ব্রেকিং নিউজ
১৭ই জুন, ২০১৯ ইং | ৩রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৫৩

সৌদিতে বাংলাদেশি দূতাবাস কর্মীর অসহায় নারীকে ধর্ষণ!

 

ডেস্ক নিউজ: নির্যাতিত, প্রতারিত, বিপর্যস্ত হয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসা এক নারী গৃহকর্মী শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছে দেখেন তাঁর লাগেজটিরও খোঁজ নেই। এরপর বেঁচে থাকার শক্তিও তিনি হারিয়ে ফেলেন। সেই লাগেজের সন্ধানে বিমানবন্দরে ফের গিয়ে দিশাহারা অবস্থায় তিনি টয়লেটে ঢুকে বিষ পান করে আত্মহত্যা করেন। কিন্তু কেন?

 

দিনাজপুরের বিরল এলাকার মেয়ে ২০১৬ সালের ২ মার্চে রাজধানীর ফকিরাপুলের মনায়েম হাজী ট্রাভেলসের মাধ্যমে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদিতে যান। প্রথমে দুই মাস এক বাসায় কাজ করলেও তিনি কোনো বেতন পাননি। বেতন চাইলে মালিক তাঁকে মারধর করে। এরপর মালিক এক বান্ধবীর বাসায় নিয়ে রাখে। সেখানে চার মাস কাজ করলেও বেতন পাননি তিনি। ওই বাসা থেকে পালিয়ে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে সেখানকার নারী কর্মীদের দেখাশোনার কাজ করেন। এই কাজ করেন ৯ মাস। এরপর প্রতারিত হওয়ার ব্যাপারে প্রতিকার চাইতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যান।

 

সেখানে দূতাবাস কর্মী লোকমান তাঁকে আশ্রয় দিয়ে বিয়ের কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এ কাজে দূতাবাসের গাড়িচালক গোলাম, প্রতিনিধি ফাহাত ও মেহেদী সহায়তা করে। মেয়েটি তাঁর বর্ণনায় জানান, বিয়ের ব্যাপারে চাপ দিলে লোকমান তাঁকে বুঝিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়। গত ২৮ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন। এরপর লোকমান তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।  তিনি  খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, গত ১৮ আগস্ট লোকমানও দেশে চলে এসেছে। এদিকে সৌদি থেকে ফেরার পর শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে  লাগেজ খুঁজে পাননি এই নারী কর্মী। ওই লাগেজে তাঁর চার লাখ টাকার জিনিসপত্র ছিল। এসব কারণে চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

 

গত মঙ্গলবার লাগেজ খুঁজতে বিমাবন্দরে যান তিনি। সেখানে তৃতীয় তলার টয়লেটে গিয়ে একটি চিরকুটে তিনি লিখে রাখেন ‘আমি যদি মরে যাই, তাহলে আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী লোকমান ও গোলামসহ ৩-৪ জন।’

পুলিশ জানায়, টয়লেটের ক্লিনাররা মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে বিমানবন্দরের কর্মরত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের জনশক্তি রপ্তানি জরিপ অফিসার আবু হেনা মোস্তাফাসহ পুলিশ তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হয়। চিকিৎসার পর আশকোনার ব্যাক লার্নিং সেন্টারে গিয়ে তিনি নিজের ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানান। এরপর বুধবার মামলা করে পুলিশ তাঁকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে উপস্থাপন করে।

ব্যাক লার্নিং সেন্টারের ইনফরমেশন অফিসার আল আমিন নয়ন গতকাল বলেন, ‘মেয়েটি এখন কাশিমপুর কারাগারে। সে একজন ভিকটিম। আমরা রবিবার তার জামিনের জন্য আবেদন করব।’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লোকমানসহ আসামিরা কোথায় আছে সেটি এখন বলতে পারছি না। পরে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লোকমান দূতাবাসের কর্মী বলে জেনেছি। এটি মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস দেখবে।’

মেয়েটির করুণ অবস্থার খবর তাঁর স্বজনরাও জানে না। গতকাল মেয়েটির ভগ্নিপতি রহমত আলী মোবাইল ফোনে  বলেন, ‘ও অনেক কষ্ট করে বিদেশে গেছে। এরপর সমস্যা হইছে শুনছি। তবে কী হইছে তা আমাদের বলেনি।’ তিনি জানান, তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের সংসারে অভাব লেগেই ছিল। সাভারের জিরানী এলাকায় শ্রমজীবীর কাজ করে পরিবারের সদস্যরা সংসার চালায়। তাঁর এই শ্যালিকা এসএসসি পাস করার পর নিজেই কিছু করার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে বিদেশে যান।

কিউএনবি/অনিমা/৩১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/দুপুর ১২:১৮

Please follow and like us:
0
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial