১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৩রা অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:১৯

চৌগাছায় জামায়াত বিএনপির সহস্রাধিক নেতা-কর্মীর দিন কাটছে কোর্টের বারান্দায়

 

এম এ রহিম,চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা : যশোরের চৌগাছায় জামায়াত-বিএনপির সহস্রাধিক নেতা কর্মীর দিন কাটছে কোর্টের বারান্দায়। কারণ তাদের বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধশতাধিক কথিত নাশকতার মামলা রয়েছে। নেতাকর্মীরা এ সমস্ত মামলায় জামিনে থাকলেও আদালতে তাদেরকে প্রতি মাসেই কোন না কোন মামলায় হাজিরা দিতে হচ্ছে।দলীয় সূত্রে জানাযায়, এ উপজেলায় কথিত নাশকতার প্রথম মামলা হয় ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর। এ দিন উপজেলার দক্ষিণ কয়ারপাড়া গ্রামের জামে মসজিদে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নাশকতার উদ্যেশ্যে গোপন বৈঠক করছিল দাবী পুলিশের।

এ মামলার আসামীরা হলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও হাকিমপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ আমিন উদ্দিন খান, সেক্রেটারী চৌগাছা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও উত্তর কয়ারপাড়া জামে মসজিদের খতিব মাও. গোলাম মোরশেদ, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র ও চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদ, মাষ্টার ইউনুচ আলী, হাজরাখানা পীর বলুহ দেওয়ান দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাও: আব্দুল খালেক, পাশাপোল ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান ও ধুলিয়ানী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রবীন ধর্মীয় শিক্ষক মাও: আবু সাঈদ এবং আর পিইউ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক জহুরুল আলমসহ ২৭ জন।

২০১৩ সালের ৮ মার্চ শহরের ভাস্কর্য্যরে মোড়ে বোমা বিস্ফোরণের অভিযেগে জগদিশপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুর রহমান, মাও: লিয়াকত আলী, মাও: নুরুজ্জামান, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি সালাউদ্দিন, আবু বকর সিদ্দিক, মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মন্টুসহ ১৬ জনকে আসামী করে মামলা করেন পুলিশ।একই বছরের ১৯ মার্চ উপজেলা পরিষদের গেটের সামনে ভাংচুর ও বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার, বিএনপি নেতা ও পাতিবিলা ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান লাল, জামায়াত নেতা মাস্টার ইমদাদুল হক, মাও: গিয়াস উদ্দিন, আহসান হাবিব, তুহিনুর রহমান সহ ২৫ জন নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করা হয়।

এ বছর ১০ ডিসেম্বর চৌগাছা যশোর সড়কের গাছ চুরির মিথ্যা অভিযোগে জামায়াত নেতা মাষ্টার কামাল আহমেদ, কাউন্সিলর আব্দুর রহমান, সরোয়ার হুসাইনসহ ১২ নেতাকর্মীর নামে আরো একটি মামলা হয়।২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে উপজেলার কোমরপুর ভোটকেন্দ্রে হামলার কল্পিত অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম, সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান এমএ সালাম, সাধারণ স¤পাদক সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার, হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, তার পিতা আব্দুস শুকুর, পৌর কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম, বিএম আজিম উদ্দিন, আব্দুল হালিম চঞ্চল, উপজেলা জামায়াতের তৎকালিন আমীর মাও: গোলাম মোরশেদ, মাস্টার কামাল আহমেদ, মাও: আবু সাঈদসহ জামায়াত-বিএনপির ৫৬ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়।

আসামীদের মধ্যে জহুরুল ইসলাম উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এবং মাও: গোলাম মোরশেদ ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন বলেই ষড়যন্ত্রমুলকভাবে তাদেরকে আসামী করা হয়। ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমানকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, জামায়াত নেতা মাও: গিয়াস উদ্দিন, পৌর কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম, মৃধাপাড়া মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোফাজ্জেল হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন ও উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ওয়াসিমসহ জামায়াত-বিএনপির ২৭ নেতাকর্মীর নামে আরো একটি মিথ্যা মামলা করা হয়।

২৫ ফেব্রুয়ারী উপজেলার পাশাপোল বাজারে কল্পিত বোমা হামলার অভিযোগে পাশাপোল ইউপি তৎকালিন চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মাও: আব্দুল কাদের, মাও: শাহআলমসহ পাঁচ নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারী আড়কান্দি গ্রামে বোমা হামলার অভিযোগে চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ, জামায়াত নেতা রোকনুজ্জামান, আবু জ্বার, মাও: রওশন আলী, আবু বকর সিদ্দিক ও মফিজুর রহমানসহ জামায়াত-বিএনপির ৫০ জন নেতাকর্মীর নামে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারী পাতিবিলা ইউপি ভবনে বোমা হামলার কথিত অভিযোগে বিএনপি নেতা রফি উদ্দিন ও জামায়াত নেতা রুহুল আমিনসহ ১৪ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।৩ মার্চ হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান, তার স্ত্রী নিলুফা বেগম, পিতা আব্দুস শুকুর মালিতা, বিএনপি নেতা আব্দুল হালিম চঞ্চল, যুবদল নেতা সোহরাব হোসেন, জামিনুর রহমান, মাও: সামাদুল ইসলামসহ ৫২ জন বিএনপি জামায়াতের নেতাকর্মিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

