২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:০২

কাগজের বদলে এলো কনটেইনার ভরা বালু

 

ডেস্ক নিউজ : চট্টগ্রাম বন্দরে আসা একটি কনটেইনার খুলে কাগজের বদলে বালু পেলেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। ‘এ ফোর সাইজের কাগজ’ আমদানির ঘোষণা দিয়ে চীন থেকে ওই বালু এনেছে ঢাকার একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনারটি আটক করা হয়। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত বালু এনে বিপুল অঙ্কের টাকা পাচার করেছে আমদানিকারক।

চট্টগ্রাম কাস্টমস গোয়েন্দা দলের প্রধান ও ডেপুটি কমিশনার নুর উদ্দিন মিলন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কনটেইনার খুলে ঘোষণা অনুযায়ী কাগজ না পাওয়ায় টাকা পাচার করা হয়েছে। এখন সেটি পাচার নাকি প্রতারণা, তা নিশ্চিত হতে একটি কমিটি গঠিত হবে। তারাই সেই রহস্য উদ্ঘাটন করবে। পাশাপাশি বালুর সঙ্গে কোনো খনিজ পদার্থ আছে কি না, তাও ল্যাবে পরীক্ষা করে যাচাই করবে কমিটি।’

কাস্টমস জানায়, ‘১৭ বনানী, ঢাকা’ ঠিকানার প্রগ্রেস ইমপেক্স লিমিটেড চীন থেকে ‘হ্যাপি বি’ নামের জাহাজে করে এক কনটেইনার এ ফোর সাইজের কাগজ আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। এ জন্য ঢাকার ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ১৫ হাজার ৪৪০ মার্কিন ডলারের ঋণপত্র খোলে প্রতিষ্ঠানটি। জাহাজটি গত ১৮ আগস্ট কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভেড়ে। কনটেইনারটি বন্দর থেকে ছাড় করতে আমদানিকারকের নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের এসএজেড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল গত ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে চালানের বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়। এ জন্য আট লাখ টাকার মতো শুল্ক-কর পরিশোধ করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। এর আগে খবর পেয়ে চালানটির ছাড় আটকে দেয় কাস্টমসের এআইআর শাখা।

গতকাল কাস্টমসের এআইআর শাখা ও আনস্টাফিং শাখার কর্মকর্তারা কনটেইনারটি খুলে কায়িক পরীক্ষা বা গণনা কার্যক্রম চালান। পরীক্ষায় ঘোষণা অনুযায়ী কোনো ‘এ ফোর সাইজের কাগজ’ মেলেনি। এর বিপরীতে পাওয়া যায় মাটি মেশানো বালুর বস্তা।

আমদানিকারক প্রগ্রেস ইমপেক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ এম আকবর (বদিউল আলম) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৩ লাখ টাকা পণ্যের দাম, সাথে আট লাখ টাকা ট্যাক্স দিয়েছি। সামান্য এ টাকার জন্য আমি মানি লন্ডারিং কেন করব? পরিবার নিয়ে বিদেশ গেলেও এই পরিমাণ টাকা সাথে নেওয়া যায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি চীনের সরবরাহকারীকে বিষয়টি অবহিত করেছি; কিন্তু তারা অস্বীকার করছে। কাগজ আমদানির প্রথম চালান ট্রেডিং করতে গিয়েই প্রতারণার শিকার হলাম।’

এর আগে ২০১৫ সালে তেলের ড্রামে কোকেন ধরা পড়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। এ চালানেও বালুর মধ্যে কোনো খনিজ পদার্থ আছে কি না জানতে একটি কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। কমিটি ল্যাব টেস্ট করে প্রতিবেদন দেবে।

২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্লাস্টিক দানা ঘোষণা দিয়ে চার কনটেইনারে বালুর বস্তা এনেছিল ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আরএসডি এন্টারপ্রাইজ। পণ্য চালানের ঘোষিত মূল্য ছিল ৭০ হাজার ৩৮০ ডলার। আর শুল্ক পরিশোধ করা হয়েছিল ১৯ লাখ টাকা। তখনো আমদানিকারক বিদেশি সরবরাহকারীর ওপর দায় চাপিয়েছিল।

এর আগে ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর বিপি শিটের বদলে ২২ কনটেইনার বালু এনেছিল ঢাকার ইমামগঞ্জ বাজার লেনের আরেক আমদানিকারক সিএটি ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল। এসব চালানের ঘোষিত মূল্য ছিল আড়াই লাখ মার্কিন ডলার।

২০১৫ সালে সয়াবিন তেল আমদানির ঘোষণা দিয়ে ৩২০টি ড্রামে করে পানি এনেছিল ঢাকার আমদানিকারক রোজা ফুডস।

এ ধরনের চালান ধরা পড়লে প্রতিবারই আমদানিকারক নিজের দায় এড়াতে বিদেশি সরবরাহকারীর ওপর দোষ চাপায় অথবা আমদানিকারকের ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হয়।

কিউএনবি/রেশমা/২রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সকাল ৮:৫৯