২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৮ই আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৬:৪১

শিবগঞ্জে প্রচন্ড গরমে মাছ ব্যবসায়ীসহ ৫ জনের মৃত্যু

শিবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রচন্ড অসহনীয় গরমে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মৃত ব্যক্তিরা হল- শিবগঞ্জ পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মর্দানা গ্রামের খুদু মন্ডলের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম (৪০), ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের যুক্তরাধাকান্তপুরের জামাল উদ্দিন (৫২), পাঁকা ইউনিয়নের চরলক্ষিপুরের আফসার আলীর ছেলে আবদুল মালেক (৪০), উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহনী বাজারের শামশুল হক (৭০) ও উজিরপুর ইউনিয়নের নামোটোলার লোকমান খলিফার ছেলে ইফসুফ আলী (৪০)।

জানাগেছে- গত শনিবার মোবারকপুর ইউনিয়নে অগ্রণী ব্যাংক শাখায় বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য ওই ইউনিয়নের বয়স্করা ব্যাংকের নিচে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। এক পর্যায়ে রোদের তাপ বৃদ্ধি ও অসহনীয় গরমের ফলে ত্রিমোহনীর বাজারের শামশুল হক পাশেই পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে মোবারকপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান মিঞা জানিয়েছেন।

এদিকে উজিরপুর ইউনিয়নের নামোটোলা গ্রামের (বর্তমানে পাগলা নদীর দক্ষিণে বহলাবাড়ি ঘাটের উপর বসবাসকারী) ইফসুফ আলী গত শনিবার বিকেলে তর্তিপুর গবাদি পশুর হাট থেকে কোরবানির গরু কিনে বাড়ি নিয়ে গিয়ে কিছুক্ষণ পরেই সে মারা যান। তার পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, প্রচন্ড রোদ ও গরমের কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে সে মারা যান।

অপরদিকে পৌর এলাকার মর্দানা গ্রামের শরিফুল ইসলাম শনিবার সকালে মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে প্রচন্ড গরমের কারণে সে মৃত্যুবরণ করেন বলে ওই এলাকার একাধিক সূত্রে জানাগেছে। অন্যদিকে যুক্তরাধাকান্তপুরের জামাল উদ্দিন রোববার সকাল সোয়া ৮টার দিকে গরম সহ্য করতে না পেরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পাঁকা ইউনিয়নের আবদুল মালেক গত শনিবার দিবাগত রাতে প্রচন্ড গরমে মৃত্য হয় বলে পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তবে স্থানীয়রা জানায়, সে রোগাক্রান্ত ছিল।

এদিকে শিবগঞ্জে কয়েকদিন ধরে দুপুরের দিকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রয়েছে। তবে তাপমাত্রার মাপ পাওয়া গেলেও প্রচন্ড ও অসহনীয় গরমের পরিমাপ পাওয়া যায়নি। এলাকার সকল শ্রেণির পেশার মানুষই এক বাক্যে এই প্রচন্ড ও অসহনীয় গরমের কথা স্বীকার করেছেন। ইতোপূর্বে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও এই ধরণের প্রচন্ড গরম দেখা দেয়নি। উপজেলার ফসলী মাঠ ও ঘাটে কাজ করতে পারছেনা কৃষকেরা।

অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে না। এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা অভিযোগ করে বলেন- যখন প্রচন্ড গরম ঠিক সেই সময় বিদ্যুৎ বিভাগের ঘন ঘন লোড শেডিংয়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:২৪