১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৬:৩০

পূর্বধলায় বিদ্যুৎ সংযোগে নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ, ঘেরাও

 

শান্তা ইসলাম নেত্রকোনা প্রতিনিধি : জেলার পূর্বধলা উপজেলার বিষকাকুনী ইউনিয়নের বড়রুহী গ্রামে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ারকথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের আবদুল হামিদ ফকিরের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে গ্রামবাসী মিছিল করে আবদুল হামিদের বাড়িতে যায় এবং বাড়ি ঘেরাও করে টাকা ফেরৎ চায়। 

একাধিক গ্রামবাসীর অভিযোগ, জেলার কেন্দুয়ায় কর্মরত ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবদুল হামিদ ফকির তার গ্রামের বাড়ি জেলার পূর্বধলার বড়রুহী গ্রামে ঘরে ঘরে ও সেচ মেশিনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে প্রায় দুই বছর আগে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা নেন। আবাসিক সংযোগ ২০০০/- এবং সেচ মেশিনে সংযোগ দেয়ার জন্য ৪০০০/- টাকা করে প্রায় চারশ পরিবারের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আদায় করেন। দীর্ঘদিন চলে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ না দেয়ায় গ্রামবাসী টাকা ফেরৎ চায়। 

নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন আবদুল হামিদ। গতকাল শনিবার গ্রামবাসী মিছিল করে আবদুল হামিদের বাড়ি ঘেরও করে তাদের দেয়া টাকা ফেরৎ চান। টের পেয়ে আবদুল হামিদ গামবাসীর হাত থেকে রক্ষার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে টানটান উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকার কিছু লোক বিষয়টি মীমাংসার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে।
পূর্বধলার বড়রুহী গ্রামের রফিকুল ইসলাম রফিক ও একই গ্রামের আল আমীন বলেন, গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলে আবদুল হামিদ দেড়- দুই বছর আগে মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছে। বিদ্যুতের কথা বললে সে এখন নানা টালবাহানা করে। বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসী টাকা ফেরৎ দেয়ার জন্য তার বাড়ি ঘেরও করেছিল।

আবদুল হামিদ ফকির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলে আমি কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেই নি। আমার বিরুদ্ধে গ্রামের কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দিচ্ছে। শনিবার গ্রামের কিছু লোক আমার বাড়িতে গিয়েছিল।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মজিবুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য কোন টাকা লাগে না। এ জন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং, পোষ্টারিং এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু গ্রামের সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত সময়ে পাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে প্রতারনার শিকার হয়। পূর্বধলার বড়রুহী গ্রামের বিষয়টি তার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন। পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বিল্লাল উদ্দিন জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

 

 

কিউএনবি/অায়শা/২৫শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ৮:৪৫