১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | ভোর ৫:২৯

সরিষাবাড়ীতে খড়ের স্তুপ থেকে ২৬ বস্তা ভিজিএফ চাল উদ্ধার

 

জাকারিয়া জাহাঙ্গীর,সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ইউপি চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে ঈদুল আযহা উপলক্ষে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।সরেজমিনে ঘুরে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেই এ চিত্র দেখা গেছে।শনিবার মধ্যরাতে সাতপোয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়ি গ্রামের খড়ের স্তুপ থেকে কালোবাজারে বিক্রি হওয়া ২৬ বস্তা ভিজিএফ চাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন।

এ ঘটনায় দরিদ্রদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।স্থানীয় সুত্র জানায়, সাতপোয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফ চাল কালোবাজারে বিক্রি হয়েছে মর্মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মোহাব্বত কবির শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হেলেঞ্চাবাড়ি মোড়ে অভিযান চালান।

এ সময় ব্যবসায়ী কাবিল উদ্দিনের বাড়ি সংলগ্ন খড়ের পালা (স্তুপ) থেকে ২৬ বস্তা ভিজিএফ চাল পাওয়া যায়।পরে প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে মোট এক মে. টন ৩০০ কেজি চাল পুলিশ উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী থানা হেফাজতে রেখে দেয়।

উপজেলা পিআইও অফিস সুত্র জানায়, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৮টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ২৮৪ জন হতদরিদ্রের জন্য মাথাপিছু ২০ কেজি করে সর্বমোট ৪০৫.৬৮ মে. টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয় সরকার।অভিযোগ রয়েছে, একজন সরকারি (ট্যাগ) অফিসারের উপস্থিতিতে প্রতিটি ইউনিয়নে সরাসরি দরিদ্রদের হাতে চাল বিতরণের নিয়ম থাকলেও তা না করে ইউপি চেয়ারম্যানরা শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন।তাঁরা ভিজিএফ কার্ডগুলো স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের কাছে কালোবাজারে বিক্রি দেন।পরে কালোবাজারীরা নিজেদের লোকজন লাইনে দাঁড় করিয়ে চাল উত্তোলন করে দোকানে তুলে বিক্রি করছে।

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে সাতপোয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, চেয়ারম্যানরা কালোবাজারীর সাথে জড়িত না, পরিষদের সামনে কারা চাল ক্রয়-বিক্রয় করে বলতে পারবো না। উদ্ধারকৃত চালের বিষয়েও কিছু জানি না।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, ‘কালোবাজারী নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন চেষ্টা করে যাচ্ছে। উদ্ধারকৃত ভিজিএফ চালের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া চালগুলো এতিমখানায় বিতরণ করা হবে।’

সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ মোহাব্বত কবির জানান,‘ভিজিএফ চালগুলো কে বা কারা খড়ের স্তুপে রেখেছিল তা এখনো জানা যায়নি। তবে সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। চালগুলো আপাততঃ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।’

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৯শে আগস্ট, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:৪৬