১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩০শে কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | দুপুর ২:৫৮

ফেনীতে ঘুম নেই কামার পাড়ায়

 

আবদুল্লাহ রিয়েল,ফেনী : ঘুম নেই কামার পাড়ায়।টুং-টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকায়।দীর্ঘ সময় জিমিয়ে থাকা কামার পল্লীর মানুষ এখন কর্মচঞ্চল।দম ফেলানোর ফুসরত নেই তাদের।সারা বছরের অন্ন সংস্থানের তীব্র প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত তারা।পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফেনীতে কামারদের ব্যস্ত সময় কাটছে। দিনরাত কোরবানীর পশুর জবাই ও কাটার বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি ও সান দিতেই দেখা যায়।

কামারশালার টুং-টাং শব্দে পুরো কামার পল¬ীতে উদ্দিপ্ত মুর্ছনার সৃষ্টি হয়।জেলার কয়েক’শ কামার পরিবার এ সময়টার জন্যই দিনগুনে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শহরের তাকিয়া বাজার, রেলগেট এলাকা, কাসেমপুর, পাঁচগাছিয়া, সদর উপজেলার লস্করহাট, দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনিয়া ও সোনাগাজী উপজেলার শহরের প্রায় প্রতিটি কামার শালায় কামাররা বিরতিহীনভাবে কাজ করছেন। ছালনাইয়, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা শহর ছাড়াও গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কামারদের কাজের কমতি নেই।ঈদ উপলক্ষ্যে মুসলমানরা কোরবানীর পশু জবাইয়ের জন্য চোরা, দা, বটিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী লোনা পানিতে সান দেয়া এবং নতুন কিছু কেনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সে লক্ষে কামাররা ও কোরবান আসলে পুরো বছরের অর্থ পুষিয়ে নেন।

ফেনী তাকিয়া বাজারের এক কামারশালার মালিক জানান, কামারদের কোন সংগঠন না থাকায় দাম পাচ্ছেন না তারা। কাজেরও নেই নির্দিষ্ট কোন রেট। ফলে কঠোর পরিশ্রম করেও ক্রেতাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক মূল্য পাচ্ছেন না তারা।ফলে জেলার কয়েক শ’ কামার পরিবার মনবেতর জীবন যাপন করছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনাগাজী উপজেলার আরেক কামারশালার মালিক অভিযোগ করেন, ঈদের জন্য সাধারণ মানুষ চোরা, দা, বটির তৈরীর পাশাপাশি জোরপূর্বক স্থানীয় সন্ত্রাসীরা বড় বড় চোরা তৈরি করে নিয়ে যায় অবৈধ কাজে ব্যবহারের জন্য।সোনাগাজী কামারশালার কিরণ কর্মকার (৬৫) জানান, তিনি দীর্ঘ ৫০ বছর কাজ করে তার জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তার পরিবারের সদস্যরাও উক্ত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এবার কত আয় হবে বলে জিজ্ঞস করলে তিনি জানান, শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকলে অন্তত লাখ খানেক টাকা আয় হবে।

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৮ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/বিকাল ৫:১৭