২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১:১৩

জাজিরায় প্রতিপক্ষের বাড়ীঘরে হামলার ঘটনায় ৩মাসের শিশু আহত

 

রশেদ আলম বাবুল শরীয়তপুর প্রতিনিধি : পূর্ব শত্রুতার জেরে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়ীঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মায়ের কোলে থাকা তারেক নামে ৩ মাসের শিশু হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়েছে। আহত শিশু তারেক ও তার মাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকরীদের দাবী তাদের ফাঁসাতে পরিকল্পিত ভাবে শিশুটির মাথা ফাটানো হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে শরীয়তপুরের জাজিরা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের চর-রাড়ী কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জাজিরা থানায় মামলার পস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাজিরা থানা পুলিশ দু‘জনকে আটক করেছে। জাজিরা থানা ও ক্ষতিগ্রস্থ জাহাঙ্গীর ভুইয়া জানান, জাজিরা পৌরসভার চর রাড়ী কান্দি গ্রামের জাহাঙ্গীর ভুইয়া ও প্রতিবেশী জাহেদ আলী ফকিরদের জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। জাহাঙ্গীর ভুইয়া পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় বসবাস করে। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানী করার জন্য বাড়ীতে আসে।

এদিকে একই গ্রামের সাবেক কাউন্সিলর করিম মাদবর ও সোবাহান মাদবরদের সাথে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এই দুই পক্ষের যুবকদের মধ্যে স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে আজ শুক্রবার সকালে ঝগরা হয়। এ ঝগরার জের ধরে সাবেক কাউন্সিলর করিম মাদবরের সর্মথকরা ৪/৫টি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে সোবাহান মাদবরের বাড়ীসহ তার সমর্থকদের আরো ৩টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও তছনছ করে।  

এ সুযোগে জাহাঙ্গীর ভুইয়ার প্রতিপক্ষ জাহেদ আলী ফকির কাউন্সিলর করিম মাদবরের সহযোগিতায় জাহেদ আলী ফকিরের নেতৃত্বে জুম্মন ফকির, সোহাগ ফকির, সাহেদ আলী ফকির, শাহ আলম ফকির, মকবুল ও মেহেদী ফকিরসহ অন্তত ২৫/৩০ জনের সংঘবদ্ধ একটিদল দেশীয় অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে জাহাঙ্গীর ভুইয়া ও তার ভাই আলমগীর ভুইয়ার বাড়ীতে অতর্কিতে হামলা চালায়।

হামলাকারীরা জাহাঙ্গীর ভুইয়ার ঘরে থাকা নগদ টাকা, একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর সহ ঘরে থাকা সকল কিছু লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের। হামলাকারীরা জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর ভুইয়ার স্ত্রী ঝর্না বেগমকে মারধর করার সময় হামলাকারীদের অস্ত্রের আঘাতে ঝর্ণা বেগমের কোলে থাকা ৩ মাসের শিশু তারেক মাথায় মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন তাৎক্ষনিক শিশু তারেক ও তার মা ঝর্ণা বেগমকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।

এদিকে জাহেদ আলী ফকিরের দাবী তারা শিশুটি ও তার মাকে মারধর করেনি। তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য নিজেরা পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে জাজিরা থানার ওসি। এ ঘটনায় জাজিরা থানা পুলিশ করিম মাদবর ও সোবাহান মাদবরকে আটক করেছে। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করেছি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/সন্ধ্যা  ৭:০০