১৬ মার্চ আবারো বোমা হামলার মিথ্যা অভিযোগে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় হাকিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসানসহ ১৩ জনকে আসামী করা হয়। ২০১৪ সালের ১৫ জুন চৌগাছা খাদ্য গুদামের নিকট বোমা হামলার অভিযোগে চৌগাছা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র কামাল আহমেদ, ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রহমান ও শ্রমিক নেতা আহসান হাবিব, মাও: আনোয়ার হুসাইন ও হাবিবুর রহমানসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০১৪ সালে ২৯ ডিসেম্বর চৌগাছা পল্লীবিদ্যুৎ সাবস্টেশন এলাকায় নাশকতা করার অভিযোগে চৌগাছা কামিল মাদ্রাসা জামে মসজিদের খতিব বিশিষ্ট আলেম মাও: আলি আকবর, মাস্টার শহিদুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল হামিদ, ছাত্রদল নেতা সালাউদ্দিন, আবু বকর সিদ্দিক, আব্দুর রশিদ উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ আমিন উদ্দিন খান, জামায়াত নেতা মাও: হাবিবুর রহমান, মাও: লিয়াকত আলী, ড. মাহবুবুর রহমান, মাস্টার এনামুল হক, সরোয়ার হুসাইনসহ ৪৬ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়।

২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারী সিংহঝুলি ইউপি ভবনে বোমা হামলার কল্পিত অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাধারন স¤পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুচ আলী দফাদার ,তার পুত্র আবুবকর সিদ্দিক, ভাইপো সংবাদকর্মী পরাগ, মেম্বর শুকর আলী সহ বিএনপি জামায়াতের ২৫ জন নেতাকর্মিকে আসামী করা হয়। এ বছর ২৯ অক্টোবর শহরের লোহার ব্রিজের কাছে বোমা হামলার অভিযোগে চৌগাছা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ ও মাদ্রাসার ছাত্রসহ ১৩ জনকে আসামী করা হয়। ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর জামায়াত নেতা মাস্টার কামাল আহমেদসহ ১২ নেতাকর্মির নামে আরো একটি নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল উপজেলা চুটারহুদা গ্রামে নাশকতার মিথ্যা অভিযোগে ২১ জন পর্দানশীল ও ধর্মপরায়ন মহিলাকে আসামী করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৮ সালের ১ জুন উপজেলা সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামে কাল্পনিক নাশকতার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম, সাবেক পৌর মেয়র সেলিম রেজা আওলিয়ারসহ ২৬ জন বিএনপি নেতাকর্মিকে আসামী করে মামলা করা হয়।

সুত্রে প্রকাশ, মামলা সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধীক তাই বেশির ভাগ নেতাকর্মিদের প্রায় সারা বছর আদালতের বারান্দায় কাটাতে হয়।এসব মামলায় আসামীর সংখ্যা সহস্রাধিক।তবে উপজেলা বিএনপির সাধারন স¤পাদক ইউনুচ আলী দফাদার, বিএনপি নেতা মাসুদুল হাসান, জামায়াতের আমীর হাফেজ আমিন উদ্দিন খান, নায়েবে আমীর মাও: গোলাম মোরশেদ, সেক্রেটারী মাও: আব্দুল কাদের, সহকারী সেক্রেটারী মাস্টার কামাল আহমেদ, শ্রমিক নেতা আহসান হাবিবসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেড় ডর্জন করে মামলা রয়েছে। আর এসব মামলার আসামীদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, শিক্ষক, বৃদ্ধ, যুবক, ছাত্র, ভ্যান-রিকশা চালক এবং গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। পুলিশ এ সমস্ত মামলায় কেবল হয়রানি করার জন্যই জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সাথেই জড়িত না এমন অনেককেও আসামী করেছেন

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো শতভাগ মিথ্যা। এ সমস্ত মামলাগুলো পুলিশের কল্পনিক।উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মাও: গোলাম মোরশেদ এসব মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে বলেন, পুলিশ মসজিদের খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, ছাত্র ও ধর্মপরায়ন মহিলাদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।এসব মামলার কোন ভিত্তি নেই।

 

 

 

 

 

কিউএনবি/সাজু/১৮ই আগস্ট, ২০১৮ ইং/বিকাল ৪:৪৬