২০শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:৪৯

ভান্ডারিয়ায় জমজমাট কোরবানির পশুর হাট

 

মামুন হোসেন,পিরোজপুর প্রতিনিধি : দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ভান্ডারিয়ায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমজমাট হয়ে উঠছে উপজেলার দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গরুর হাট।এখানে ক্রেতাদের পদচারনায় মুখোরিত।বেলা বাড়ার সাথে সাথে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারনায় সরগরম হয় পশুরহাট।

এ হাটে ক্রেতাদের উপস্থিতি ও কেনা বেচা ব্যাপক।পোনা নদীর পশ্চিম পাড়ে এ গরুর হাট ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিয়ালকাঠীর লিয়াকত মার্কেট হতে ধাওয়া ইউনিয়নের ফুলতলা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দুই পাশে বসেছে এ হাট।জেলার ৭ উপজেলার ৫২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩০ টি স্থানে গরুর হাটের মধ্যে এই হাটটি সব চেয়ে জনপ্রিয়।এছাড়াও ১৯৮০ সাল থেকে এখানে প্রতি সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার হাট বসে আসছে।

গতকাল শনিবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় , উপজেলার শিয়ালকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত দেশী বিদেশী বিভিন্ন জাতের গরু নিয়ে পোনা নদীর পশ্চিম পাড়ে দক্ষিনাঞ্চলের এই বৃহত্তম পশুর হাটটি ১৯৮৬ সাল থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে পশু বিক্রয় এর খাজনা দিতে হয় না।এ কারনে এ হাটটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ব্যবসায়ীদের খাজনার টাকা না দেওয়ার লাভ বেশী থাকে তাই ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সকলে এ সুযোগ গ্রহন করে।

এ হাটের গরু কিনতে পিরোজপুর সদর ও ভান্ডারিয়া উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী কাউখালী, ইন্দুরকানী, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া, মঠবাড়িয়া, পাথরঘাটা এমন কি ঝালকাঠীর বিভিন্ন উপজেলার ক্রেতারা ছুটে আসেন হাটে।এদিকে জাল টাকা, দালাল, ছিনতাইকারী, পকেটমার, চাঁদাবাজ ও মলমপাট্টি ঠেকাতে পুলিশি তৎপরতা লক্ষ করা গেছে এবং জাল টাকা সনাক্তে মেশিন বসানো হয়েছে। রোগাক্রান্ত গরু বিক্রি রোধে প্রাণী সম্পদ কার্যালয় থেকে বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

ইত্যেমধ্যে উপজেলা প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসকরা হাটে বিক্রয় করার জন্য আসা ৭টি গর্ভবতি গরু চিহিৃত করেছেন বলে জানান।গরু ক্রেতা আলম ও শাহীন জানান, গতবছরের তুলনায় দাম একটু কম, ছোট- বড় ও মাঝারি আকার ভেদে প্রতিটি গরুর মূল্য সর্বনিন্ম ৪০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার এবং ওপরে ৩ লাখ টাকার গরু রয়েছে।

তবে গত বছরের তুলনায় এবছর দেশীয় খামারের গরু আমদানি বেশি।গরু ব্যবসায়ী মনির হোসেন কাজী , জানায় প্রতিটি বাজারে খাজনা দিতে হয়।এ বাজারে কোন কোন খাজনা দিতে হয় না। শুধু মাত্র বিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহফিলে গরু প্রতি দুইশ টাকা ফি দিয়ে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিরন বসু বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য ক্যাম্পাসের বাহিরে বিদ্যালয় যায়গায় ও এলাকাবাসীর জমিতে গরুর হাট বসানো হয়েছে।কোরবানি উপলক্ষে প্রতিবছর এই হাট বসে।প্রতিটি বিক্রি হওয়া গরু থেকে আমরা ২০০ টাকা করে নেই।ওই টাকা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সাধারণ গরীব মেধামী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যায় হয়।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:২২