১৩ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৯শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:৪০

অবৈধ সন্তানের জন্ম দেন ট্রাম্প !

 

ডেস্কনিউজঃ ট্রাম্প ওয়ার্ল্ড টাওয়ারের সাবেক দ্বাররক্ষী দাবি করেছেন, তাঁর কাছে ট্রাম্পের নারী সম্পর্ক বিষয়ে বিস্ফোরক তথ্য আছে। সাবেক এক গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং তার ফলে সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো ঘটনা এটি। ঘটনাটি তিনি এখন জনসমক্ষে আনতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। এত দিন আমেরিকান মিডিয়া ইনকরপোরেশনের (এএমআই) সঙ্গে চুক্তি থাকায় তিনি মুখ খুলতে পারেননি।

ট্রাম্প টাওয়ারের সাবেক ওই দ্বাররক্ষীর নাম ডিনো সাজুদিন। তাঁর আইনজীবী মার্ক হেল্ড গতকাল শুক্রবার বলেন, এএমআইয়ের সঙ্গে থাকা চুক্তি থেকে তাঁর মক্কেল মুক্তি পেয়েছেন। এএমআইয়ের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর তাঁকে মুখ খুলতে অনুমতি দেওয়া হয়।

সিএনএনের হাতে এএমআই ও সাজুদিনের মধ্যকার চুক্তির বিশেষ কপি রয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর ওই চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে বলা হয়, সাজুদিনের বিশেষ তথ্যের ওপর স্বত্ব রয়েছে এএমআইয়ের। তবে ওই তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা নেই। শুধু বলা হয়েছে—, সোর্স হিসেবে সাজুদিন এএমআইকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবৈধ সন্তান সম্পর্কে তথ্য জানাবে।

ওই চুক্তি অনুযায়ী, এএমআই বিশেষ খবর প্রকাশ করলে সূত্র হিসেবে ৩০ হাজার ডলার পাবে আর কাহিনি প্রকাশ না হলে কিছু পাবে না। ওই চুক্তির তৃতীয় পাতায় লেখা, এক মাস পরে দুই পক্ষ একটি সংশোধনী সই করে। তাতে বলা হয়, এক সপ্তাহের মধ্য সাজুদিন ৩০ হাজার ডলার পাবেন। চুক্তির বিশিষ্ট সময় বাড়ানো হলো। ওই সংশোধনীতে বলা হয়, চুক্তি ভঙ্গ করলে সাজুদিনের ১০ লাখ মার্কিন ডলার জরিমানা হবে।

সাজুদিন বলেছেন, এএমআইয়ের চুক্তির কারণে তিনি চুপ থাকতে বাধ্য ছিলেন। সম্প্রতি তাঁকে ওই চুক্তি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি এখন তাঁর অভিজ্ঞতা জানাতে পারবেন। শিগগিরই সত্যটা প্রকাশ করবেন তিনি।

গত এপ্রিল মাসে সিএনএনকে সাজুদিন বলেছিলেন, ট্রাম্পের গৃহপরিচারিকার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের ফলে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনা সম্পর্কে তিনি জানেন। ওই সময় এএমআই সাজুদিনের গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে এবং ট্রাম্প ও তাঁর ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেনের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র থাকার কথা অস্বীকার করে।

গত এপ্রিল মাসের ওই ঘটনার বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। এএমআইয়ের সঙ্গে বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে সিএনএন চেষ্টা করে। কিন্তু এএমআই তাতে সাড়া দেয়নি।

সাজুদিনের অভিযোগের বিষয়টি স্বাধীনভাবে বা অন্য কোনো উৎস ব্যবহার করে যাচাই করতে পারেনি সিএনএন।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেন গত মঙ্গলবার আদালতে ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় দুই নারীকে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অর্থ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে তিনি একজন পর্নো তারকার মুখ বন্ধ রাখতে অর্থ জুগিয়েছেন—এ কথা স্বীকার করে কোহেন জানিয়েছেন, কাজটা তিনি করেছেন ট্রাম্পের নির্দেশে।

 

কিউএনবি/বিপুল/২৫শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৭:৪১