২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৪:২১

বড়াইগ্রামে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্য বিয়ে

 

অমর ডি কস্তা বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি : জেলা প্রশাসকের কাছে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারের লেখা হলো ‘স্যার দয়া করে বাল্য বিয়েটা বন্ধ করুন-এখনই। ঠিকানা-বড়াইগ্রামের ভবানীপুর পশ্চিম পাড়া। মেয়ের নাম-রিতা (১৩), মায়ের নাম- ফাতেমা বেগম।’ মাত্র ছয় সেকেন্ড পরেই জেলা প্রশাসকের উত্তর ’ইট শুড বি স্টপড্’ অর্থাৎ অবশ্যই এটা বন্ধ হবে।

শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে বড়াইগ্রামের স্থানীয় এক সাংবাদিক ফেসবুকের মাধ্যমে এই বার্তা পাঠানোর পর নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ বসাক সহ বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বন্ধ করে দেয় বাল্য বিয়ে। পাশাপাশি মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে না দেয়ার অঙ্গীকারপত্রও নেয়া হয়। 

বড়াইগ্রাম কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি অমর ডি কস্তা জানান, ভবানীপুর হিজবুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী পিতৃহীন রিতা আক্তারের সাথে বিয়ে ঠিক হয় বনপাড়া পৌর শহরের হারোয়া এলাকার মৃত সিরাজউদ্দিন সেখের ছেলে ফারুক হোসেনের (২৬)। এই বিয়ের খবর স্থানীয়রা প্রথমে জনৈক সাংবাদিককে জানালে তিনি পরক্ষণেই জেলা প্রশাসককে ফেসবুকে অবহিত করেন। 

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছ থেকে তথ্য ও নির্দেশ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বরপক্ষ পালিয়ে যায়। এ সময় মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে বন্ধ রাখবে বলে অভিভাবকের কাছ থেকে মুছলেকা নেয়া হয় এবং পাশাপাশি ছেলে পক্ষকে মুঠো ফোনে বাল্য বিয়ের বিষয়ে সাবধান করে দেয়া হয়।

 

 

কিউএনবি/অায়শা/২৫শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ১০:২৭