১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:২৭

লালমনিরহাটে খরায় পুড়ছে আমন ক্ষেত

 

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকের হাজার হাজার হেক্টর আমন ক্ষেত পানি শুন্যতায় পড়েছে।কৃষকের এ সব অধিকাংশ আমন ক্ষেত পানির জন্য খা খা করছে।বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ক্ষেত গুলো ফেটে চৌচির হচ্ছে।কোনো কোনো জায়গায় প্রচন্ড খরায় পুড়ে যাচ্ছে ধান গাছ।

এ অবস্থায় কৃষকরা বাড়তি টাকা খরচ করে শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎ চালিত সেচের উপর ভরসা করেই ফসল বাচানোর অবিরাম্ চেষ্টা চালাচ্ছেন।তার পরেও এ জেলার কৃষকরা আাকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির অপেক্ষা করছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল এ আমন আবাদে বৃষ্টির পানি অপরিহার্য।এ অবস্থায় বৃষ্টি না হলে ফসলে পোকার আক্রমন ও রোগ বালাই দেখা দিয়ে উৎপাদনে ভাটা পড়বে।জেলার আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ী গ্রামের কৃষক আফসার আলী (৫৫) জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় খরায় তার দুই বিঘা জমির আমন ক্ষেত পুড়ে যাচ্ছে।জমিতে পানি না থাকায় ও বৃষ্টি না হওয়ায় এ অবস্থায় তিনি আমনের উৎপাদন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহন্দ্রনগর ইউনিয়নের চিনি পাড়া গ্রামের কৃষক মোতালেব হোসেন (৫০) জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে সেচ পাম্পের পানি দিয়ে আমন চাষ করছেন।আমন চারা রোপনের পর থেকেই বোরো চাষের মতো সেচের মাধ্যমে আমন ক্ষেতে ধানের গাছের গোড়ায় সেচের মাধ্যমে পানি দিতে হচ্ছে।কিন্তু এরপরেও তিনি ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় সময় পার করছেন।

কৃষক দিলদার হোসেনের মতে, সেচের মাধ্যমে আমন ক্ষেতে ধান গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া হলেও ধান গাছের কান্ডে অর্থাৎ ধান গাছের উপরে বৃষ্টির পানি না পড়লে ধান গাছের কান্ডে বিভিন্ন রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমনে ফসলের উৎপাদন মাারাত্বক বিপর্যস্ত হবে।

আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক গফুর মোল্লা জানান, আমার মোট ৭ বিঘা জমি।এর মধ্যে প্রায় সমস্ত জমিতেই আমি বরাবর আমন ধান চাষ করে আসছি।এবারও আমন ধানের চারা রোপন করেছিলাম।কিন্তু এখানে এখন পর্যন্ত কোস প্রকার বৃষ্টি পাত না হওয়ায় আমার সমস্ত জমির আমন ধানের চারা পুড়ে যায়।তাই আমি আমার জমি গুলোতে ধানের চারা গুলো তুলে ফেলে সব গুলো জমিতেই বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করেছি।আমার মতো এই এলাকার আরও অনেক কৃষক এই ক্ষতির মুখে পড়েছে।

হাতিবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান জানান, কি বলবো ভাই।আমার মাত্র কুড়ি শতক জমি।এর পরেও আমি অন্যের কাছে আরও আড়াই বিঘা জমি বর্গা নিয়ে এনজিও’র নিকট লোন নিয়ে আমি আমন ধান চাষ করেছি।কিন্তু অনাবৃষ্টিতে আমার জমির সব চারা পুড়ে গেছে। এখন আমি চোখে অন্ধকার দেখছি।কি ভাবে কি করবো।কি ভাবে এনজিও’র লোন পরিশোধ করবো।

আমার শ্যালো মেশিন কেনার মতো টাকা পয়সা নেই যে, সেচ মেশিন দিয়ে পানি তুলে ধান চাষ করবো।উল্লেখ্য, লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর খামারবাড়ির সুত্রমতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলা- পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলায় এবার ৮৪ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়।

এরমধ্যে আগষ্ট মাস পর্যন্ত লক্ষমাত্রার ৩৭ হাজার হেকটর জমিতে আমন চাষ অর্জিত হয়েছে।বৃষ্টির পানির অভাবে লক্ষমাত্রার এসব জমির অধিকাংশই শ্যালো মেশিন, বৈদ্যতিক সেচ বা লো লিপ্ট পাম্পের (এলএলপি) মাধ্যমে চাষ করা হয়।চারা রোপন পরবর্তী সময় পর্যন্ত লালমনিরহাটে আমন ক্ষেতের জন্য কাঙ্খিত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এখানে বিরাজ করছে খরা।এ খরায় হাজার হাজার চাষি বোরো চাষের মতো আমন ক্ষেতে সেচ মেশিনের মাধ্যমে পানি দিয়েও আমন ফসল উৎপাদন ব্যহত হওয়ার দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে সময় পার করছেন।

আদিতমারী উপজেলা কৃষি অফিসার আলীনূর রহমান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে এবার বৃষ্টি নেই বললেই চলে।তাই এবার আমন চাষে ব্যাঘাত ঘটছে।অনেক চাষিই তাদের ফসল ক্ষেতে আমন ধান চাষ না করে বিভিন্ন সবজি চাষ করছে।তাই এই আমন মৌসুমে আমন চাষের লক্ষমাত্রায় পৌছানো সম্ভব হয় নাই।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা শ্রী বিধূ ভূষন রায় জানান, এমনিতেই লালমনিরহাট একটি মঙ্গা কবলিত জেলা।তার উপর এখানে এবার কোন বৃষ্টিই নেই।এ যেন মরার উপর খরার ঘা।বৃষ্টি না হওয়ায় এখানকার কৃষকরা বাড়তি টাকা খরচ করে শ্যালো মেশিন ও বিদ্যুৎ চালিত সেচের উপর ভরসা করেই ফসল বাচানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ অবস্থায় বৃষ্টি না হলে ফসলে পোকার আক্রমন ও রোগ বালাই দেখা দিয়ে উৎপাদনে ভাটা পড়বে।বৃষ্টি না হওয়ায় আমন ক্ষেত গুলো ফেটে চৌচির হচ্ছে।আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি কোন প্রকার বৃষ্টিপাত না হয় তাহলে এই জেলায় এবার আমন চাষে মারাত্বক ক্ষতির মধ্যে পড়বে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:০৮