১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ১১:৫৫

আংগারিয়া খাদ্য গুদামের চাল খাওয়ার অযোগ্যঃ গ্রহণ করেনি ভিজিডি কার্ডধারীরা

 

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ডধারীদের জন্য আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে চাল পাঠানো হয়। খাওয়ার অযোগ্য বলে সে চাল গ্রহন করেনি ভিজিডি কার্ডধারীরা। চাল দেখে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাথা নষ্ট। এছাড়া প্রতি বস্তায় ২ কেজি করে চাল কম রয়েছে। তাই কার্ডধারীরা এই চাল নিচ্ছেননা।

জানা যায়, বিনোদপুর ইউনিয়নে ১৬৩ জন ভিজিডি কার্ডধারী দরিদ্র পরিবার রয়েছে। প্রতিমাসে তাদের জন্য ৩০ কেজি করে চাল বরাদ্ধ দিয়েছে সরকার। জুলাই ও আগষ্ট এই দুই মাসের ৩০ কেজি করে মোট ৩২৬ বস্তা চাল এসেছে। চাল আসার খবর পেয়ে সোমবার সকালে কার্ডধারীরা চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে এসে দেখে চাল এতোটাই নিম্নমানের যে খাওয়ার অযোগ্য। চালের মধ্যে পোকায় ভরে গেছে। এছাড়া ৩০ কেজির বস্তায় ২ কেজি করে চাল কম রয়েছে। তাই কার্ডধারীরা চাল না নিয়ে সবাই প্রতিবাদ জানিয়ে চলে যায়। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান লিটন ও সচিব লিয়াকত হোসেন আংগারিয়া খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানায়। বিষয়টি সমন্বয় করবে বলে তারা আশ্বস্থ করেছে।

কার্ডধারী দবির মাদবর বলেন, আমাদের জন্য ভিজিডি কার্ডের যে চাল এসেছে তা অতি নি¤œমানের মানের। চালের অর্ধেকের বেশি কালো মরা দানা, পোকায় ধরে গেছে। এ চাল খাওয়ার উপযোগী না। তাই আমরা সবাই এ চাল নিবো না। আমরা সরকারের কাছে ভালো চাল দেওয়ার দাবি জানাই। ঈদের পরিবার নিয়ে যেন খেতে পারি।

কার্ডধারী শ্রীমন বেগম বলেন, আমাদের দুই মাসের চাল একসাথে এসেছে। তাও আবার নষ্ট চাল। এ চালের ভাত খাওয়া যায়না। তাই আমরা কেউ এ চাল নিবো। আমাদের ভালো চাল দিতে হবে। বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুজ্জমান লিটন বলেন, গাড়ি নিয়ে শ্রমিক পাঠিয়ে চাল নিয়ে এসেছি। চাল আনার পর দেখতে পাই খাওয়ার অযোগ্য। এগুলো গরু ছাগলেও খাবেনা। এছাড়া সবার উপস্থিতিতে চাল মেপে প্রতিটি বস্তায় ২ কেজি করে চাল কম পাওয়া যায়।

এর আগেও চাল মাপে কম হওয়ায় খাদ্য গুদামে গিয়ে বলে দিয়েছি সঠিক ভাবে চাল মেপে দিতে। তারপরেও চাল মাপে কম হচ্ছে। এই নিম্নমানের চাল কার্ডধারীরা নিচ্ছে না। তাই আমরা বিষয়টি খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাকে জানিয়েছি চাল পরিবর্তন করে খাওয়ার উপযোগী ভালো চাল দিতে।বিনোদপুর ইউনিয়নের সচিব লিয়াকত হোসেন বলেন, খাদ্য গুদামের কর্মকর্তাকে জানানোর পরে তিনি আমাদের বলেছেন, সরকার যে চাল পাঠিয়েছে, আমি সেই চালই দিয়েছি। এখন মানুষ খেতে না পারলে আমি কি করবো।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নূরে আলম সিদ্দিকি বলেন, আমি বিষয়টি জানিনা। আপনারা খাদ্যগুদামের কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।আংগারিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহে নেওয়াজ আলম বলেন, খাদ্য গুদামের চাল নিজ খরচে পরিচর্যা করি। এর পরেও যদি চাল নষ্ট হয় তাহলে কি করব। আমি বিনোদপুর ইউপি সচিবকে বলেছি, যদি কোন খারাপ চাল পরে থাকে তা সমন্বয় করব।

কিউএনবি/রেশমা/২১শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/সকাল ৮:১০