১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৯:২১

‘শিল্পকর্মের মাধ্যমে জাতীয় সংস্কৃতি ফুটিয়ে তুলতে হবে’

 

ডেস্ক নিউজ : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বাঙালি জাতির যে কোন অর্জনে প্রেরণা হিসেবে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অসামান্য অবদান রয়েছে। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের পথ ধরে, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে এই দেশের শিল্পী সমাজ বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে আসছেন। শিল্পকর্মের মাধ্যমে জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টি ফুটিয়ে তুলতে হবে।  

শনিবার বেলা ৩টায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাট্যশালা মিলায়তনে  মাসব্যাপী ‘১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৮’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিল্পী তার নিজস্ব চেতনা, পারিপার্শ্বিকতা তথা স্থান-কাল-পাত্রকে ধারণ করে তা ফুটিয়ে তোলেন তার শিল্পকর্মে। তাই দেশ-কাল-সংস্কৃতি ভেদে শিল্পীর স্বরূপ ও কর্মকাণ্ড ভিন্নতর হতে পারে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে শিল্পের নান্দনিকতা ও আবেদন সীমাহীন ও চিরন্তন। প্রতিটি শিল্পকর্মে ফুটে উঠে শিল্পীর নিজস্ব চিন্তা-চেতনার পাশাপাশি জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টি। তাই শিল্পকর্ম ও শৈল্পিক ভাবনা ব্যক্তি শিল্পীর হলেও তার সৃষ্টিশীল কর্মের ব্যপ্তি সর্বত্র এবং তা সর্বজনীন।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তি-সংগ্রামসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ দেশের শিল্পী সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জাতির যেকোনো প্রয়োজনে বা সংকটকালীন মুহূর্তে সংস্কৃতিকর্মীরা সবসময় সাহসী ভূমিকা পালন করেছে।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৮তম এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৮ এর পর্যবেক্ষক অধ্যাপক এমিরেটাস তেতসুইয়া নোদা। জুরি বোর্ডের সভাপতি শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ পুরস্কার প্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেছেন।

সংস্কৃতি সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রদর্শনীর পর্যবেক্ষক টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক তেতসুইয়া নোদা, জুরি বোর্ডের সভাপতি শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী।

এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এই চিত্রকলা প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকেট উন্মোচন করেন। পরে রাষ্ট্রপতি ছয়জন শিল্পীকে সম্মানসূচক ও তিনজনকে গ্রান্ড পুরস্কার দেন।

বিশেষ সংযোজনে রয়েছে কারুপণ্য মেলা, ফুড কোর্ট, আর্ট ক্যাফে, শিশু কর্নার,আর্ট ক্যাম্প,পারফর্মেন্স আর্ট ওয়ার্কশপ এবং ভাস্কর্য উদ্যান।

এই আয়োজনে বিশ্বের ৬৮টি দেশের চারুশিল্পীদের অংশগ্রহণে মাসব্যাপী এই আয়োজনে জাতীয় চিত্রশালায় ৪৬৫ জন শিল্পীর ৫৮৩টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হবে। এশিয়ার বৃহত্তম এই চারুকলা প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন,বাংলাদেশের ১৯৯ জন শিল্পী। তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন ১০৭ জন শিল্পী, প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন ১৩ জন মাস্টার পেইন্টার, পারফর্মেন্স আর্টে থাকছেন ১৬ জন এবং বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন ৬৩ জন শিল্পী। মোট ২৬৬ জন বিদেশি শিল্পী অংশ নেবেন এই আসরে, যাদের মধ্যে ২২৩ জন শিল্পী প্রতিযোগিতায় শিল্পকর্ম জমা দিয়েছেন, ২৯ জন বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিচ্ছেন এবং ১৪ জন পারফর্মেন্স আর্টিস্ট তাদের শিল্প-নৈপুণ্য প্রদর্শন করবেন। আয়োজনে থাকবে দেশি-বিদেশি শিল্পীদের মোট ৩৬৮টি পেইন্টিং, প্রিন্ট ও ফটোগ্রাফি, ৩৩টি ভাস্কর্য, ৫২টি ইনস্টলেশন আর্ট এবং ৩০ জন পারফর্মেন্স আর্টিস্টের শিল্প-নৈপুণ্য প্রদর্শনী।

থাইল্যান্ডের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার চাওয়েরাত কাসেতসান্তর্ন এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এছাড়াও  দেশি ও বিদেশি বরেণ্য শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি এবং একাডেমি ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রদর্শনী কক্ষ ঘুরে দেখেন।

কিউএনবি/রেশমা/২রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং/সকাল ৮:৪৬