১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ১২:৫৪

নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন অধিকাংশ আ.লীগ নেতা

 

ডেস্কনিউজঃ  ঈদের মাঠে বইছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটের হাওয়া। আর কয়েক মাস তথা ডিসেম্বরেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই টানা মেয়াদে ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকেই আগেভাগেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় চলে গেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া বাকিরা নেতাদের অধিকাংশই ঈদুল আযহা তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকাসসহ আশপাশের বিভিন্ন এলকায় জনগণ ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আগামীকাল তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মী, বিচারক ও বিদেশি কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দলীয় নেতা-কর্মী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী একই স্থানে বেলা ১১টায় বিচারক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিদেশি কূটনীতিক, সিনিয়র সচিবগণ এবং সচিব পদমর্যাদার বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

এদিকে ঈদকে ঘিরে জমে উঠেছে নির্বাচনী রাজনীতি। এখনো যারা ঢাকায় অবস্থান করছেন তারাও ঢাকায় ঈদ করে নিজ এলাকায় রওনা দেবেন।

দলের নেতা ও তাদের ব্যক্তিগত সহকারীরা সারাবাংলাকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি নেতাদের ঈদ নির্বাচনী তৎপরতার কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্যদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ঈদ করবেন ঢাকায়।

এ ছাড়াও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আব্দুর রাজ্জাক, কাজী জাফরউল্লাহ নিজ নিজ এলাকায় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। তবে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অসুস্থতাজনিত চিকিৎসার কারণে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ঈদ কাটবে। সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য ঈদ করবেন যশোরের মনিরামপুরে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার দুপুরে তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে গেছেন। তিনি ঈদ পালন করে ওইদিনই ঢাকায় ফিরতে পারেন। কোম্পানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

ঈদ করবেন নিজ নির্বাচনী এলাকায়। তবে ঢাকায় ঈদ করবেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলির আরেক সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু। উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক এম্বাসেডর জমিরও ঢাকায় ঈদ করবেন। উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য রাশিদুল আলম ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায় করে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

এদিকে যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ পবিত্র হজ করতে সৌদি আরব গেছেন। তিনি সেখানেই ঈদ করবেন। আরেক যুগ্মসাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা। তাই তিনি ঢাকায় ঈদ করবেন। তিনি ঈদের দিন সকালে মোহাম্মদপুরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। যুগ্মসম্পাদক আব্দুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরে ঈদ করবেন। ডা. দীপু মনিও ঈদ করবেন ঢাকায়।

সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম তার নির্বাচনী এলাকা মাদারীপুরের কালকিনিতে ঈদ করবেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সবসময় তৃণমূলের মানুষের পাশে থেকে রাজনীতি করে। তাই যেকোনো উদযাপনে এলাকার মানুষ আমাদেরকে তাদের পাশে চায়। জনগণ চায় তাদের প্রতিনিধিও যেন একসঙ্গে ঈদের নামাজ পড়ে, তাদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করে, তাদের সুখ-দুঃখের তাদের পাশে থাকে। সে কারণে আমি প্রতিবারই ঈদ আমার এলাকার মানুষের সঙ্গেই করি। আমার এলাকার মানুষের একটি দুঃখ ছিল যে আগে যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন তারা তাদেরকে যেকোনো উদযাপনে কখনোই পেতেন না, আমি চেষ্টা করি তাদের সুখে দুখে সব সময় পাশে থাকার।’

সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় ঈদ করবেন। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী তার নির্বাচনী এলাকা দিনাজপুরে ঈদ করবেন। আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ঈদ করবেন জয়পুরহাটে, বিএম মোজাম্মেল হক শরীয়তপুরে, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রামে।

দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ মাদারীপুরে ঈদ করবেন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন ঈদ করছেন পটুয়াখালী সদরে। ঈদের সপ্তাহখানেক আগে থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন এবং এলাকার মানুষকে সময় দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর ঈদ করবেন কুমিল্লায় তার নির্বাচনী এলাকায়। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ তার নিজ এলাকা রাঙ্গুনিয়া, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ঈদ করবেন। আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ঈদ করবেন গোপালগঞ্জে। বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ঈদ করবেন ঢাকায়।

শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা ঈদ করবেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা ঈদ করবেন ঢাকায়, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক টিপু মুন্সি ঢাকায় ঈদ করবেন। আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ঈদ করবেন তার জন্মস্থান চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। আর উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ঢাকায় ঈদ করবেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে আমিরুল আলম মিলন ১৪ আগস্ট ঢাকা ছাড়েন। তিনি ১৫ আগস্ট গোপালগঞ্জে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করে নিজ নির্বাচনী এলাকায় রয়েছেন। এস এম কামাল হোসেনও নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। এ ছাড়াও ইকবাল হোসেন অপু, আনোয়ার হোসেন, এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওসার, মারুফা আক্তার পপিসহ নেতাদের অধিকাংশই তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন।

 

কিউএনবি/বিপুল/২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/রাত ৯:৩৫