিপুর এলাকার পরিচালক টিউলিজ রহমান কলি বলেন, জমির মালিক একজন আর দোকান ঘর নির্মাণ করে ব্যবসা করছে অন্যজন। সে ক্ষেত্রে এলাকায় একটা অন্তরদ্বন্দ্ব ছিল। তাই প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে জমির পর্চাসহ প্রয়োজনীয় কাগজ জমা করার জন্য বলা হয়েছে। যে সকল ঘর ওয়্যারিং করা সম্পন্ন হয়েছে তারা ১০ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে। যে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ইলিক্ট্রিক মালামাল আনা হয়েছে তার কাছে বকেয়া ছিল তাই সে মালামার সরবরাহ করেনি। এটাও বিলম্বের একটা কারণ।

শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দয়িত্বপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঈদুল আযহার ২ দিন পূর্বে জানতে পারি দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নের মতিখার কান্দি, খলিল মালের কান্দি ও আফা মোল্যার বাজার এলাকার প্রায় আটশত গ্রাহক ৩ বছরেও পল্লী বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে না। ঈদের ছুটির পর প্রথমেই ওই এলাকা পরিদর্শণ করি। কারন চিহ্নিত করা গেছে। ওই এলাকার লোকজন তেমর কিছু বুঝেনা। নেতার উপর ভরসা করে। নেতায় যা করে সেটাই মেনে নেয়। এখন থেকে তারা নেতার উপর ভরসা করবে না। সরাসরি অফিসের সাথে যোগাযোগ করবে। প্রায় ২শত ঘরের ওয়্যারিং সম্পন্ন হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। অবশিষ্ট ৬শত ঘরের ওয়্যারিং ও পর্চা দাখিলের এর জন্য ১৫ দিন সময় বেধে দেয়া হয়েছে।

 

 

 

কিউএনবি/রেশমা/৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:৩৩