২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:৪০

দৌলতদিয়া ঘাটের তীব্র যানজটের কারণ জানা গেছে

 

ডেস্কনিউজঃ ঈদের ছুটি শেষে এখন কর্মস্থলে ফেরার পালা। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ঢল এখন দৌলতদিয়া ঘাটে। সেইসঙ্গে তাদের বয়ে নিয়ে আসা যানবাহনের চাপে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নারী ও শিশুদের। শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীমুখী যাত্রীর ঢল নেমেছে দৌলতদিয়া ঘাটে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে এ ঢল।

দুপুর ১২টার পর থেকে যাত্রীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দৌলতদিয়া ঘাট কর্তৃপক্ষ।দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিগুলো পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী নামিয়ে দিয়েই শূন্য ফেরত আসছে দৌলতদিয়া ঘাটে।অপরদিকে নাব্য সংকটে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে রো রো ফেরি পারাপার বন্ধ থাকায় ট্রাক পার হতে পারছে না। ফলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী, ট্রাক ও পরিবহনের চাপ অধিক হওয়ায় এ ঘাটে তীব্র যানজট চলছে। আর চরম অব্যবস্থাপনা তো আছেই।

দীর্ঘ ১০-১২ ঘণ্টা করে জটে আটকে থাকা ভুক্তভোগী  চালক ও যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী দালাল নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পরিবহন ফেরিতে উঠাচ্ছে। যে কারণেই দূরপাল্লার পরিবহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি স্বীকার করেছে।বাসচালক শফিকুল অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় কিছু লোক ক্ষমতা দেখিয়ে ফেরিতে গাড়ি তুলেন। তারা কোনও নিয়ম মানেন না। যে কারণে এতো দুর্ভোগ মানুষের।

ট্রাকচালক মিজান জানান, ফেরিঘাটে দালালদের কারণেই এতো যানজট। তারা তাদের ইচ্ছেমতো গাড়ি তোলেন ফেরিতে। এসব দেখার কেউ নেই। তাদের কাছে চালক ও যাত্রীরা অসহায়।শনিবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া-ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে রাজবাড়ী মহাসড়কের দুপাশ জুড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যানজট হয়েছে। দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাটে ঢাকামুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। নদীর পাড়ে ফেরি ও লঞ্চ সংকটে চরম অব্যবস্থাপনা। ফলে ঢাকার দিকে আসা যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।ঝিনাইদহ থেকে আসা যাত্রী রূপা দে জানান, স্বামী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাত ১২টার দিকে বাসে উঠেছিলেন। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পৌঁছান রাত দেড়টায়। কিন্তু সকাল আটটা পর্যন্ত বাস ফেরিতে উঠতে পারেনি। শেষটায় বাধ্য হয়ে গাড়ি থেকে নেমে লঞ্চযোগে পাটুরিয়ায় পৌঁছান।

রাসেল নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, স্থানীয় পরিবহনগুলো কোনও ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফেরিতে উঠে পড়ে। এ অবস্থায় দূরপাল্লার গাড়িগুলো ১-২টার বেশি উঠতে পারে না। এ কারণেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল থেকে একযোগে শত শত যানবাহন ও অসংখ্য মানুষ নদী পারাপারের জন্য দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় আসতে শুরু করে। এতে বিকেল চারটা নাগাদ ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার পদ্মার মোড় এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।দৌলতদিয়া-রাজবাড়ী সড়কের দৌলতদিয়া ইউপি অফিস থেকে যাত্রীরা প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পায়ে হেঁটে নৌযানে উঠছেন। লঞ্চ কাউন্টারের সামনে যাত্রীরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। লঞ্চ ও ফেরির ছাদ থেকে শুরু করে নৌযানগুলোর প্রতিটি স্থানে যাত্রী তোলা হচ্ছে। স্পিডবোট এ নৌপথে চলাচলের অনুমতি না থাকলেও ঘাটে পুলিশের সামনেই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে উত্তাল পদ্মা-যমুনা পাড়ি দিতে দেখা গেছে।

ঘাটের প্রতিটি প্রবেশপথেই রয়েছে উপচেপড়া ভিড়।বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নামে। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় যাত্রীতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন শিমুলিয়া থেকে যাত্রীশূন্য ফেরি এনেছে। অন্যান্য দিন ফেরিতে যানবাহন সংকট থাকলেও এদিন সকাল থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়েছে।তিনি আরও জানান, ঈদে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে এ রুটে ২০টি ফেরি ও ৩২টি লঞ্চ রাখা হয়েছে। এছাড়া তিন শতাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।এদিকে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপকে পুঁজি করে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। নৌযানগুলো ঢাকাগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ঈদের আগে থেকেই বাড়তি ভাড়া আদায় করছে। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও অনেকটা নিরুপায় হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েই তাদের পার হতে হচ্ছে পদ্মা নদী।ঢাকাগামী যাত্রীরা জানান, লঞ্চে ৩০ টাকার পরিবর্তে নেয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। আর স্পিডবোটে ১২০ টাকার ভাড়া আদায় হচ্ছে ২০০ টাকা। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা।

 

কিউএনবি/বিপুল/২৫শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ৯:৩৫