১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১২:৩৫

দাম কমেছে, তবুও মিলছে না ক্রেতা

 

ডেস্কনিউজঃ মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ঈদ। এখনও রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে রয়েছে পর্যপ্ত পশু। তাই এ সময়ে লাভ যাই হোক, গরু বিক্রির জন্য দাম ছেড়েছেন ব্যাপারিরা। কিন্তু দাম কমার পরও মিলছে না প্রত্যাশিত ক্রেতা। এতে ব্যাপারিরা পড়েছেন বিপাকে। ফলে ব্যাপারিরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বিক্রি করতে। এ কারণে কেউ কেউ এক হাট থেকে অন্য হাটে গরু নিয়ে যাচ্ছেন শেষ সময়ে বিক্রির জন্য।

রাজধানীর তেঁজগাও পলিটেকনিক পশুর হাট ও সাদেক হোসেন পশুর হাটে সরেজমিনে গিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। আবার আফতাব নগর ও গাবতলীতে এখনও আসছে কোরবানির পশু। সেসব হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকায় দাম কমেছে। সেই সঙ্গে জমে উঠেছে বিক্রি। কিন্তু কিছু কিছু হাটে ক্রেতার পদচারণা কমে গেছে। এতে ব্যাপারিদেরকে নির্দিষ্ট হাট থেকে ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে এমন হাটে পশু নিয়ে যেতেও দেখা গেছে।

ব্যাপারিরা বলছেন, এতোদিন বাড়তি দাম দিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম একটু লাভের আশায়। কিন্তু এখন তো হাতে তেমন সময় নেই। ক্রেতারা যেমন আজকে শেষ দিন মনে করে গরু কিনবেন, আমরাও তেমন শেষ দিন মনে করে গরু বিক্রি করতে চাই। কিন্তু আজকে শেষ দিনে এসে বিক্রি একেবারেই কমে গেছে। অথচ দামও কমেছে আগের দিনের চেয়ে অনেক বেশি। আগে যেটি ছিল ১লাখ এখন সেটি ৭০ হাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তারপরও মিলছে ক্রেতা।

সরেজমিনে দুপুর ১টার দিকে তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, একই সঙ্গে পাঁচটি পশুবাহী ট্রাকে কয়েক জোড়া গরু তোলা হচ্ছে। দূর থেকে দেখে মনে হবে সেগুলো হয়তো বিক্রয় হয়ে গেছে সেজন্য ট্রাকে হচ্ছে। কিন্তু কাছে গিয়ে জানা যায়, সেগুলো বিক্রয় হয়নি। উল্টো হাটে দুদিন রেখেও কোনো ক্রেতা না মিলায় এখন অন্য হাটে নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। টার্গেট আজকের মধ্যেই পশু গুলো বিক্রি করবেন। এজন্য ব্যাপারিদের কারো কারো মধ্যে বেশ উদ্বেগও লক্ষ্য করা গেছে।

পুরান ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে তেঁজগাও পশুর হাটে গতকাল ১২টি ছোট সাইজের গরু এসেছেন আলমগীর ব্যাপারি। কিন্তু একটাও বিক্রি হয়নি। তাই তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সারাবাংলাকে বলেন, গতকাল এসেছি এ হাটে। একটাও বিক্রি হয়নি। তাই এখন কেরানীগঞ্জ চলে যাচ্ছি। সেখানে স্থানীয় হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে যাব। আমার মত অনেকেরই একেই অবস্থা। ওই যে দেখতেছেন সবাই ট্রাকে তুলতেছে। এগুলো একটাও বিক্রি হয়নি।

তিনি বলেন, গরু না নিয়ে কোনো উপায় আছে? হাটে সারারাত গরু ভিজছে। সকালে কোনো মানুষই মুলাচ্ছে না। তাহলে এখানে রেখে কী করবো। উপরে ছাউনি ছিল কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ছাউনি ছিল তবুও পানি পড়েছে। ছাউনি তো কাপড়ের ছিল তাই। পলিথিনের ছিল না।

অপর এক ব্যাপারি মাজেদ মিয়া সারাবাংলাকে বলেন, মাগুরা থেকে ১১টা গরু নিয়ে পরশু দিন এসেছি। একটাও বিক্রি হয়নি। তো শুনেছি পাশের আফতাব নগর হাটে নাকি ভালো বিক্রি হয়। সেখানে আমার আরেক ভাই একই সঙ্গে গরু এনেছিল। তারগুলে বিক্রি হয়ে গেছে। তাই আমার গুলোও সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাকে তুলছি।

এদিকে, আফতাব নগর হাটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সেখানে প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের অসংখ্য কোরবানির পশু। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষ করে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা আফতাব নগরে এসেছেন পশু কিনতে। পুরান ঢাকার অনেককে পশু কিনে নিয়ে বাড়ি যেতেও দেখা গেছে। অথচ তাদের পাশে ধুপখোলা পশুর হাট, সাদেক হোসেন খেলার মাঠ পশুর হাট গোলাপবাগ এবং শনির আখড়া পশুর হাট ছিল। কিন্তু সেগুলোতে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও দামে মিল ছিল না বলে সেসব দিকের অধিকাংশ বাসিন্দারা আফতাক নগর থেকে কোরবানির পশু কিনতে এসেছিলেন।

এ হাটে সব ধরণের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পশু রয়েছে বলেলে জানালেন হাট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বরতরা। সেখানে ছোট বড় এবং আকর্ষণীয় হতে শুরু করে বাজার সেরা গরুও রয়েছে বলে জানান তারা। যেকারনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গতকয়েক বছর ধরে এ হাটে পশু কিনতে ভিড় করেন ক্রেতারা।

পুরান ঢাকার বাসিন্দা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৫ ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মোঃ আবু সাঈদ নিজেও আফতাব নগর পশুর হাট থেকে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে কোরবানির পশু কিনেছেন তিনি।

তিনি সারাবাংলাকে বলেন, বাসার পাশের হাটগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী গরু না পাওয়ায় আফতাব নগরে এসেছি। এখানে এসেছে পছন্দ মতো গরু পেয়ে কিনে ফেলেছি। চার লাখ টাকা দাম চেয়েছিল। আড়াই লাখ টাকা দিয়ে কিনেছি।

অপর এক ক্রেতা রাশেদ জামান শনির আখড়া থেকে এ হাটে এসে দুইটা গরু কিনেছেন তিন লাখ টাকায়।  তিনি  বলেন, আমাদের শনির আখড়ার হাটে পছন্দের গরু না পেয়ে এ হাটে আসলাম। এখানে পছন্দের দুইটা গরু কিনেছি আমরা তিনজনে। দূর থেকে গরু কিনতে কষ্ট হয়না? এমন প্রশ্নে তিনি হেসে বলেন, কষ্ট হলেও কোরবানের পছন্দের গরু নিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় কষ্ট আর লাগে না।

 

কিউএনবি/বিপুল/২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ৯:৫৮