২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:১২

সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও, ৭ দিনের আল্টিমেটাম

ডেস্ক নিউজ: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেছেন বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। সেখানে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার না করা হলে সাংবাদিকরা আমরণ অনশন শুরু করবেন।

মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের পর সেখান থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল।

তিনি বলেন, ‘আমরা সাংবাদিক সমাজ সরকারকে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিন সময় বেঁধে দিচ্ছি। এর মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে আমরা ৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করব। ওই দিন সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকররা অনশন করবেন।’

দুপুর পৌনে ১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল গিয়ে পৌঁছায় সচিবালয়ের সামনে। সেখানে সাংবাদিকরা অবস্থান নেওয়ার পর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য্য স্মারকলিপি পাঠ করেন। চার দফা দাবি সম্বলিত ওই স্মারকলিপি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান সাংবাদিকরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা দাবি চারটি হলো— শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পেশাদার গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত ছবি বা ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে; অবিলম্বে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে হবে; যখন-তখন পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহার, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বিএনপি-জামায়াত আমলসহ বিভিন্ন সময়ে দেশব্যপী নিহত সাংবাদিকদের হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে।

বিএফইউজে সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ বলেন, রুটি-রুজির আন্দোলন চলছিল। কিন্তু আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে কিছু দুর্বৃত্ত। সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ডিআরইউয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, সন্ত্রাসীরা কোনো দলের নয়। তারা আওয়ামী লীগেরও নয়, বিএনপিরও নয়। কিন্তু তাদের গ্রেফতার না করায় দিন দিন গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ওই দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের জন্য একটি চিঠিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দিয়েছিলেন। কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য গোলাম মুজতবা বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজ আজ বিক্ষুব্ধ। অবিলম্বে সাংবাদিক নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হোক। যতক্ষণ তাদের গ্রেফতার করা হবে না, ততদিন লাগাতার আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করুন। না হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্রমশ নষ্ট হচ্ছে।’

সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। কত বড় বড় ঘটনার তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের পাকড়াও করতে পারে পুলিশ, অথচ প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের পেটানো দুর্বৃত্তদের তারা চিহ্নিত করতে পারছে না। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজের সহসভাপতি এবং সারাবাংলা ডটনেট, দৈনিক সারাবাংলা ও জিটিভির এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, পাসপোর্ট রিপোর্টার্সের ফোরামের সভাপতি আছাদুজ্জামানসহ অন্যরা।

এর আগে, গত ৯ আগস্ট এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে ১১ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। এর মধ্যে হামলাকারীরা চিহ্নিত না হলে গোটা সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরদিন ১০ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেও এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ (ডিইউজে) বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, দোষীদের ওই দিনের মধ্যেই গ্রেফতার করা না হলে সাংবাদিকদের আন্দোলন সামাল দেওয়া যাবে না

এর মধ্যেই ৯ আগস্ট সচিবালয়ে বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের ১১ আগস্টের মধ্যে গ্রেফতারকরা হবে। যদিও এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

কিউএনবি/অনিমা/২৬শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/বিকেল ৩:৩১