১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:৩৬

ভাঙছে তিস্তা, পুড়ছে কপাল

 

ডেস্ক নিউজ: তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৩৫০টি পরিবার জমিজিরাত, সহায়সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। একসময়ের সচ্ছল গৃহস্থও পরিণত হয়েছেন দিনমজুরে। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, তিস্তা সড়কসেতুর পূর্বদিকে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলেই নদীর ভাঙন রোধ করা সম্ভব। ভাঙন রোধ এবং বেড়িবাঁধের দাবিতে গত ১৪ আগস্ট বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের ৪-৫ হাজার নারী-পুরুষ কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ডে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।

সরেজমিনে বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে করুণ চিত্র। নিজেরাই ভেঙে ফেলেছেন নিজেদের হাতে গড়া আপন ঘরবাড়ি। কেটে ফেলেছেন বাড়ির আঙিনার ফলবান বৃক্ষ, পাশের বাঁশঝাড়। কারণ, চেনা নদী বাড়ির দুয়ারে এসে হানা দিয়েছে অচেনা ভয়ঙ্কররূপে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, ৫ আগস্ট শুরু হয়েছে তিস্তার ভাঙন। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ২৫ দিনে বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের ঢুষমারা, তালুকশাহবাজ, হরিচরণশর্মা, চরগনাই, বিশ্বনাথ, চরগদাই, হয়বতখাঁ, কালিরহাট ও আযমখাঁ গ্রামের ৩৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি এবং এলাকার ৫০০ একর ফসলি জমি তিস্তাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে অন্যদের। স্থানীয়রা জানান, ভাঙনে সুভাঘাট গ্রাম কাউনিয়ার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। এদিকে নদী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আরও প্রায় ১১টি গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাটবাজার, ঈদগাহ মাঠ হুমকির মধ্যে রয়েছে।

 বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, তার এলাকায় ২২৫টি পরিবারের বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের শিকার পরিবারের তালিকা উপজেলা পরিষদে দেওয়া হয়েছে। টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, তার এলাকায় ১২৫টি পরিবারের বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। তিস্তা সড়কসেতুর পূর্বদিকে একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধের দাবি করা হলেও ফল হচ্ছে না।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ভাঙন ঠেকাতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় এমপি টিপু মুন্শী বলেন, ভাঙন রোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সরকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নাজিয়া সুলতানা জানান, ইতোমধ্যে ৩৫টি পরিবারে দেড় বান্ডিল করে ঢেউটিন, ৫ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদেরও দেওয়া হবে।

কিউএনবি/অনিমা/৩১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/সকাল ১০:১৫