২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৩৯

জামালপুরে পপুলার হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু

 

জাকারিয়া জাহাঙ্গীর,জামালপুর : জামালপুর পপুলার হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় নবজাতক মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় হাসপাতালের এক স্টাফ গণধোলাইয়ের শিকার হন।২৬ আগস্ট (রোববার) ভোরে এ ঘটনা ঘটলে হাসপাতালের মালিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গা ঢাকা দেয়।পরে জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির মধ্যস্থতায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিমাংসা হয়।

অভিযোগে জানা গেছে, জেলার মেলান্দহ উপজেলার ফুলকোচা গ্রামের ইসমাইল হোসেন আনন্দের স্ত্রী সুখী বেগম ২৬ আগস্ট ভোরে পপুলার হাসপাতালে ভর্তি হন।এ সময় হাসপাতালে ম্যানেজার বা কর্তৃপক্ষের কেউ ছিলেন না।প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান, নার্স মৌসুমী ও রিতু প্রসূতিকে ভর্তি করেন।

প্রথমে তারা স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেন।প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টার পর ভোর ৬টার দিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বেরিয়ে এসে তারা প্রসূতির স্বজনদের জানায় ‘ডাক্তার ডাকতে যাচ্ছি।’এ সময় বিষয়টি সন্দেহ মনে করে অন্য ক্লিনিকে যেতে চাইলে প্যাথলজিস্ট আমিনুর রহমান ও এক্স-রে অপারেটর আরিফ রোগি নিয়ে যেতে হলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে প্রসূতি কী অবস্থায় আছে তাও জানতে দেয়া হয়নি।

একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক প্রসূিত বিশেষজ্ঞ ডা. শফিকুল ইসলাম একজন এনেসথ্যাসিয়া ডাক্তার নিয়ে প্রসূতির অস্ত্রোপচার করলে মৃত মেয়ে বাচ্চা প্রসব হয়।এ নিয়ে প্রসূতির স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়।

তারা অভিযোগ করেন, ডাক্তার ক্লিনিকে আসার আগেই স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করায় নবজাতক পেটেই মারা গেছে।এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে প্যাথলজিস্ট আমিনুর ও এক্স-রে অপারেটরসহ ক্লিনিকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গা-ঢাকা দেন।দুপুরে এক্স-রে অপারেটর আরিফকে পেয়ে স্থানীয়রা আটক করে গণধোলাই দেয়।খবর পেয়ে সদর থানার এসআই তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ‘জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা বিষয়টি মিমাংসার দায়িত্ব নেওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।পরবর্তীতে প্রসূতির পরিবার থানায় কোনো অভিযোগ না করায় মামলা বা কাউকে আটক করা হয়নি।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৭শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:১০