১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:৩৪

বিছনাকান্দির আনন্দ পথেই মলিন, সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি পর্যটকরা

ডেস্ক নিউজ: দেশ-বিদেশে প্রকৃতিপ্রেমীদের নিকট পরিচিতি লাভ করেছে সিলেটের বিছনাকান্দি। বিশেষ করে ঈদ, পূজা, বড় দিনের মত ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সরকারি ছুটিতে হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমীরা বিছনাকান্দির উদ্দেশ্যে ছুটে আসেন। 

এবারের ঈদ-উল আযহায় গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম হয়েছে।  সিলেট থেকে গোয়াইনঘাট উপজেলার বঙ্গবীর পর্যন্ত সড়কটি মোটামুটি ভাল থাকায় পর্যটকগণ আনন্দে মেতেই বঙ্গবীর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছান। তবে বঙ্গবীর থেকে পীরেরবাজার পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। 

রাজধানী ঢাকা ও সিলেট থেকে সিংহভাগ পর্যটকই উন্নতমানের গাড়ী নিয়ে আসেন। রাস্তায় হাটু পরিমাণ গভীর গর্ত ও খনাখন্দ থাকায় শাতধিক পর্যটক বঙ্গবীর এলাকায় গাড়ী রেখে প্রায় ৪ কিলোমিটার জায়গা পায়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। আবার অনেক গাড়ীচালক গাড়ীর ক্ষতি করেও পীরের বাজার পর্যন্ত গাড়ী নিয়ে যান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা প্রকৃতিপ্রেমীরা পীরেরবাজার পর্যন্ত পৌছেই যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েন। 

পীরেরবাজার নৌকা ঘাটে প্রবেশ করেই সেই সব পর্যটকরা সিন্ডিকেটদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েন। সরকারি-বেসরকারি চাকরীজীবি, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নৌকা ঘাটে পৌছে ঘাট ইজারাধার কর্তৃপক্ষ ও মাঝিদের নিকট প্রতারিত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এখান থেকে উদ্ধার পাননি যাদের কল্যাণে দেশ বিদেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক ও নতুন নতুন নৌকা ঘাট তৈরির প্রধান ভূমিকা পালনকারী গণমাধ্যমকর্মীরাও। 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পীরেরবাজার-বিছনাকান্দি এবং বিছনাকান্দি-পীরের বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে (যাওয়া আসা)  প্রতিটি পর্যটকবাহী নৌকা ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারন করা হলেও তা আমলে নিচ্ছেন না পীরেরবাজার নৌকা ঘাটের ইজারাদার ও নৌকার মাঝিগণ। 

জানা গেছে, পীরেরবাজার নৌকা ঘাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষ প্রথমে ৫০০ টাকা নেন। নৌকার মাঝিরা প্রতি নৌকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে তাদের কাছ থেকে ভাড়া বাবদ নেন। এ ব্যাপারে পীরের বাজার ঘাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষের অন্যতম মো. সিরাজ উদ্দিন প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত ১ হাজার ৫শত টাকা ভাড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। 

তিনি জানান, পীরের ঘাটে প্রতি নৌকা ৩ হাজার টাকা করে প্রায় ১০০টি নৌকা ভর্তি রয়েছে। এ সব নৌকাগুলি প্রতিদিন ইজারাদারকে ৩ শত টাকা প্রদান করে। এছাড়া এখানে ভর্তি নেই রুস্তমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ২ শতাধিক নৌকা প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে ইজারাদার কর্তৃপক্ষকে দিয়ে আসছে। 

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পর্যটকবাহী নৌকার ভাড়া আসাযাওয়া ১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইজারাদার কর্তৃপক্ষের যে সব লোক ও নৌকার মাঝি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অধিক ভাড়া নিয়েছেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

 

কিউএনবি/অনিমা/২৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/দুপুর ১:১৩