২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৮:৪০

সাংসদের উপস্থিতিতেই অধ্যক্ষকে পেটালেন আ. লীগ নেতারা

 

 

 

ডেস্কনিউজঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর উপস্থিতিতে কলেজ অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভা চলাকালে গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়েজ উদ্দিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটান নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কলেজের একাধিক সূত্র জানায়, রোববার সন্ধ্যায় গোদাগাড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। সভায় গোদাগাড়ী পৌর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গোদাগাড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পর্ষদের ওই সভায় কলেজের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে কথা ওঠে। এ সময় এসবের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ত নেই বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ আবদুর রহমান। সেই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘এমপি ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতির পরামর্শেই কলেজের সব কাজ করা হয়েছে।’

অধ্যক্ষের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ওয়েজ উদ্দিন বিশ্বাস ও তাঁর লোকজন অধ্যক্ষকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। এতে অধ্যক্ষ গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে কলেজে অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অ্যাম্বুলেন্সকে প্রথমে ঢুকতে দেননি। শেষে রাত সোয়া ৮টার দিকে অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কলেজের একাধিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি গোদাগাড়ী ডিগ্রি কলেজকে সরকারি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে কলেজকে সরকারীকরণের ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম করে অধ্যক্ষের কাছ থেকে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় অধ্যক্ষ আর ওই টাকা দেননি। এ নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক পক্ষের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর জের ধরে আজ মারধরের শিকার হন অধ্যক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী ও গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়েজ উদ্দিন বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা কেউ ফোন ধরেননি। এমনকি গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার বিলাসী গ্রামে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে লাঞ্ছিত করেন সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীর অনুসারীরা। সাংসদের বিপরীতে গণসংযোগ করতে যাওয়ায় তাঁদের ধরে পেটানো হয়। লাঞ্ছনার শিকার দুই নেতা হলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম আতাউর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য পুলিশের সাবেক ডিআইজি মতিউর রহমান।

 

কিউএনবি/বিপুল/১৯ আগস্ট২০১৮ ইং/রাত ১০:১৭