২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:২৩

স্ট্রাইকার নিয়ে ভাবনা নেই জেমির

 

স্পোর্টস ডেস্ক : জেমি ডের সাফের দল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কারো মতে, অভিজ্ঞ-তরুণদের মিশেলে সঠিক দলটাই বেছে নিয়েছেন তিনি। কেউ বলছেন, শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ফাঁকফোকর থেকেই গেল এই স্কোয়াডে। সেই ম্যাচে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরও মিডফিল্ডার সোহেল রানা, ফয়সাল মাহমুদ, সাখাওয়াত রনির দলে টিকে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন। সেদিন শেষ দিকে নেমে আক্রমণে গতি আনা জাফর ইকবালের বাদ পড়াটাও মানতে পারছেন না অনেকে।

তবে এশিয়াডে খেলা মূল একাদশটা অপরিবর্তিত থাকায় বিকল্প খেলোয়াড় নিয়ে এই বিতর্ক জোরালো নয় তেমন। জাকার্তায় শুরুর একাদশে না থাকলেও নিয়মিতই বদলি নামা আব্দুল্লাহর চোট পাওয়াটা অনাকাঙ্ক্ষিত। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাজে খেলেও সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে তাই জায়গা হয়ে গেছে সোহেলের। সেই ম্যাচে ফুলব্যাক হিসেবে দিশাহীন ফুটবল খেলা ফয়সাল স্কোয়াডে এশিয়াডের নিয়মিত রাইটব্যাক বিশ্বনাথের ব্যাকআপ হিসেবে। এর বাইরে তেমন বিকল্পও নেই জেমির হাতে। স্ট্রাইকার পজিশনে রনি, নাবিব নেওয়াজ, মতিন মিয়া থেকে একজনকে বাছতেই হতো জেমি ডে’কে। রনি, নাবিবের একই রকম গোল মিসের (কু) খ্যাতি। মতিন চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে প্রচুর গোল করেছেন, প্রিমিয়ারে উঠে মাঝমাঠ থেকে একাই কাটিয়ে অসাধারণ এক গোল উপহার দিলেও সেভাবে নিয়মিত আর জাল খুঁজে পাননি। অভিজ্ঞতায়ও কিছুটা পিছিয়ে তিনি রনি, নাবিবের চেয়ে। কোচ শেষ পর্যন্ত রনিকেই বেছে নিয়েছেন। বাঁ উইংয়ে জাফরের সুযোগ হতেই পারত। কিন্তু তিনি গত ১২ সপ্তাহের অনুশীলনে সম্ভাবনা দেখেছেন রবিউল ইসলামের মধ্যে, ‘জাফর, মতিন দলে থাকতেই পারত। তবে আমি আমার চোখে সেরা খেলোয়াড়দেরই বেছে নিয়েছি। রবিউলের সামর্থ্য আছে ভালো কিছু করে দেখানোর।

সামনে আমাদের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আছে, সেখানে নিশ্চয় জাফরদের আরেকটি সুযোগ থাকবে।’ এশিয়াডে উইঙ্গার কাম স্ট্রাইকার হিসেবে খেলিয়েছেন তিনি মাহবুবুর রহমান ও সাদ উদ্দিনকে। আরেক উইংয়ে বিপলু আহমেদ প্রথম পছন্দ। তাঁদের বিকল্প হিসেবে জাফরের বদলেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি রবিউলকে। কাল শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁকেও বিসর্জন দিতে হয়েছে। জেমি শুরুতে দুজন গোলরক্ষক রাখলেও সাফের নিয়ম মেনে পরে তিনজন করেছেন, তাতেই আউটফিল্ডের একজন হিসেবে রবিউলকে তিনি ছেঁটে ফেলেছেন।

প্রকৃত নাম্বার নাইনের অভাব নিয়েও চিন্তিত নন জেমি, ‘বাংলাদেশে স্ট্রাইকারের সমস্যা আগে থেকেই। দুই মাসেই আমি নতুন কাউকে তৈরি করতে পারব না। এই দলে সুফিল, সাদদের মতো বেশ কিছু তরুণ আছে, যারা গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। কাতারের বিপক্ষে জামাল গোল করেছে। আমরা জানি ফাহাদ, জনিরও সেই সামর্থ্য আছে। আর সেট পিসগুলোতে আমরা নজর দেব, সে ক্ষেত্রে ডিফেন্ডারদেরও দায়িত্ব আছে।’

জেমির ৪-২-৩-১ ফরমেশনে জাকার্তায় হোল্ডিং মিডফিল্ড পজিশনে জামাল ও আতিকুর রহমান ফাহাদ ও আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড হিসেবে খেলেছেন মাশুক মিয়া জনি। সাফে মামুনুল ইসলাম তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলবেন নিশ্চিত। ব্যাক লাইনে তপু বর্মণ ও টুটুল হোসেন বাদশাহর প্রতিদ্বন্দ্বী যেমন অভিজ্ঞ নাসিরউদ্দিন চৌধুরী। লেফটব্যাকে সুশান্ত ত্রিপুরাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন ওয়ালি ফয়সাল। সিনিয়রদের নিয়ে জেমির ভাবনা ইতিবাচক, ‘সিনিয়র খেলোয়াড়দের দলে চাই, কারণ অভিজ্ঞতা দিয়ে তরুণদের তারা পথ দেখাবে।’

সাফের চ্যালেঞ্জটা ভিন্ন হলেও কোচের শক্তি যে এশিয়াডের পারফরম্যান্সই, তা জানাতেও তিনি দ্বিধা করেননি, ‘সাফের অন্য দলগুলো নিয়ে খুব বেশি আমার জানা নেই।বেশির ভাগ দলই আমাদের চেয়ে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে। তবে এশিয়াডে দেখিয়েছি র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষেও আমরা ভালো করতে পারি। সেটাই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে এই আসরে।’

আনুষ্ঠানিকভাবে দল ঘোষণা না করলেও ২০ জনের সঙ্গে দুজন স্ট্যান্ডবাই রেখে গত পরশু রাতেই তিনি বাকি খেলোয়াড়দের বিদায় বলেছেন। কাল নির্বাচিতদের নিয়ে প্রথম দিনের অনুশীলনও করেছেন তিনি। এরপরই তিন গোলরক্ষক নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। সাফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ২০ জনের দলেও তিন গোলরক্ষক থাকতে হবে। জেমি শেষ পর্যন্ত রবিউলের বদলে গোলরক্ষক আনিসুর রহমানকে স্কোয়াডে ডেকেছেন আশরাফুল ইসলাম রানা ও শহীদুল আলমের সঙ্গে।

কিউএনবি/রেশমা/৩রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সকাল ৯:৩৫