২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৯ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৫:৪৫

একদিকে নদী ভাঙন, অন্যদিকে বালি উত্তোলন

 

শামসুল ইসলাম সহিদ,মির্জাপুর (টাঙ্গাইল ) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর এলাকায় বংশাই নদীর ভাঙনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িসহ প্রায় ৫শ মিটার পাকা সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।এছাড়া ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরো প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ও একটি বাজার হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী মানুষের মধ্যে শুর হয়েছে আতংক।

এলাকাবাসী জানান, শুকনো মৌসুমে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা এবং বর্ষায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন চলে। এলাকার প্রভাশালী মহল প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতিবছর নদী থেকে বালি উত্তোলন করায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিভিন্ন পয়েন্টে ইতিমধ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলন শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

নদী তীরবর্তী পাটদিঘী, থলপাড়া, চাকলেশ্বর, বানকাটা, গোড়াইলের বাকপাড়া এবং পৌর এলাকার বাওয়ার কুমারজানী এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ইতিমধ্যেই নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।এরমধ্যে পাটদিঘী গ্রামের জহের মল্লিক, হাসান খান এবং শাজাহান খান সহ ওই গ্রামের ৩০টি বাড়িঘর রয়েছে।

এছাড়া এই ভাঙনে কুর্নি-ফতেপুর পাকা সড়কের থলপাড়া এলাকার প্রায় ৫শ মিটার এলাকা বংশাইর গর্ভে বিলীন হয়েছে। যার দরুন ওই সড়ক দিয়ে কোন প্রকার যানবাহন বর্তমানে চলাচল করতে পারছেনা বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

ভাঙন কবলিত এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে,পাটদিঘী, থলপাড়া, চাকলেশ্বর, বানকাটা, গোড়াইল বাকপাড়া এবং পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের বাওয়ার কুমারজানী এলাকার আরো শতাধিক বাড়িঘর হুমকির মধ্যে রয়েছে।এছাড়া ভাঙন অব্যাহত থাকায় ফতেপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক এক টাকার বাজারটিও যেকোন সময় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে এলাকবাসী জানিয়েছেন।

ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন বংশাইর এই ভয়াবহ ভাঙনের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। এই ভাঙন রোধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে বুধবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি ) মো. আজগর হোসেন নদী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:১২