২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:০১

ভাগ্নি জামাইটা হয়ত মামার জন্য সুযোগ নিতে চাইবে’

 

ডেস্ক নিউজ: অপরিচিত নম্বর থেকে হঠাৎ ফোন, মামা, একটা সমস্যা হইয়েছে।

বললাম, কি হইয়েছে?

পরিচয় দিয়ে বললো, মামা আমি উমুকের Husband, বেইর হবার সময় হেলমেডডা সাথে নিয়ে আসিনি, সারজেন্ট ধইরেছে।

বললাম, তা কি কত্তি হবে?

বললো, একটু বইলে দ্যান।

বললাম, এ আর এমন কি? হেলমেড না থাকার জন্যি ছোট একটা জরিমানার মামলা হবে, এজন্যি বলা লাগবে কেন?

তারপরো একটু বইলে দ্যান।

ফোনের ওপার থেকে শোনা যাচ্ছে, কার সাথে কথা বলবে তা না বলেই জোর করে ফোনটা কর্তব্যরত সার্জেন্ট সাহেবকে ধরিয়ে দিলেন পরিচয় দেওয়া দূর সম্পর্কের সেই ভাগ্নি জামাই আমার।

পরিচয় দিয়ে বললাম, সরি ফোনটা আমি করিনি। ফোন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য লজ্জিত।

সার্জেন্ট সাহেব পরিচয় শুনে বললেন, স্যার হেলমেট ছাড়াই চলছেন উনি।

আমার কাছে মনে হল আজ পার পেয়ে গেলে এই ভাগ্নি জামাইটা আমার সবসময়ই হয়ত মামার জন্য সুযোগ নিতে চাইবে, ধরাকে সরা জ্ঞান করতে চাইবে। এছাড়া হেলমেট থাকার পরও তা ব্যবহার না করা অনেকের মত তারও হয়ত একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে। তার নিজের নিরাপত্তার জন্যও হেলমেট ব্যবহার করা উচিত। সড়ক দুর্ঘটনায় পড়লে মামু খালুতো আর বাঁচাতে পারবে না। তাছাড়া জরিমানা দেওয়ার সামর্থ তার আছে।

সার্জেন্ট সাহেবকে বললাম, হেলমেট না থাকার জন্য নিয়মানুযায়ী সুন্দর করে একটা মামলা দিন। বলে দিয়েন যেন আর কখনো হেলমেট ছাড়া না বের হয়। আরও বলবেন, শুধু আপনার মামা শ্বশুরের জন্য আজ ছোট মামলা দিয়ে খাতির করলাম।

আমার কথা শুনে সার্জেন্ট সাহেব একটু হকচকিয়ে গেলেন। পুনরায় বুঝিয়ে বললাম, অবশ্যই মামলা দিবেন। বলেই ফোনটা কেটে দিলাম।

আমি মোটেও রাগ করে কথাগুলো বলিনি। বলেছি আসলে ওর ভালোর জন্যই। কারণ আমার ধারণা পুলিশ মামাকে ফোন দেওয়ার পরও যদি ও একটা মামলা খায়, তবে আর কখনো নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেলমেট ছাড়া মোটর বাইক চালাবে না।

জানি না পরে কি হয়েছে। হয়ত সার্জেন্ট সাহেব খাতির করতে পারেন, অথবা ছোট মামলাও দিতে পারেন। অবশ্য আমি পরেরটারই পক্ষপাতী। এটা অন্তত মোটর বাইক আরোহী আমার ওই আত্মীয়ের ভবিষ্যত চলাফেরার জন্যই মঙ্গল হবে।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যাত্রাবাড়ী থানা, ডিএমপি।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

কিউএনবি/অনিমা/৩১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/দুপুর ২ :৩০