২২শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:০২

শরীয়তপুরে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকির অনুষ্ঠানে যুবলীগের হামলা বিএনপি’র সভাপতিসহ নেতাকর্মী ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ

 

খোরশেদ আলম বাবুল,শরীয়তপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে জেলা বিএনপির যুগ্নসাধারন সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু, পৌর বিএনপির সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সরকারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।

এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি আলাহাজ্ব শফিকুর রহমান কিরন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহমেদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ আসলামসহ ৩ শতাধিক নেতাকর্মী ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ৩ঘন্টা পর পুলিশের সহায়তায় বিএনপি নেতাকর্মীরা সভাস্থল থেকে বের হওয়ার সময় পূনরায় হামলার চেস্টা চালায় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সংগছনের লোকজন।
এর পর বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা কারীরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটায় বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের। তবে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দাবী তাদের মিছিলে বিএনপি নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। এ ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পালং মডেল থানা, আহত মাহবুব মোর্শেদ টিপু ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, পূর্ব নির্ধারিত সময়ে শনিবার সকাল অনুমান ১০টায় বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সরদার নাসির উদ্দিন কালুর ধানুকা বাস ভবনের সামনের চত্বরে আলোচনা সভার কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষের দিকে বেলা অনুমান সাড়ে ১২টার সময় জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে কতিপয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে এসে বিএনপির অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্নসাধারন সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম নয়ন সরকার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মাহবুব আলম খায়ের, জেলা জাসাসের সহ-সভাপতি নিপা আকতারসহ অন্তত ২৫ জন বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মী আহত হয়।

একই ঘটনায় জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাদবর, শরীয়তপুর পৌরসভা ছাত্রলীগের আহবায়ক প্রকাশ বন্দুকছি, রিয়াদ মাল, জয় মোল্যা, সবুজ মাদবর আহত হয়েছে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রাইভেট ক্লিনিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গুরুতর আহত বিএনপি নেতা নয়ন সরকারসহ কয়েকজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংবাদ পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান কিরন ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহমেদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ আসলাম সহ বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ প্রায় ৩ শতাধিক নেতাকর্মী সভাস্থলে প্রায় ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকেন।
পরে বেলা অনুমান ৩টায় জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরন ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ আহমেদ অসলাম সহ নেতাকর্মী পুলিশের সহায়তায় সভাস্থল থেকে বের হয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে চেষ্টা করলে আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পুনরায় ধাওয়া করে । এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা নাসির উদ্দিন কালুর বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে কতিপয় আওয়ামী যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পর পর কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে করে বলে অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বেলা অনুমান সাড়ে ৩টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহম্মেদ আসলাম সহ নেতাকর্মীরা পুলিশের সহায়তায় বের হয়ে নিরাপদে চলে যায়। এ ঘটনায় শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আহত জাহাঙ্গীর মাদবর বলেন, আমরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মিছিল করে যাচ্ছিলাম। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা যুবলীগের মিছিলে হামলা করে। আমিসহ কমপক্ষে ৫/৬ জন আহত হয়।
জেলা বিএনপির যুগ্নসাধারন সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টেপু বলেন, জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান চলাকালে বেলা অনুমান সাড়ে ১২টায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল করে তাদের দলীয় শ্লোগান দিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে হামলা করে। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আমাদের অনুষ্ঠান পরিচালনার চেষ্টা করি। হামলার ঘটনায় বিএনপি ওঅঙ্গসংগঠনের ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামীগের নেতাকর্মীরা ককটেলের বিস্ফোরন ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে।
জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আমাদের পূর্ব নির্ধারিত ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা করে কমপক্ষে ২৫ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছে। আমি ৩ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে পুলিশের সহায়তায় নেতাকর্মীদের নিয়ে কোন রকমে এলাকা ত্যাগ করি।

পালং মডেল থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মিছিলে কিছু সংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মী হামলা করে। এ নিয়ে উভয় গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। এতে ৫/৭জন আহত হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি সহ অন্যান্য নেতাকর্মীতের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে এখনো কোন মামলা হয়নি।

কিউএনবি/রেশমা/২রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/দুপুর ১২:৫৯