১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:২৭

জয়পুরহাটে চামড়ার বাজারে ধ্বসঃ মহা বিপাকে ব্যবসায়ী ও হত দরিদ্ররা

 

মিজানুর রহমান মিন্টু জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটে এবারে বাজার ধ্বসের শিকারে পরিনত হয়েছে কোরবানীর পশুর চামড়া। গত বছরের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ দামে চামড়া বেচা-কেনা চলছে জেলার বাজারগুলোতে। এর কারনে ট্যানারী মালিকদের কাছে চামরা ব্যবসায়ীদের বকেয়া পাওনা থাকায় পূঁজি সংকটকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে চাহিদা না থাকায় চামরা বাজারে ধ্বসের শিকারে দিশেহারা মধ্যস্বত্ত ভোগী ফরিয়ারাও। আর বছরে একবার যে হত দরিদ্র মানুষগুলো চেয়ে থাকে চামড়ার টাকার আশায়, তাদের ভাগ্যেও জুটবে না কাংখিত অর্থ।

জানাগেছে, জয়পুরহাটের বাজারগুলোতে যেন অবহেলায় গড়াগড়ি খাচ্ছে কোরবানীর পশুর চামড়া। চাহিদা নেই তাই দামও কম। গত কয়েক বছর জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিটি ছাগলের চামরা বিক্রি হয়েছিল ২/৩’শ টাকায় আর প্রতিটি গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছিল দেড় থেকে দুই হাজার টাকায়, সেখানে এ বছর কোরবানীর খাসির চামরা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ টাকায় আর গরুর চামরা ২শ থেকে ৫শ টাকায়। এতে করে বঞ্চিত হবেন হত দরিদ্র মানুষগুলো, যারা বছরে একবার চেয়ে থাকেন এ চামড়া বিক্রির টাকার আশায়।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাদোয়া গ্রামের আক্কাস আলী, কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের গোলাম রব্বানী, ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকজন এমন মন্তব্য করে আরো জানান, বিগত দশ বছরের মধ্যে চামড়া এমন মন্দা বাজার কখনো দেখা যায়নি।

এদিকে এবারে চামড়ার বাজার ধ্বসের কারনে লোকশানের শিকার জেলার কমবেশী সকল মৌসূমী ব্যবসায়ীরা। জয়পুরহাট জেলা শহরের নতুনহাট এলাকার ইদ্রিস আলী, জামালগঞ্জ বাজারের পাপ্পু মিয়াসহ মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানীর চামড়ার এই আকস্মিক দর পতনে দিশেহারা মধ্য স্বত্তভোগী মৌসূমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। এই মৌসুমী ফরিয়ারাও প্রতি বছরই ২/১ দিনের এই ব্যাবসায় থাকেন ভালো লাভে, যা দিয়ে বেশ ক’ মাস চলেন স্বচ্ছল ভাবে। তবে এ বারের কোরবানীর বাজারে দর পতনে লোকশান গুনতে হচ্ছে বলে তারাও আছেন মহাবিপাকে। নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক অনেক ফরিয়া জানান, যদি সিমান্ত খোলা থাকত তাহলে ভারতে চামরা গেলে তাতেও তারা দু’ পয়সা হলেও লাভের মুখ দেখতেন। সিমান্তে কড়া নজরদারীর জন্য সে আশায়ও গুড়ে বালি বলেও মন্তব্য তাদের।

চামড়ার বাজারে এমন নজির বিহীন ধ্বসের জন্য পূঁজি সংকট, রপ্তানী না হওয়া ও ট্যানারী মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা ইত্যাদি কারন উল্লেখ করেন স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা। জয়পুরহাট শহরের আলতাফ হোসেন ও সরদার নবাব চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, সরকার নির্ধারিত মূলে চামড়া ক্রয় করছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন ট্যানারী মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। টাকা না থাকায় তারা কিনতে পারছেন না কাংখিত পরিমান চামড়া। ফলে বাজারে চাহিদা কম থাকায় চামড়া মূল্য স্বাভাবিক কারনে কমে গেছে।

অন্যদিকে চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের টহল বাড়ানো হয়েছে। এতে করে দেশের স্থানীয় বাজারেই আপাতত চামড়া বেচা-কেনা চলছে বলে চাহিদা খানিকটা কম হওয়ায় দর পতন হয়েছে বলেও দাবী চামড়া ব্যবসায়ীদের। এ ব্যপারে জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ মোহাম্মদ আনিসুল হক জানান, জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে সীমান্ত এলাকা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২২ কিলোমিটার এলাকা তারকাঁটায় ঘেরা, বাকি ১৮ কিলোমিটার সীমান্তে তারকাঁটা নেই।

চোরাকারবারিরা মূলত এই জায়গাটিকেই তাদের পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তাই এই জায়গাগুলো সবসময় নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। চামড়া পাচার রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা। চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে হলে রপ্তানী বাড়ানোর পাশাপাশি চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানরী মালিকদের সহজ শর্তে ঋন সুবিধার দাবী জানিয়েছেন এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

 

 

কিউএনবি/অায়শা/২৫শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা ৬:১৬