২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৩৫

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে ভোলার ডাব

 

ডেস্ক নিউজ: : ভোলার ডাব স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন যাচ্ছে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায়। ভোলায় প্রতিমাসে ১৫ থেকে ১৭ লাখ টাকার ডাব কেনাবেচা হচ্ছে। প্রতিমাসে অন্তত ১৪ লাখ টাকার ডাব যাচ্ছে ভোলার বাইরে।

এ তথ্য ভোলার ডাব ব্যবসায়ীদের। জেলায় ছোট বড় প্রায় ৫০ জন ডাব ব্যবসায়ী এখন এ ব্যবসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

তবে  জেলার কোথাও বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হয় না। বসত বাড়ির আঙ্গিনা, পতিত জমি, উঁচু জমি, ঘেরের পাড়সহ বিভিন্ন জমিতে লাগানো গাছ থেকে উৎপাদিত ডাবই স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

ভোলা জেলার ডাব ব্যবসায়ী মোঃ তরিক এই ব্যবসা করেন ১২ বছর যাবত। তিনি জানান, সামান্য পুঁজি নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। তখন এলাকা থেকে তিনি নিজে ডাব কিনে পাইকারদের কাছে বিক্রয় করতেন। দিনে দিনে ব্যবসায়ের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন তিনি প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩টি ট্রাকে করে ডাব ঢাকা, চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন বড় বড় জেলায় পাঠান। তাতে প্রতি ট্রাকে ৬০-৬৫ হাজার টাকার ডাব পাঠান তিনি। এতে একটি ট্রাকে ভাড়া বাবদ খরচ যায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। প্রতিটি ডাব ঢাকা পাঠাতে খরচ হয় ৭ থেকে ৮ টাকা।

তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায়, গ্রামে তাদের ৩৫-৪০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আছে। এরা প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকাতে ঘুরে ঘুরে ডাব সংগ্রহ করে নিয়ে আসে।

জানা যায়, গাছ থেকে সংগ্রহ করা ডাব তিনটি গ্রেডে ভাগ করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্থানীয়দের কাছ থেকে আকার ভেদে এই ডাব ক্রয় করেন ১০ টাকা ১৩ টাকা ও ১৫ টাকা করে। স্থানীয় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে সেই ডাব তারা বিক্রি করেন ২০ থেকে ২৫টাকা করে। বড় ব্যবসায়ীরা এই ডাব ঢাকাসহ বড় শহরে নিয়ে পাইকারি বিক্রি করেন প্রতিটি ২৮ থেকে ৩৫ টাকা করে। রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় তা বিক্রি হয় প্রতিটি ৫০টাকা ৫৫ টাকা কিংবা ৬০ টাকা করে।

ভোলা শহরের ডাব বিক্রেতা হাবিব জানান, তার মত প্রতিটি বিক্রেতা দিনে ৮০ থেকে ১২০টি পর্যন্ত ডাব বিক্রয় করেন। প্রতিটি ডাব ২৫ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করেন তারা। ভোলা শহরে ৫০ জন ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতা দিনে অন্তত ৩ হাজার ডাব স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করেন। ভোলা জেলায় বিভিন্ন হাটে-বাজারে এরকম অন্তত শতাধিক ডাব বিক্রেতা রয়েছে। যারা প্রতিদিন ডাব বিক্রি করেই সংসার চালায়।

গাছের মালিক মো: জোবায়ের মিয়া জানান, পূর্ব থেকে ভোলা জেলায় প্রচুর নারিকেল গাছ রয়েছে। এই জেলায় নারিকেলের ফলন খুব ভালো।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রায় ২০০ নারিকেল গাছ রয়েছে, যা থেকে প্রতি মাসেই আমি ডাব বিক্রি করি। ডাব ব্যবসায়ীদেরকে আমার খুঁজে আনতে হয় না। গাছের ডাব বিক্রয়ের উপযোগী হলে তারা নিজেরা এসে তা খুব যত্ন সহকারে গাছ থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। আগে দুটি নারিকেল বিক্রয় করে পেতাম ২০ থেকে ২২ টাকা আর এখন দুটি ডাব বিক্রয় করে পাচ্ছি ৩০ থেকে ৩২ টাকা। এখন ডাব বিক্রিতেই আমি বেশি লাভবান।

ডাব ব্যবসায়ীরা জানান, ভোলা থেকে বিভিন্ন জেলার সাথে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো থাকলে, লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সিন্ডিকেট বন্ধ হলে এবং ভোলা ইলিশা রুটের ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হলে এই ডাব এর ব্যবসা আরো জমজমাট হয়ে উঠতো।

ডাবের উপকারিতা সম্পর্কে ভোলা প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও হোমিও কলেজের অধ্যক্ষ মো: হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ডাবে প্রচুর পটাসিয়াম থাকে এছাড়া ডাবের পানির গুনাগুণ অনেক। ডাব মানুষের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। শিশুসহ সকল মানুষের পরিমানমত ডাবের পানি পান করা উচিত।

কিউএনবি/অনিমা/৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:৩৬