১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | বিকাল ৩:২১

চৌগাছায় টিন শেডে ক্লাশ করছে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টি এলেই স্কুল ছুটি

 

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছা উপজেল প্রকৌশলী ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিশু শিক্ষার্থী চারিদিকে খোলা টিন শেডের নিচে ক্লাস করছে। এ অবস্থায় সামান্য রোদ ও বৃষ্টি হলেই স্কুল ছুটি দিতে হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দেয়ার পর ঠিকাচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণের জায়গার জন্য পুরাতন ভবণ ভেঙ্গে অপসারণও করা হয়েছে। চুক্তি মোতাবেক ভবণ নির্মাণের মেয়াদ জুন মাসে শেষ হয়েছে। ঠিকাচুক্তির মেয়াদ শেষে নির্মাণ সামগ্রীমূল্য বেশির অযুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন কাজ না শুরু করেই ছেড়ে দেয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। পুরাতন জরাজীর্ণ স্কুল ভবণ ভেঙ্গে বিক্রি করার পর এখন খোলা আকাশের নিচে ক্লাশ করতে বাধ্য হচ্ছে উপজেলার পাঁচনমনা বেড়বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তাহেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ফলে সামান্য বৃষ্টি বা অতিরিক্ত রোদ ড়লেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের অবহেলার কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান বলছেন ঠিকাদার কাজ করতে না চাওয়ায় ঠিকাচুক্তি অনুযায়ি তাদের জামানতের টাকা বাজেয়াপ্তের সুপারিশ করা হয়েছে। এমন অবস্থায় স্কুল দুটির ভবণ নির্মাণ কবে শুরু হবে অথবা আদৌ ভবণ নির্মাণ হবে কিনা সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দুটি’অফিসের কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তিই এ বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে এবিষয়ে তথ্যের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী রাশিদুল হাসানের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি কোন প্রকার সহযোগিতা করেননি।

পজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, প্রকৌশল অফিস ও সংশ্লিষ্ট স্কুল দু’টির শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৩) অধীনে স্কুল দুটি’র নতুন ভবণ নির্মাণের জন্য গত জানুয়ারী মাসে দরপত্র আহবান করা হয়। স্কুল প্রতি বরাদ্দ ছিল ৭৬ লাখ টাকা। সেখানে বেশ কয়েকজন ঠিকাদার অংশগ্রহণ করেন। সর্বনি¤œ দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঝিনাইদহের মহেশপুরের চৌধুরী কনস্ট্রাকশন বিদ্যালয় দুটির নতুন ভবণ নির্মাণের দায়িত্ব পায়। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ঠিকাচুক্তিও সম্পন্ন করে। ঠিকাচুক্তি অনুযায়ী চার মাসের মধ্যে বিদ্যালয় দু’টির নতুন ভবণ নির্মাণ কাজ সমাপ্তের কথা ছিল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কোন কাজ না করে সম্প্রতি ভবণ নির্মাণ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে স্কুল দুটির নতুন ভবণ নির্মাণের স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয় যেখানে স্কুলের পুরাতন ভবণ ছিল। সে সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দরপত্র আহবানের মাধ্যমে পুরাতন ভবণ দু’টি বিক্রি করে দেন। পুরাতন ভবণ ক্রয়কারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত মার্চ মাসেই বিদ্যালয় দুটির পুরাতন ভবণ ভেঙ্গে নিয়েছে। ফলে স্কুলের খেলার মাঠে অস্থায়ীভাবে বাঁশের উপর টিনদিয়ে সেখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ নেয়া হচ্ছে। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীরা ভিজে যাওয়ার ভয়ে স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হচ্ছে। আবার একটু বেশি রোদ-পড়লেই টিনের এই অস্থায়ী শেডে অতিরিক্ত গরমে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ায় ছুটি দিতে হচ্ছে। ফলে পুরো শিক্ষা-বছর জুড়েই ঠিকমত শিক্ষার্থীদের ক্লাশ-পরীক্ষা নেয়া যাচ্ছেনা।

অভিভাবকদের দাবি এতে তাদের সন্তানরা শিক্ষায় অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে। কেউ কেউ এই দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের সন্তানদের সরিয়ে অন্য স্কুলেও নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তাহেরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মৃধা জানান, আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে খোঁজ নিতে গেলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে খোঁজ নিতে পরামর্শ দেন। প্রধান শিক্ষক শাহা আলম মৃধা তখন বলেন উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের লোকজন তাদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চায়নি। তিনি আরো জানান, খোঁজ নেব কি করে? আমার নিকট ভবণ নির্মাণের জন্য ড্রইং-ডিজাইন কিছু দেয়া হয়নি। এখন লোকমুখে শুনছি ঠিকাদার কাজ করবেন না। শিক্ষা কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন উপজেলা প্রকৌশলীর অবহেলাতেই ভবণ দু’টি নির্মাণ হলোনা। তিনি সংবাদ কর্মীদের কাছে অনুরোধ করেন বিষয়টি নিয়ে যেন পত্রিকায় লেখা হয়।

এ ব্যাপারে পাঁচনামনা বেড়বাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন, আমার স্কুলে ১শ ১৯ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের ভবণ ভেঙ্গে ফেলায় পরিত্যাক্ত টিন ও বাঁশ দিয়ে গোজামিলে একটি অস্থায়ী অফিস কক্ষ, ৩টি ক্লাস রুম তৈরি করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাস রুমে পানি ঢোকে এবং জরাজীর্ণ টিন দিয়ে পানি পড়ে। ফলে বৃষ্টি হলেই বা বেশি গরম পড়লেই স্কুল ছুটি দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এ সকল কারণে বর্তমানে দিন দিন স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী রাশিদুল হাসানের দপ্তরে একাধিকবার ধর্ণা দিলেও তিনি অফিসের কাজে বাইরে আছেন বলা হয়। ৯ গস্ট নিজ দপ্তরে তাঁকে পাওয়া গেলে তিনি বলেন, ঠিকাদার কাজ করতে না চাইলে আমার কি করার আছে ? এর বেশি কোনো কথা বলতে চাননি তিনি। ফাইল না দেখে কিছুই বলতে পারবনা ফাইল দেখতে বললে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে এড়িয়ে যান।

 

 

কিউএনবি/অায়শা/২৫শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:২৩