২১শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:২৩

মিয়ানমারে আটকা পড়া ‘ভুতুড়ে জাহাজটি’ চট্টগ্রামে আনা হচ্ছিল

ডেস্ক নিউজ: মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন উপকূলের কাছে ভাসতে থাকা সেই ভুতুড়ে জাহাজটি ভাঙার জন্য চট্টগ্রামে আনা হচ্ছিল। দুইদিন ধরে আটকা পড়া ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি নিয়ে তদন্তের পর মিয়ানমারের পুলিশ এ তথ্য জানায়।

মারতাবান উপসাগরে নিয়ন্ত্রণহীণভাবে ভাসতে থাকা ‘স্যাম রাতুলাংগি পিবি ১৬০০’ সেই ভুতুড়ে জাহাজ নিয়ে দেশটিতে আলোচনা চলছিল বেশ।

প্রথমবারের মতো মিয়ানমার উপকূলে এই ধরণের কোনও জাহাজ আটকা পড়ার ঘটনায় দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

দুই দিন ধরে তদন্তের পর শনিবার মিয়ানমারের পুলিশ আরও জানিয়েছে, এক সময় কন্টেইনারবাহী জাহাজটি ইন্দোনেশিয়ার। ২০০১ সালে তৈরি জাহাজটি সম্প্রতি অকেজো বলে ঘোষিত হওয়ার পর সেটি ভাঙার জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো। এটির ওজন ২৬ হাজার ৫০০ টন। বর্তমানে জাহাজটি মিয়ানমারের নৌবাহিনীর কব্জায় রয়েছে। তারা জানিয়েছে, অধিকতর তদন্ত চলছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালের দিকে স্থানীয় জেলেরা উপকূল থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে জাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ভাসতে দেখে।  বিস্মিত এবং শঙ্কিত জেলেদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সেখানে যায় মিয়ানমার নৌ-বাহিনী।  তারা জাহাজটিতে উঠে দেখে সেটিতে কোনো নাবিক বা ক্রু নেই। বিশাল জাহাজটিতে কোনো পণ্যও নেই।

অন্য একটি জাহাজ এটিকে তার দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে ঝড়ের ভেতর পড়ে দুটো তারই ছিড়ে গেলে কন্টেইনার জাহাজটি পাইলট জাহাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

মিয়ানমার নৌবাহিনী তাদের রাডারের রেকর্ড ঘেঁটে দুটি জাহাজ দেখতে পায়। পরে বিস্তর অনুসন্ধানের পর উপকূল থেকে ৮০ কিলোমিটার দুরের সমুদ্রে পাইলট জাহাজটিকে খুঁজে পায়। এই জাহাজটিও দেশটির নৌ-বাহিনীর কব্জায় রয়েছে।

মিয়ানমার নৌবাহিনী তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে ‘ইন্ডিপেন্ডেন্স’ নামে ইন্দোনেশীয় ওই পাইলট জাহাজটিতে ১৩ জন ক্রু ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই ভূতুড়ে জাহাজটির রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।

কিউএনবি/অনিমা/২রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সকাল ১১:৫১