২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৪৪

বসুন্ধরা কিংস ভেন্যুতে ফুটবল উন্মাদনা

 

স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল যে বাঙালির প্রাণের খেলা তা কি এখন বলা যায়? ঘরোয়া আসরে হাইভোল্টেজ ম্যাচে খোদ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গ্যালারি থাকে ফাঁকা। এ অবস্থায় অন্য জেলায় চেহারা কি হতে পারে তা বুঝিয়ে বলার দরকার আছে? বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে এই জনপ্রিয় খেলার দৈন্যদশা নেমে এসেছিল। সেই উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীতে আজ আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার লড়াই। বিকাল ৪টায় রেফারির বাঁশি বাজার মধ্যে দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বপ্নিল অভিষেক হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠপুত্র প্রখ্যাত সংগঠক শহীদ শেখ কামাল নামকরণ স্টেডিয়ামে।

স্বপ্নের এই খেলাকে ঘিরে শুধু নীলফামারী নয়। পুরো উত্তরাঞ্চলেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। যেখানে ঢাকায় দর্শক সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে সেখানে কিনা একদিনেই ২০ হাজার আসনবিশিষ্ট গ্যালারির সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ক্রিকেট হলে না হয় বিশ্বাস করা যেত। কিন্তু ফুটবলে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ ঘিরে গ্যালারিতে তিল ধরনের জায়গা থাকবে না তা কি ভাবা যায়! এই অবিশ্বাস্য ঘটনাই আজ বাস্তবে রূপ দিচ্ছে শেখ কামাল স্টেডিয়াম।

এই ঐতিহাসিক ম্যাচের আয়োজন তো হুট করে হয়নি। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বসুন্ধরা গ্রুপের নিজস্ব ক্লাব বসুন্ধরা কিংসই। নীলফামারী বা আশপাশের জেলা থেকে শান্টু, কাজী সাক্তার, কোহিনুর, আনোয়ার, মোসাব্বের ও মুনদের মতো তারকা ফুটবলারের আবির্ভাব ঘটেছিল। সেই রংপুর বিভাগেই কিনা ধস নামে ফুটবলে। এতটা সংকটাপন্ন অবস্থা যে এই অঞ্চলে ফুটবলে কোনো টুর্নামেন্ট হবে তা স্বপ্নে পরিণত হয়। এমন সংকটাপন্ন অবস্থায় পাশে এসে দাঁড়ায় পেশাদার লিগে মাঠে নামার অপেক্ষায় বসুন্ধরা কিংসই।

বসুন্ধরা কিংসের লক্ষ্য শুধু সাফল্য নয়, ফুটবলে দেশের হারানো গৌরব ও জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনা। এ জন্য দেশজুড়েই নানা পরিকল্পনা রয়েছে ক্লাবটির। এক সঙ্গে তো আর সব জেলাতে কর্মসূচি দেওয়া সম্ভব নয়। ঘুমন্ত ফুটবল জাগিয়ে তুলতে প্রথম বেছে নেয় উত্তরাঞ্চলকে। চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে চ্যাম্পিয়নের পরই ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসান ঘোষণা দেন পেশাদার লিগে হোম ভেন্যু হিসেবে রংপুর বা নীলফামারীকে বেছে নেওয়ার। এর পেছনে তিনি যুক্তিও তুলে ধরেন মিডিয়ার সামনে।

