২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৪:৪৯

মানসম্মত নয় ব্যাংকিং খাত

 

ডেস্ক নিউজ : বিশ্বমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো। খেলাপি ঋণের হার, মূলধনের জোগান, সুদের হার, তারল্য পরিস্থিতি ও মুদ্রার বিনিময় হার- এ পাঁচটি সূচকে দেশের ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক মানের অনেক নিচে অবস্থান করছে।

এ কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে আস্থা অর্জন করতে পারছে না আমাদের ব্যাংকগুলো। আস্থার এ ঘাটতি পোষাতে হচ্ছে বাড়তি ফি দিয়ে। এতে করে ব্যবসার সার্বিক খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি আমাদের ব্যবসায়ীরা বিদেশিদের বিপরীতে সক্ষমতা অর্জনেও পিছিয়ে পড়ছেন।

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সার্বিক অর্থনীতির জন্য এটি যে নেতিবাচক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোর সুনাম বৃদ্ধি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সুষম প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা ও ব্যবস্থাপনার ত্র“টি কাটিয়ে তোলার বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলধন ঘাটতি, তারল্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সুদ ও মুদ্রা বিনিময় হারে বড় ধরনের ওঠানামা এবং মাত্রাতিরিক্ত খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর আস্থা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

কিন্তু আমাদের ব্যাংকিং খাতে এগুলোকে পুষে রাখা হয় ব্যক্তিগত ও নানাবিধ স্বার্থ হাসিলের জন্য। ফলে আমাদের ব্যাংকিং খাতের নেতিবাচক রেটিং পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সূচকের ঘাটতি মেটানোর উদ্যোগ ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলেও তার সুফল এখনও মিলছে না।

তবে লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংকগুলোকে সময়সীমা বেঁধে দেয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে টার্গেট পূর্ণ করতে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোর রেটিং কমিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাউকে ছাড় না দিয়ে এতে দৃঢ় থাকলে পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশা করা যায়।

ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য একটি বিষয় হল সুদহার স্থিতিশীল থাকা। সুদের হার বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে একটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়। খুব সামান্য হারে বাড়ালে বা কমালে ঋণগ্রহীতা ব্যবসায়ীরা স্বস্তির সঙ্গে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক- ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমস ও ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক- ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সম্প্রতি সুদ বাড়ানোর এ হার রেখেছে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ। অথচ আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো ঋণের সুদের হার এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দেয় ৩ থেকে ৪ শতাংশ এবং আমানতের সুদের হার ২ থেকে ৪ শতাংশ।

তাহলে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আমাদের সামঞ্জস্য থাকবে কীভাবে? খেলাপি ঋণের হার তিন শতাংশের নিচে হলে তা ঝুঁকিপূর্ণের আওতার বাইরে রাখা হয়; কিন্তু আমাদের দেশে খেলাপি ঋণের হার ১০ দশমিক ৭৮ শতাংশ। দেশে ৫টি বিদেশি ও ৬টি স্থানীয় ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণের হার ৩ শতাংশের নিচে রাখতে পেরেছে। এর মধ্যে একটি সরকারি ব্যাংকও নেই। নিজেরা সচেষ্ট হলে খেলাপি ঋণ কমানো যায়- এটি তার নজির হতে পারে বৈকি।

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাসহ আর্থিক অনিয়ম দেখাশোনার জন্য শক্তিশালী একটি কমিশন গঠন এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে ছাড় দেয়ার রেওয়াজ বন্ধ করা গেলে ব্যাংকিং খাত আন্তর্জাতিক মানসম্মত হয়ে উঠতে পারে। ব্যবসা-বাণিজ্য, এমনকি সার্বিক অর্থনীতির স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

 

কিউএনবি/অায়শা/২৭শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/দুপুর ১২:১৯