১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১০:৫১

গণহত্যার বিচারের দাবিতে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

 

ডেস্কনিউজঃ মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেদেশের সেনা কর্তৃক হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের এক বছর পূর্ণ হওয়ায় ২৫ আগস্টকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করছেন বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা।

এ উপলক্ষে ২৫ আগস্ট শনিবার সকালে টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলোতে বিক্ষোভ করেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা।

এদিন সকাল ৯টায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এতে হাজার হাজার শরণার্থী অংশ নেন। তাদের হাতে থাকা প্লেকার্ডে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ধর্ষণের বিবরণ তুলে ধরেন।

মিছিল শুরুর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শালবন প্রধান মসজিদে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন রোহিঙ্গা নেতা জাকারিয়া।

মিয়ানমার সরকারের বিচার, নাগরিকত্ব ও নিরাপদে নিজভূমিতে ফেরার পরিবেশ তৈরিসহ বিভিন্ন দাবির কথা বলেন তিনি। জাকারিয়া বলেন, দাবিগুলো পূরণ হলেই তারা নিজ দেশে ফেরত যাবেন।

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। এছাড়া সেনা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও উখিয়া টেকনাফের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলেও এভাবে অনিশ্চিত ভাসমান অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকতে চান না তারা।

কুতুপালংয়ে বিক্ষোভে অংশ নেয়া ৪০ বছর বয়সী শরণার্থী মোহাম্মাদ হোসেইন এএফপিকে বলেন, আমরা ২৫ আগস্টকে স্মরণ করতে এখানে এসেছি। আমরা ন্যায়বিচার চাই।

তিনি বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে তাদেরকে বলছি। আমরা খুবই হতাশ, কারণ আমরা আমাদের জন্মভূমিতে থাকতে পারছি না। সবাই ন্যায়বিচার চায়, বিশ্বকে আমরা সে কথা জানাতে চাই।

আরেক বিক্ষোভকারী নুর কামাল বলেন, আমরা গণহত্যার শিকার হয়েছি। গত বছরের ২৫ আগস্ট আমরা মিয়ানমারে গণহত্যার শিকার হয়েছি। আমরা বিচার চাই।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, অনুমতি সাপেক্ষে রোহিঙ্গারা প্রতিবাদ সমাবেশ ও শোক পালন করছেন। তবুও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে গত বছরের আগস্ট থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। জাতিসংঘ যেটাকে জাতিগত নিধনের জলন্ত উদহারণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের এই ঢলে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নতুন করে হুমকিতে পড়েছে। দেশটির নেত্রী নোবেলজয়ী অং সান সুচির ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক রিচার্ড হোরসেই বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে বিশ্বে মিয়ানমারের অবস্থান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পশ্চিমা মিত্ররা একসময় সুচিকে দেশটির গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধে তিনি কোনো উদ্যোগ নিতে অস্বীকার করায় তাকে সমালোচিত হতে হয়েছে। তার সরকারকে সেই সঙ্গে নানামুখী চাপ সামলাতে হচ্ছে।

এমনকি রাখাইনে হত্যা, ধর্ষণ ও জ্বালাওপোড়াওয়ের যেসব অভিযোগ উঠেছে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সুচি তা অস্বীকার করছেন। বরং তিনি বাংলাদেশকে উল্টো চাপে রাখার কৌশল বেছে নিয়েছেন। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে দেয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করার বিষয়টি বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করছে।

 

কিউএনবি/বিপুল/২৫শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/ দুপুর ২:২৩