হোম ভেন্যু করাতো আর চাট্টিখানি কথা নয়। প্রথমে এই অঞ্চলের সাড়া ফেলতে হবে। সেই কাজটিই করল বসুন্ধরা কিংস। রংপুর বিভাগের আট জেলাকে নিয়ে একই সঙ্গে আয়োজন করল সিনিয়র ও জুনিয়র লেভেলের টুর্নামেন্ট। যা ক্রীড়াঙ্গনে বিরল ঘটনাই বলা যায়। ফুটবল যে উত্তরাঞ্চল থেকে হারিয়ে যায়নি তা প্রমাণ মিলল এমন টুর্নামেন্টে। সেই থেকে উত্তরাঞ্চলে নাম ছড়িয়ে পড়ল বসুন্ধরা কিংসের। এর মধ্যে আবার নীলফামারীকে নিজেদের হোম ভেন্যু ঘোষণা করলে উত্তরাঞ্চলজুড়ে সাড়া পড়ে যায়। এই সুযোগটি কাজে লাগাল বাফুফে। দেখল বসুন্ধরা কিংস ঘিরে নীলফামারীতে ফুটবল জেগে উঠতে শুরু করেছে। তখুনি তারা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে বেছে নিল শেখ কামাল স্টেডিয়াম।

যদিও বাফুফে নীলফামারীকে বসুন্ধরা কিংসের হোম ভেন্যু হিসেবে এখনো চূড়ান্ত অনুমতি দেয়নি। তবে এমন উন্মাদনার পর ঘোষণা যে শুধুই আনুষ্ঠানিকতা তা বলা যেতেই পারে। অর্থাৎ বসুন্ধরা কিংসের হোম ভেনু্যুতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘিরে ফুটবলের নগরীতে পরিণত হয়েছে নীলফামারী। দর্শকশূন্যতায় দেশের ফুটবলে যেখানে জনপ্রিয়তার ধস নেমেছিল সেখানেই কিনা আজ ২০ হাজার আসনবিশিষ্ট পুরো গ্যালারি ভরে যাবে। দিনটি ফুটবলের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

দেশের ফুটবলাররা কবে ঘরের মাঠে উপচেপড়া দর্শকের সামনে খেলেছিলেন তা বোধ হয় ভুলেই গেছেন। সে প্রতীক্ষার অবস্থান হচ্ছে আজ। প্রীতি হলেও ম্যাচটির গুরুত্ব কম নয়। ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত সাফ ফুটবল। টুর্নামেন্টে নামার আগে নিজেদের ঝালাই করে নিতে পারবে দুই দল। ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী থাকলেও এবার ঘরের মাঠে বাংলাদেশের লক্ষ্য একটাই শিরোপা।

যদিও সাফে ভিন্ন গ্রুপে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। কিন্তু দুই দল তো ভুল শোধরানোর সুযোগ পাচ্ছে। ফুটবলে শ্রীলঙ্কার বড় ধরনের সাফল্য না থাকলেও তারাই এ টুর্নামেন্টের প্রথম চ্যাম্পিয়ন। ১৯৯৫ সালে কলম্বোতে যখন সার্ক গোল্ডকাপ নামে এই টুর্নামেন্টের যাত্রা হয় তখন স্বাগতিক দল হিসেবে লঙ্কানরাই বিজয়ের হাসি হেসেছিল। ঢাকা লিগে সাড়া জাগানো ফুটবলার পাকির আলী এবার সাফে শ্রীলঙ্কার দলে কোচ হিসেবে উড়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশের মতো ফেবারিট দলের সঙ্গে খেলে শেষ মুহূর্তে নিজেদের ভুল-ত্রুটি শোধরানোর সুযোগ পাচ্ছি।’

জার্কাতার এশিয়ান গেমসে দারুণ পারফর্ম করা বাংলাদশের ফুটবলাররা আজ নীলফামারীতে খেলবেন না। কোচ জেমি ডে বাকিদের পরখ করে নিতে চাচ্ছেন। দলীয় ম্যানেজার সত্যজিত দাশ রুপু বলেন, ‘সাফ লড়াইয়ে আগে এটাই আমাদের শেষ ম্যাচ। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে উজ্জীবিত হয়েই আমরা মাঠে নামতে চাই।’ নীলফামারীতে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বপ্নিল অভিষেক হচ্ছে। ম্যাচে জয় নিয়ে লাল-সবুজের বাংলাদেশ দল বসুন্ধরা কিংসের হোম ভেন্যুতে দর্শকদের উৎসবে ভাসাবে কিনা সেটাই অপেক্ষা।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/ দুপুর ১২:৫০