২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:১৮

নতুন সংকটে পড়বে বিএনপি

নিউজ ডেস্কঃ  ‘সংকটে থাকা’ বিএনপিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নতুন করে সংকটে ফেলবে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, সেপ্টেম্বরে রায়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কারণেই বিএনপি নেতারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

১৪ বছর আগে এই হামলায় নিহত আইভী রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে চালানো হামলায় নিহত হন মোট ২২ জন। আহত হয় কয়েকশ নেতা-কর্মী।

হামলার দিন পা উড়ে যাওয়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান ২৪ আগস্ট। আর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে আজ শুক্রবার (২৪ আগস্ট) সকালে বনানী কবরস্থানে যান ওবায়দুল কাদের।

হামলার ১৪তম বার্ষিকীতে গত মঙ্গলবার প্রথানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হামলার পর নানা ঘটনা তুলে ধরে বলেছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান এই হামলায় জড়িত।

এই মামলায় রাষ্ট্রপতি যে ৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে তাদের মধ্যে তারেক রহমানও আছেন। আর রায়ের আগে আগে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য রায়কে প্রভাবিত করবে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি তো বুঝতে পারলাম না, কীভাবে, কী প্রভাব পড়বে। আজকে আমিসহ ৫০০ জন তো এখনও পঙ্গু; কেউ অর্ধপঙ্গু কেউ পুরো পঙ্গু এখনও আছে, হুইল চেয়ারে চলে। এই হত্যাকাণ্ডের কি বিচার হবে না?’

‘এখানে তাদের কেন গায়ে জ্বালা? কারণ, তারাই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।’

হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক, ক্ষমা পাবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বিচারের রায় আমরা প্রভাবিত করতে চাই না, নিরপেক্ষ বিচার হচ্ছে, স্বাধীন বিচার হবে। বিচারে যারাই দোষী সাব্যস্ত হবে, শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’

কাদের বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে রায় হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ কথা শুনেই তো বিএনপি এখন এ নিয়ে চিন্তিত। এটা আবার তাদেরকে নতুন করে রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেবে। তারা এমনিতেই সংকটে আছে।’

বিএনপির পরিকল্পনায়, তাদের নির্দেশনায়, তাদের নিয়োগ করা, তাদের ভাড়া করা ‘পলিটিক্যাল কিলারস’ এই হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কাদের।

বলেন, ‘বিএনপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে, হাওয়া ভবনের সরাসরি পরিকল্পপনা এবং নির্দেশনায়।’

নৃশংস ওই হামলার পর হামলাকারীদের বাঁচাতে জজ মিয়া নামে নির্দোষ একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। আলামত গোপন করার পাশাপাশি হামলাকারীদেরকে গোপনে দেশ ছাড়তে সহযোগিতাও করে সে সময়ের সরকার। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তদন্তে সব প্রকাশ হয়।

এই হামলার তদন্ত হয়েছে তিন দফা। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তদন্তে জজ মিয়াকে প্রধান আসামি করে প্রতিবেদন দেয়া হয়। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২২ জনের বিচার শুরু হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অধিকতর তদন্তে আসামি হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জন।

বহুল আলোচিত এই মামলার বিচার একেবারেই শেষ পর্যায়ে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে রাষ্ট্রপক্ষের এক দিনের আইনি যুক্তি চলবে। এরপর আসবে রায়ের তারিখ।

কাদের বলেন, ‘বিএনপি তো আলামত পুড়িয়ে ফেলেছে, এফবিআইকে তদন্ত করতে দেয়নি, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে আসতে দেয়নি এবং জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে।’

‘এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে, এই নৃশংস গ্রেনেড হামলা যা রক্তস্রোত বইয়ে দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। এর বিচার তো তারা করেনি, প্রহসনমূলক একটা তদন্ত কমিটি করেছিল। সে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ছিল হাস্যকর।’

‘এখন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হচ্ছে দেশের মানুষ খুশি। বিএনপি শুধু অখুশি, কারণ এই হত্যাকণ্ডের সঙ্গে মঞ্চের নেপথ্যে বিএনপির নেতারা জড়িত।’

বিএনপির দাবি পূরণ না হলে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হতে না দেয়ার বিষয়ে দলের নেতাদের বক্তব্যেরও প্রতিক্রিয়া জানান কাদের। বলেন, ‘তারা প্রতিহত করবে কি নির্বাচন? জনগণই এবার প্রতিহত করবে, তাদের পাল্টা প্রতিহত করবে।’

আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের নামে প্রতারণা করছে বলে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘তারা যা করেছে প্রতারণা গণতন্ত্রের নামে, সেটাই এখন আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপাচ্ছে।’