১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:০৯

মাদারীপুরে ক্ষুদে বিজ্ঞানী আমিরাকে সংবর্ধনা

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন,মাদারীপুর : সম্প্রতি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক আজকের সংবাদ,দি ডেইলী সিটিজেন টাইমস, এর ’ শেষ পাতায় ‘নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে ওভারলোডিং ইন্ডিকেটর’ শিরোনামে একটি বিশেষ স্বচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর মাদারীপুর ও শরীয়তপুরসহ সর্বত্র ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়।উদ্ভাবক আমিরার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবেদনের প্রশংসা শুরু হয়। এই অসামান্য সাফল্যের দাবীদার নৌযান দুর্ঘটনা এড়াতে ওভারলোডিং ইন্ডিকেটর উদ্ভাবক আমিরা খানম আয়েশাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।

সোমবার বিকালে মাদারীপুর শহরের ডিসি ব্রিজ এলাকায় ‘পজিটিভ এ্যাকশন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে এই সংবর্ধণা দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর প্রেস ক্লাবের আহবায়ক ও দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক শাহজাহান খান, জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ফাইজুল শরীফ, সাংবাদিক শফিক স্বপন, সাংবাদিক আবুল হাসান সোহেল, সাংবাদিক সঞ্জয় কর্মকার অভিজিৎ এবং ‘পজিটিভ এ্যাকশন’ এর প্রতিষ্ঠাতা রেদওয়ান খান শাওনসহ সংগঠনের সদস্যরা।সংবর্ধনায় সভায় বক্তারা আমিরার উদ্ভাবনীকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি দেঙয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানায়।

জানা গেছে ,আমিরা খানম আয়শা শরীয়তপুর জেড.এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিএসসি ৩য় বর্ষের ছাত্রী।

আমিরা মাদারীপুর পৌরসভার ১নং শকুনি মহল্লার হামিদ শিকদার সড়কের আহসান হাবিব ও মিনারা খানমের বড় মেয়ে। সে ২০০৯ সালে মাদারীপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি (ইলেকট্রনিক্স) পাস করে। ২০১৩ সালে শরিয়তপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমা শেষ করে ২০১৪ জেড.এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং (ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ) ভর্তি হয়।

চলতি বছর ১২-১৩ মে শরীয়তপুর জেড.এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় আমিরা খানম আয়শা তার সহপাঠি আমির হামজাকে সঙ্গে নিয়ে নৌযানে ওভারলোডিং ইন্ডিকেটর উদ্ভাবন করে মেলায় প্রদর্শন করে।

মেলায় প্রদর্শিত এটি অন্যান্য উদ্ভাবনকে ছাপিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে।আমিরার এ উদ্ভাবনে অনুপ্রেরণা, মেধা ও শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সোহেল রানা এবং প্রভাষক মো. জহিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, নৌযানে দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ভাবিত ওভারলোডিং ইন্ডিকেটরের কাজ হলো-এটি কোন লঞ্চ বা স্টিমারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলে লাইট ও শব্দ সংকেত (এলার্ম) এর মাধ্যমে যাত্রীদের জানাবে যে, এই নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে।একই সাথে নির্দিষ্ট একটি মোবাইল নাম্বারে কল চলে যাবে।যতক্ষণ পর্যন্ত যাত্রী বা অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে নির্দিষ্ট ওজনে না আনা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ইন্ডিকেটর সার্কিট থেকে সংকেত দিতেই থাকবে।

ঠিক একই সময় নৌযানে স্থাপিত ইন্ডিকেটর থেকে কন্ট্রোল রুমে সেট করা নাম্বারে কল চলে যাবে।এটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে এ কলের মাধ্যমে লঞ্চ বা নৌযানের ওভারলোডিং-এর বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে জানা যাবে।এতে ব্যবহৃত মোবাইল সিস্টেমটি এ কলটির কাজ করতেই থাকবে।

এ সিস্টেম ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট ওজন এর পর লঞ্চটি আরো অতিরিক্ত ওজন/যাত্রী বহন করলেই এ সার্কিটটি এলার্ম ও লাইট জ্বালিয়ে ইন্ডিকেট করতে থাকবে।এর পরেও যদি অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা ওজনের কারণে লঞ্চ বা নৌযানটি দুর্ঘটনার কবলে পরে ডুবে যায়; তখনও সার্কিট থেকে কল যেতেই থাকবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত নেটওয়ার্ক পাওয়া যাবে সার্কিট ততক্ষণ পর্যন্ত সংকেত পাঠাতে থাকবে।শুধু তাই নয় নাম্বার লোকেট করে ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে ডুবে যাওয়ার আগের লোকেশনও জানা সম্ভব হবে।ফলে উদ্ধার কাজ ত্বরান্বিত হবে এবং যাত্রীদের মৃত্যুঝুঁকি কম থাকবে।

ফলে পিনাক-৬ এর মত হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমবে।এ সার্কিটে কিছু ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেট ব্যবহার করা হয়েছে এবং একটির সাথে মোবাইল সিস্টেম ব্যবহার করার কারণে এটি অনেকটা সস্তায় পাওয়া সম্ভব।

আমিরা খানম আয়শা ভবিষ্যতে নৌযানে অতিরিক্ত ওভারলোড হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে এমন ধরণের নতুন কিছু উদ্ভাবনের চিন্তা করছে।এ ছাড়াও যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লঞ্চ বা কোন নৌযান দূর্ঘটনার কবলে পরে ডুবে যায়; তা‘হলে জরুরি দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে।এ ধরণের নতুন কিছু উদ্ভাবনের চিন্তা মাথায় রেখে গবেষনার কাজে এগিয়ে যাচ্ছে আমিরা।

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/২৭শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:৪২