১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:১৮

খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট

 

ডেস্ক নিউজ : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নাইকো দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট বা হাজতি পরোয়ানা  ইস্যুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার পুরান ঢাকার বকশিবাজারের আদালতে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল কবীরের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারক আগামী ১১ অক্টোবর মামলাটিতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি ও অভিযোগ গঠনের  শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে সোমবার মামলাটিতে প্রাক্তন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পক্ষে অভিযোগ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তিনি এ দিন সময়ের আবেদন করেন। আর মামলার প্রধান আসামি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া অন্য একটি মামলায় কারাগারে আছেন জানিয়ে তার উপস্থিতির জন্য সময় আবেদন করেন আইনজীবীরা। এ সময় দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ বিষয়ে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক মামলার আগামী ধার্য তারিখে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করতে প্রোডাশকন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) ইস্যুর আদেশ দেন।

এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবা, জিয়া উদ্দিন জিয়া, হান্নান ভূঁইয়া, হেলাল উদ্দিন, প্রমুখ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। আর হান্নান ভূঁইয়া এসব তথ্য জানান।

মামলাটিতে ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম), জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, বাপেক্সের প্রাক্তন সচিব মো. শফিউর রহমান এবং প্রাক্তন সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইনের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ শুনানি করে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছেন। আর খালেদা জিয়াসহ পাঁচ আসামির পক্ষে অভিযোগ শুনানি হয়নি।

প্রসঙ্গত, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডার কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগে মামলাটি করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুদক। মামলাটি তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলাটিতে খালেদা জিয়া ছাড়াও আরো ১০ জন আসামি রয়েছেন। মামলার অপর আসামিরা হলেন- চার দলীয় জোট সরকারের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, প্রাক্তন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, প্রাক্তন সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের প্রাক্তন সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া (সিলভার সেলিম) এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। আসামিদের মধ্যে গত ৫ মে শফিউল রহমান মারা যান।

কিউএনবি/রেশমা/৩রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:৪৩